পশু থেকে মানুষ: পশ্চিমবঙ্গে নিপা ভাইরাসে সতর্কতার ঘণ্টা বাজল! কী লক্ষণ দেখলে সাবধান হবেন, সংক্রমণ এড়াবেন কীভাবে?

পশ্চিমবঙ্গে নিপা ভাইরাসে সতর্কতার ঘণ্টা বাজল!! পশ্চিমবঙ্গে ফের নিপা ভাইরাস নিয়ে সতর্কবার্তা। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের দুটি নার্সকে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকরা নিশ্চিত নন,…

January 19, 2026
1 min read

পশ্চিমবঙ্গে নিপা ভাইরাসে সতর্কতার ঘণ্টা বাজল!!

পশ্চিমবঙ্গে ফের নিপা ভাইরাস নিয়ে সতর্কবার্তা। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের দুটি নার্সকে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকরা নিশ্চিত নন, তাই নমুনা পাঠানো হয়েছে পুণের ল্যাবরেটরিতে। হাসপাতাল সূত্রের খবর, তাদের অবস্থা সংকটজনক, ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে।

নিপা ভাইরাস কী এবং কীভাবে ছড়ায়?

বিজ্ঞানীরা নিপা ভাইরাসকে ‘জুনটিক ভাইরাস’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। অর্থাৎ এটি প্রাণীর শরীর থেকে মানুষে ছড়ায়। প্রধান উৎস হলো বাদুড়। বাদুড়ের অর্ধখাওয়া ফল যদি অন্যান্য ফলের সঙ্গে মিশে থাকে, সেখান থেকেও সংক্রমণ ঘটতে পারে। এছাড়া আক্রান্ত পশুদের দেহাংশ, মল-মূত্র বা ব্যবহার করা জিনিসপত্র থেকেও এই ভাইরাস ছড়াতে সক্ষম।

নিপা ভাইরাসে সাধারণ ভাইরাল জ্বরের মতো উপসর্গ দেখা দিলেও মৃত্যুহার অত্যন্ত বেশি—৫০ থেকে ৬০ শতাংশ। তাই দ্রুত রোগ সনাক্তকরণ অত্যন্ত জরুরি।

কী লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক হবেন?

সংক্রমণের ৩–১৪ দিনের মধ্যে উপসর্গ দেখা দিতে পারে। প্রথমে জ্বর, মাথাব্যথা, পেশি ব্যথা বা বমি ভাব—এগুলো অনেক সময় সাধারণ ফ্লু বা ভাইরাল ফিভারের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু যদি রোগী বিভ্রান্ত হয়ে যায়, ভুলে কাউকে চিনতে না পারে, বা আচরণে পরিবর্তন আসে—সেটা নিপার ভয়ংকর লক্ষণ।

ডঃ শুভম সাহা বলেন, “নিপা খুব দ্রুত ছড়ায়। ৫–৬ দিনের মধ্যে কোমায় চলে যেতে পারে। ফুসফুসে সংক্রমণ হলে মৃত্যুও ঘটতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে বোঝা যায় না, তাই সন্দেহ হলেই দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।”

রোগ নির্ণয়

সাধারণ পরীক্ষায় নিপার সংক্রমণ ধরা পড়ে না। এটি চিহ্নিত করতে হয় বায়ো-সেফটি লেভেল-থ্রি ল্যাবরেটরিতে। থুতু, লালা, মূত্র বা সেরিব্রাল স্পাইনাল ফ্লুইড থেকে পরীক্ষা করা হয়।

সতর্ক থাকার উপায়

ডঃ সাহা পরামর্শ দেন:

  • বাজার থেকে ফল কিনতে হলে ভালো করে দেখুন, মাঠে পড়ে থাকা ফল না খাওয়া ভালো।
  • মাংস ভালোভাবে রান্না করুন; যথেষ্ট তাপে জীবাণু মারা যায়।
  • হাত–মুখ ধোয়া, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
  • রোগ প্রবণ এলাকায় ফল খাওয়া, অসুস্থ পশুর কাছাকাছি যাওয়া এড়ান।
  • রাস্তাঘাটে বা রোগ প্রবণ এলাকায় বের হলে এন৯৫ মাস্ক ব্যবহার করুন।
  • রোগীকে আলাদা করে রাখুন, সেবার সময় মাস্ক ও হাত ধোয়ার দিকে বেশি সতর্ক থাকুন।

প্রতিরোধই সবচেয়ে বড় হাতিয়ার

যেখানে রোগ ছড়ায়নি, সেখানে সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললেই সংক্রমণ কমানো সম্ভব। যেখানে সংক্রমণ আছে, সেখানে আরও কড়াকড়ি দরকার। জেনোভার প্রতিষেধক বাজারে এলে বিপুল প্রাণ বাঁচবে, তবে তার আগে আমাদের সচেতন থাকা ছাড়া উপায় নেই।

নিপা ভাইরাস ভয়ঙ্কর, কিন্তু সচেতনতা ও সময়মতো ব্যবস্থা নিলে বিপদ এড়ানো সম্ভব। তাই হঠাৎ আতঙ্কিত হওয়ার আগে সঠিক তথ্য ও সতর্কতা মেনে চলাই প্রথম পদক্ষেপ।

‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *