পকেটে ৩৫ টাকা, মনে অদম্য জেদ: টেবিল মোছা থেকে কোটি টাকার সাম্রাজ্য গড়া নারায়ণ পূজারীর গল্প

কোটি টাকার সাম্রাজ্য গড়া নারায়ণ পূজারীর গল্প! সংসারের হাল ছিল নুন আনতে পান্তা ফুরোনোর মতো। ছোটবেলা থেকেই অর্থকষ্ট কী, তা হাড়ে হাড়ে বুঝেছিলেন নারায়ণ পূজারী। কর্নাটকের উদিপি জেলার এক ছোট…

February 2, 2026
1 min read

কোটি টাকার সাম্রাজ্য গড়া নারায়ণ পূজারীর গল্প!

সংসারের হাল ছিল নুন আনতে পান্তা ফুরোনোর মতো। ছোটবেলা থেকেই অর্থকষ্ট কী, তা হাড়ে হাড়ে বুঝেছিলেন নারায়ণ পূজারী। কর্নাটকের উদিপি জেলার এক ছোট গ্রামে জন্ম তাঁর। পড়াশোনা বেশি দূর এগোয়নি—বরং অল্প বয়সেই পরিবারের দায়িত্ব এসে পড়েছিল কাঁধে। তখনই স্বপ্ন দেখেছিলেন, এক দিন নিজের পায়ে দাঁড়াবেন। সেই স্বপ্ন বুকে নিয়েই ঘর ছেড়েছিলেন নারায়ণ।

স্কুলের পড়াশোনা মাঝপথে ছেড়ে ‘স্বপ্নের শহর’ মুম্বইয়ে পাড়ি দিয়েছিলেন তিনি। ভাবনা ছিল, বড় শহরে রোজগারের সুযোগ নিশ্চয়ই মিলবে। কিন্তু বাস্তব যে কতটা কঠিন, তা বুঝতে সময় লাগেনি। বাড়ি ছাড়ার সময় পকেটে ছিল মাত্র ৩৫ টাকা। ওই সামান্য টাকায় দিন কাটানো অসম্ভব। উপায় না দেখে রাস্তার ধারের এক হোটেলে টেবিল মোছার কাজ শুরু করেন নারায়ণ।

টেবিল মোছা, বাসন মাজা—ধীরে ধীরে খাবার পরিবেশন করার কাজও শিখে নেন তিনি। রোজগারের রাস্তা খুললেও একটা চিন্তা তাঁকে তাড়া করত। শিক্ষাগত যোগ্যতা কম থাকায় দীর্ঘদিন এই কাজেই আটকে যেতে হবে না তো? সেই ভয়ই তাঁকে নতুন করে ভাবতে শেখায়। হোটেলের কাজের পাশাপাশি একটি স্কুলে ভর্তি হন নারায়ণ। দিনে কাজ, রাতে পড়াশোনা—এই কঠিন রুটিনেই চলতে থাকে তাঁর জীবন।

মুম্বইয়ে থাকার সময় পণ্যবাহী জাহাজের কর্মীদের সঙ্গে আলাপ হয় নারায়ণের। তাঁদের মুখে বাইরের দুনিয়ার গল্প শুনে কৌতূহল বাড়তে থাকে। নিজের কিছু করার খিদেটাও তীব্র হয়। অবশেষে সাহস করে হোটেলের চাকরি ছেড়ে দেন তিনি। মুম্বইয়ের এক ব্যস্ত এলাকায় ছোট্ট একটি আইসক্রিমের দোকান খোলেন। দোকানে কর্মী বলতে একমাত্র তিনি নিজেই। তবু প্রতিদিনের বিক্রি দেখে বুঝতে পারেন—পথটা ঠিক দিকেই এগোচ্ছে।

এক দিন দোকানে আইসক্রিম খেতে খেতে এক ক্রেতা পরামর্শ দেন, আইসক্রিমের সঙ্গে পাও ভাজি বিক্রি করলে কেমন হয়! কথাটা নারায়ণের মনে গেঁথে যায়। খুব বেশি ভাবনা না করেই আইসক্রিমের পাশাপাশি পাও ভাজি বিক্রি শুরু করেন তিনি। ফল মিলল হাতেনাতে। রাতারাতি বেড়ে গেল বিক্রি, বাড়ল ক্রেতার ভিড়।

এর পর আর পিছনে তাকাতে হয়নি। পাও ভাজির সঙ্গে যোগ হল পিৎজ়া ও নানা ধরনের মুখরোচক খাবার। ছোট দোকান ধীরে ধীরে বড় রেস্তরাঁয় রূপ নেয়। মুম্বইয়ের এক জায়গায় নয়, শহরের নানা প্রান্তে একই নামে রেস্তরাঁ খুলতে থাকেন নারায়ণ। ক্রেতাদের একাংশের মতে, তাঁর রেস্তরাঁর পাও ভাজির স্বাদ একবার খেলে ভুলে থাকা মুশকিল। পরে দক্ষিণী খাবারকেও ব্যবসার বড় অংশ করে তোলেন তিনি।

মুম্বইয়ের গণ্ডি পেরিয়ে পুণে ও অহমদাবাদেও ছড়িয়ে পড়ে নারায়ণের রেস্তরাঁ। আজ তাঁর রেস্তরাঁ জনপ্রিয় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি তারকাদের কাছেও। এক কালে যিনি পকেটে ৩৫ টাকা নিয়ে শহরে এসেছিলেন, আজ তিনি সফল উদ্যোক্তা। সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, রেস্তরাঁ ব্যবসা থেকেই বছরে প্রায় ৭৫ কোটি টাকা আয় করেন নারায়ণ। পাশাপাশি আতিথেয়তা পরিষেবার একটি সংস্থাও গড়ে তুলেছেন তিনি।

নারায়ণ পূজারীর গল্প শুধু সাফল্যের নয়—এই গল্প পরিশ্রম, সাহস আর সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার। প্রমাণ করে, স্বপ্ন দেখতে টাকার দরকার হয় না, দরকার হয় অদম্য ইচ্ছাশক্তি।

‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *