“নো অ্যাডেড সুগার” লেখা দেখে খাবার কিনছেন?
আজকাল সুস্থ থাকার জন্য আমরা যত্ন নিয়ে খাবার বেছে নিই। বাজারে প্যাকেটজাত খাবারে ‘নো অ্যাডেড সুগার’, ‘সুগার ফ্রি’ এর মতো শব্দ দেখে অনেকে মনে করেন সেটাই সম্পূর্ণ চিনি-মুক্ত বা স্বাস্থ্যকর। কিন্তু আসল কথা অনেক সময় আমরা বুঝতে পারি না, এই লেবেলগুলোর পিছনে আসলে কী লুকিয়ে আছে। ভুল বুঝে খাবার কেনা আপনার ডায়েটে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তাই চলুন জানি, ‘নো অ্যাডেড সুগার’ বা ‘সুগার ফ্রি’ অর্থে আসলে কী বোঝায় এবং কী কী সাবধানতা নেওয়া দরকার।
‘সুগার ফ্রি’ আর ‘নো অ্যাডেড সুগার’ – পার্থক্য জানেন?
অনেক সময় ‘সুগার ফ্রি’ এবং ‘নো অ্যাডেড সুগার’—এই দুই শব্দকে একই অর্থেই নেওয়া হয়, যা ঠিক নয়। ‘সুগার ফ্রি’ মানে ওই পণ্যে খুবই কম বা প্রায় শূন্য পরিমাণ চিনি থাকে। উদাহরণস্বরূপ, অনেক ব্রেকফাস্ট সিরিয়াল বা কর্নফ্লেক্সে এক চামচে ০.৫ গ্রাম বা তার কম চিনি থাকে।
অন্যদিকে ‘নো অ্যাডেড সুগার’ মানে ওই খাবারে অতিরিক্ত কোনো চিনি যোগ করা হয়নি। তবে খাবারে থাকা প্রাকৃতিক শর্করার পরিমাণ এখানে থাকতে পারে, যেমন ফল বা দুগ্ধজাত খাবারে থাকে। অর্থাৎ, কোনো ফলের রসে ‘নো অ্যাডেড সুগার’ থাকলেও সেখানে যথেষ্ট প্রাকৃতিক চিনির পরিমাণ থাকতে পারে, যা শরীরের জন্য অতিরিক্ত হলে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
‘নো অ্যাডেড সুগার’ মানেই নিরাপদ নয়!
অনেকে ভাবেন ‘নো অ্যাডেড সুগার’ মানে পুরোপুরি চিনিমুক্ত, যা ভুল। এই ধরনের খাবারে উচ্চ মাত্রায় প্রাকৃতিক শর্করা থাকতে পারে, যা বেশি খেলে পেটের সমস্যা বা রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার মতো জটিলতা হতে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, হার্টের রোগ বা কিডনির সমস্যা যাঁদের আছে, তাদের জন্য ‘নো অ্যাডেড সুগার’ থাকা খাবারও সাবধানতার সঙ্গে খাওয়া উচিত।
কীভাবে লেবেল থেকে চিনির পরিমাণ বুঝবেন?
খাবার কেনার সময় প্যাকেটের পেছনে থাকা ‘ফুড লেবেল’ খুব গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে ‘টোটাল সুগার’ বা মোট চিনি কত, সেটাই দেখতে হবে। এতে আপনি জানতে পারবেন খাবারে মোট কতটা চিনি আছে, এবং সেটির কতটুকু প্রাকৃতিক বা অতিরিক্ত যোগ করা। ফল, ফলের রস, সিরাপ, মিষ্টি জাতীয় খাবারে মোট চিনি বেশি থাকে, যা প্রাকৃতিক কিংবা যুক্ত হোক, খাওয়ার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।
কেন সচেতন হওয়া জরুরি?
সুস্থ থাকার জন্য চিনি নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। অনেকে ‘নো অ্যাডেড সুগার’ দেখে খাবার বেশি পরিমাণে খান, কিন্তু দেহের জন্য তা খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। চিনি শরীরের ওজন বাড়ায়, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই খাবারের প্যাকেটের লেবেল ভালো করে দেখা, চিনি নিয়ন্ত্রণে রাখা খুব দরকার।
শেষ কথা
‘নো অ্যাডেড সুগার’ কিংবা ‘সুগার ফ্রি’ লেখা দেখে বিভ্রান্ত না হয়ে, খাদ্যের লেবেল ভালো করে বুঝে নেওয়া জরুরি। প্রত্যেকের শরীর আলাদা, তাই নিজের ডায়েট অনুযায়ী চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা সবচেয়ে ভালো। প্যাকেটজাত খাবার কেনার আগে একটু সময় নিন, লেবেল খুঁটিয়ে পড়ুন, সুস্থ থাকুন সচেতন থেকে।
কবিতা না কি যুদ্ধ? নুসরতের রহস্যঘেরা পোস্টে কি সম্পর্ক পুনর্মিলনের ইঙ্গিত?