সোনা–রুপোর বাইরে এক টেকসই বিনিয়োগের গল্প!
সময় বদলাচ্ছে দ্রুত। সঙ্গে বদলাচ্ছে মানুষের রুচি, চাহিদা আর বিলাসিতার সংজ্ঞাও। এক সময় যেখানে ঝলমলে সোনা বা চোখধাঁধানো হিরেই ছিল আভিজাত্যের মাপকাঠি, আজ সেখানে জায়গা করে নিচ্ছে আরও সংযত, আরও টেকসই এক ধাতু— প্ল্যাটিনাম। চুপচাপ, নিরুচ্চার এই ধাতু যুগের পর যুগ ধরে নীরব বিলাসিতার সঙ্গী হয়ে থেকেছে। প্রশ্ন শুধু একটাই— উপহার কিংবা বিনিয়োগের তালিকায় সোনা-রুপোর পাশে প্ল্যাটিনামের নাম থাকবে না কেন?
প্রথম দর্শনে প্ল্যাটিনাম খুব একটা নজর কাড়ে না। এতে সোনার মতো উজ্জ্বল আভা নেই, হিরের মতো ঝিলিকও নয়। কিন্তু এই ধাতুর আসল সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে তার স্থায়িত্ব, বিশুদ্ধতা আর দৃঢ় উপস্থিতিতে। পৃথিবীর ভূগর্ভে প্ল্যাটিনাম মেলে অতি অল্প পরিমাণে। সোনার তুলনায় এর খনি কম, উত্তোলন কঠিন, পরিশোধন আরও জটিল। একটি ছোট্ট প্ল্যাটিনামের গয়না বানাতে যে পরিমাণ মাটি খুঁড়তে হয়, যে সময় ও প্রযুক্তির প্রয়োজন— তার মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে এর প্রকৃত মূল্য। তাই প্ল্যাটিনামের দাম শুধু বাজারদরের হিসাব নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিরলতা আর শ্রমের গল্প।
উপহার হিসেবে প্ল্যাটিনাম কেন বিশেষ? তার প্রথম কারণ, এই ধাতুর ঘনত্ব। একই মাপের গয়নায় প্ল্যাটিনাম সোনার তুলনায় ভারী হয়, কারণ এতে খাঁটি ধাতুর পরিমাণ বেশি। সাধারণত প্ল্যাটিনামের গয়নায় খুব উচ্চমাত্রার বিশুদ্ধতা বজায় রাখা হয়, ফলে ভেজাল বা মিশ্র ধাতুর ঝুঁকি কম। এর ফলেই ত্বকের জন্য প্ল্যাটিনাম অত্যন্ত নিরাপদ— যাঁদের ত্বক সংবেদনশীল, তাঁদের কাছেও এটি আদর্শ।
দ্বিতীয়ত, সময় প্ল্যাটিনামের শত্রু নয়। বছর কেটে গেলেও এর রং বদলায় না, জৌলুস কমে না, ক্ষয় হয় না। ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে শুধু স্মৃতির আস্তরণ জমে। তাই বাগ্দানের আংটি হোক বা দৈনন্দিন ব্যবহারের চেন— ন্যূনতম যত্নেই দীর্ঘদিন ঝকঝকে থাকে প্ল্যাটিনাম।
নকশার দিক থেকেও এই ধাতু ভীষণ বহুমুখী। আংটি, হার, কানের দুল, ঘড়ি, কাফলিঙ্ক, ব্যান্ড— সবেতেই প্ল্যাটিনামের গ্রহণযোগ্যতা বিশ্বজুড়ে। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে, সব লিঙ্গপরিচয়ের মানুষের কাছেই এই ধাতু সমানভাবে জনপ্রিয়। উপরন্তু, হিরে বা মূল্যবান পাথর বসানোর ক্ষেত্রে প্ল্যাটিনাম সবচেয়ে নিরাপদ ধারক— পাথর সরে যাওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কম।
আজকের দিনে অনেকেই বাহুল্যবর্জিত, সংযত সাজে বিশ্বাসী। যেখানে গয়না নজর কাড়বে না, বরং ব্যক্তিত্বকে আরও স্পষ্ট করবে। এই বদলে যাওয়া রুচির সঙ্গে অনায়াসে মানিয়ে যায় প্ল্যাটিনাম।
বিনিয়োগের দিক থেকেও প্ল্যাটিনাম এখন নতুন করে আলোচনায়। সোনা ও রুপোর দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে অনেকেই বিকল্প ভাবছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্ল্যাটিনামের দামও ঊর্ধ্বমুখী। বর্তমানে ভারতে প্রতি গ্রাম প্ল্যাটিনামের দাম প্রায় ৭,১৭৮ থেকে ৭,৮৮৮ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। ধীরে, স্থির পায়ে এগোনো এই ধাতু ভবিষ্যতে বিনিয়োগকারীদের জন্যও হয়ে উঠতে পারে নির্ভরযোগ্য সঙ্গী।
ঝলমল নয়, কিন্তু গভীর। চিৎকার করে নয়, নীরবে— প্ল্যাটিনাম ঠিক এই ভাবেই নিজের জায়গা করে নেয়।
‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা