তারেকের সাফল্যের ছায়ায় কি ইরানের যুবরাজের নতুন স্বপ্ন?
দীর্ঘ নির্বাসনের পর দেশে ফিরে সরাসরি ক্ষমতার শীর্ষে— রাজনীতির ইতিহাসে এমন নাটকীয় প্রত্যাবর্তন খুব বেশি দেখা যায় না। সম্প্রতি তারেক রহমান-এর উত্থান সেই বিরল ঘটনাগুলোর এক নতুন উদাহরণ হয়ে উঠেছে। আর তাঁর এই প্রত্যাবর্তন ঘিরেই এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে উঠছে এক নতুন প্রশ্ন— একই পথ কি অনুসরণ করতে পারেন ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজ়া পাহলভি?
🇧🇩 নির্বাসন থেকে প্রধানমন্ত্রী
প্রায় ১৭ বছর বিদেশে কাটানোর পর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। দেশে ফেরার মাত্র দু’মাসের মধ্যেই নির্বাচনে বিপুল জয় পেয়ে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পদে বসেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের ঠিক আগে তাঁর দেশে ফেরা ছিল নির্বাচনের টার্নিং পয়েন্ট। মায়ের মৃত্যু, সহানুভূতির ঢেউ এবং দলের দীর্ঘদিনের নেতৃত্ব— সব মিলিয়ে পরিস্থিতি দ্রুত তাঁর পক্ষে ঘুরে যায়।
ফলে নির্বাসন থেকে সরাসরি ক্ষমতার কেন্দ্রে পৌঁছনোর এক বাস্তব উদাহরণ তৈরি হয়।
🇮🇷 একই স্বপ্ন কি ইরানেও?
এই ঘটনাই নতুন করে আলোচনায় এনেছে ইরানের নির্বাসিত রাজপুত্র রেজ়া পাহলভিকে। তিনি প্রায় চার দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।
সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তৃতা দিতে গিয়ে তিনি ইঙ্গিত দেন— ইরানে ফিরে গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তিতে নতুন রাজনৈতিক পরিবর্তন আনতে চান।
এই বক্তব্য ঘিরেই জল্পনা তুঙ্গে— তিনি কি সত্যিই দেশে ফিরে রাজনৈতিক ক্ষমতায় ফিরতে পারবেন?
⚖️ মিল যেমন আছে, তেমন পার্থক্যও
দুই নেতার জীবনে কিছু মিল রয়েছে—
- দু’জনই দীর্ঘ নির্বাসনে ছিলেন
- দু’জনই রাজনৈতিক পরিবার থেকে উঠে এসেছেন
- দু’জনেরই দেশে সমর্থক গোষ্ঠী রয়েছে
কিন্তু পার্থক্যও কম নয়।
তারেক রহমান নির্বাসনের আগেই সক্রিয় রাজনীতির অংশ ছিলেন। বিদেশে থাকলেও দল পরিচালনায় যুক্ত ছিলেন নিয়মিত।
অন্যদিকে, রেজ়া পাহলভি দেশ ছাড়েন কিশোর বয়সে। ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে তাঁর সরাসরি অভিজ্ঞতা সীমিত।
🪖 ক্ষমতার কাঠামো— সবচেয়ে বড় বাধা
সবচেয়ে বড় পার্থক্য রয়েছে রাষ্ট্রব্যবস্থায়।
বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক কাঠামো থাকায় রাজনৈতিক পরিবর্তন তুলনামূলকভাবে সহজ ছিল।
কিন্তু ইরানে ধর্মীয় নেতৃত্বের হাতে রয়েছে বিশাল ক্ষমতা, বিশেষ করে আধা-সামরিক বাহিনী। ফলে সেখানে রাজনৈতিক পরিবর্তন অনেক বেশি জটিল ও কঠিন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
📜 ইতিহাস কী বলে?
ইতিহাসে নির্বাসন থেকে ফিরে ক্ষমতায় আসার উদাহরণ অবশ্য আছে।
নেলসন ম্যান্ডেলা দীর্ঘ বন্দিজীবন কাটিয়ে রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন। আবার নেপোলিয়ন বোনাপার্ট নির্বাসন থেকে ফিরে অল্প সময়ের জন্য হলেও সিংহাসন পুনরুদ্ধার করেছিলেন।
তাই অসম্ভব নয়— কিন্তু পথ কখনওই সহজ নয়।
🔮 ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত
বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের সাফল্য একটি রাজনৈতিক নজির তৈরি করলেও ইরানের বাস্তবতা সম্পূর্ণ আলাদা।
তাই রেজ়া পাহলভি দেশে ফিরলেও তিনি আদৌ ক্ষমতায় ফিরতে পারবেন কি না— তা এখনও সম্পূর্ণ অনিশ্চিত।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট— নির্বাসনের গল্প কখনও কখনও ইতিহাস বদলে দিতে পারে। আর সেই সম্ভাবনাই এখন নতুন করে আলোচনায় বিশ্ব রাজনীতিতে।
প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই