পরিবর্তনের ডাক ঘিরে রাজ্যপাল বনাম মুখ্যমন্ত্রী!
পয়লা বৈশাখের শুভক্ষণে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক আবহ হঠাৎই উত্তপ্ত হয়ে উঠল। একদিকে রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পরিবর্তনের ডাক দিলেন রাজ্যপাল আর এন রবি, অন্যদিকে তাঁর মন্তব্যের পরোক্ষ জবাব দিতে পিছপা হলেন না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
লোক ভবনে আয়োজিত নববর্ষের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যপাল স্পষ্ট ভাষায় জানান, একসময় পশ্চিমবঙ্গ দেশের অন্যতম এগিয়ে থাকা রাজ্য ছিল— অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও বৌদ্ধিক পরিসরে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সেই উচ্চতা ধরে রাখতে পারেনি বলেই তাঁর দাবি। তিনি বিশেষভাবে তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে বলেন, “পরিবর্তন বাইরে থেকে আসবে না, আমাদেরই তা আনতে হবে।” তাঁর আহ্বান— ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে রাজ্যের গৌরব পুনরুদ্ধারে এগিয়ে আসুক যুবসমাজ।
রাজ্যপালের বক্তব্যে উঠে আসে পরিসংখ্যানও। তাঁর মতে, একসময় দেশের মোট জিডিপিতে পশ্চিমবঙ্গের অবদান ছিল ১০ শতাংশের বেশি, যা এখন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। মাথাপিছু আয় এবং শিল্পোন্নয়নের ক্ষেত্রেও রাজ্য পিছিয়ে পড়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এই অবস্থাকে ‘খারাপ’ বলে উল্লেখ করে তিনি পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন।
তবে এই মন্তব্য ভালোভাবে নেননি মুখ্যমন্ত্রী। ইসলামপুরের এক জনসভা থেকে নাম না করেই রাজ্যপালকে কটাক্ষ করেন তিনি। ‘লাটসাহেব’ শব্দটি ব্যবহার করে মমতা বলেন, নববর্ষের দিনে বাংলার মানুষকে শুভেচ্ছা জানানোর বদলে তাঁকে আক্রমণ করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি রাজ্যের হাতে নেই, বরং নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সংস্থার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, সম্প্রতি রাজ্যপাল পদে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই প্রথম বড় ধরনের মতবিরোধের ইঙ্গিত। যদিও দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম দিকে রাজ্য সরকার ও রাজ্যপালের মধ্যে সম্পর্ক মোটামুটি সৌহার্দ্যপূর্ণই ছিল। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী নিজে গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎও করেছিলেন।
কিন্তু নববর্ষের দিনেই এই বক্তব্য পাল্টা বক্তব্যের রাজনীতিতে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে— রাজভবন ও নবান্নের সম্পর্ক কোন দিকে যাচ্ছে? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধরনের মন্তব্য এবং তার পাল্টা প্রতিক্রিয়া ভবিষ্যতে আরও সংঘাতের ইঙ্গিত দিতে পারে।
সব মিলিয়ে, পয়লা বৈশাখের উৎসবের আবহের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে গেল— পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন এক বিতর্কের সূচনা হয়ে গেল। তরুণদের উদ্দেশে পরিবর্তনের ডাক যতটা তাৎপর্যপূর্ণ, তার রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?