‘দিদিকে বলো’ সফল, কিন্তু কেন ব্যর্থ হল ‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’? ভোটের পরে আত্মসমালোচনায় তৃণমূল

কিন্তু কেন ব্যর্থ হল ‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’? পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধাক্কা খাওয়ার পরে এখন আত্মসমালোচনায় ব্যস্ত তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশ। দলের ভিতরে অনেকেই মনে করছেন, সাধারণ মানুষের ক্ষোভ যদি সময়মতো…

May 23, 2026
1 min read

কিন্তু কেন ব্যর্থ হল ‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’?

পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধাক্কা খাওয়ার পরে এখন আত্মসমালোচনায় ব্যস্ত তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশ। দলের ভিতরে অনেকেই মনে করছেন, সাধারণ মানুষের ক্ষোভ যদি সময়মতো নেতৃত্বের কানে পৌঁছত, তা হলে ফল হয়তো এতটা খারাপ হত না। আর সেই জায়গাতেই প্রশ্ন উঠছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চালু করা ‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’ প্রকল্প নিয়ে।

২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে ধাক্কা খাওয়ার পরে ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের পরামর্শে চালু হয়েছিল ‘দিদিকে বলো’। সাধারণ মানুষ একটি নির্দিষ্ট হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারতেন। স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, দাদাগিরি, সরকারি পরিষেবা না পাওয়া— নানা সমস্যার সমাধানও মিলত দ্রুত। ফলে খুব কম সময়ের মধ্যেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এই উদ্যোগ। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের সাফল্যের পিছনে এই প্রকল্পেরও বড় ভূমিকা ছিল।

কিন্তু পরে পরিস্থিতি বদলায়। ২০২৩ সালে নতুন নামে ফের চালু হয় সেই প্রকল্প— ‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’। তবে এ বার দায়িত্বে ছিলেন সরকারি আধিকারিকেরা। আর এখানেই নাকি শুরু হয় সমস্যার।

দলের নেতাদের একাংশের অভিযোগ, মানুষ ফোন করলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কেউ ফোন ধরতেন না। আবার কখনও অভিযোগ নথিভুক্ত হলেও বাস্তবে কোনও সমাধান হত না। ফলে ধীরে ধীরে মানুষের হতাশা বাড়তে থাকে। অনেকেই বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন।

তৃণমূলের অন্দরের একাংশ এখন মনে করছে, স্থানীয় নেতা, তোলাবাজি, প্রোমোটিং, পানীয় জল, রাস্তা বা কৃষকদের সমস্যা নিয়ে অসংখ্য অভিযোগ এসেছিল। কিন্তু সেগুলির অনেকটাই গুরুত্ব পায়নি। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে সেই সব অভিযোগ শীর্ষ নেতৃত্বের কাছেই পৌঁছয়নি।

বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের আলু উৎপাদক অঞ্চলগুলিতে চাষিদের ক্ষোভকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলেই এখন মনে করছেন অনেকে। কৃষকদের অভিযোগ ছিল, সরকারের নীতির কারণে আলুর বাজারে বড় ক্ষতি হয়েছে। সেই অসন্তোষের প্রভাব ভোটবাক্সেও পড়েছে বলে দলের একাংশের মত।

এ ছাড়া কিছু জেলায় স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ জমা পড়লেও কোনও পদক্ষেপ হয়নি বলেও দাবি উঠেছে। তৃণমূলের অনেক নেতার মতে, ‘দিদিকে বলো’-র সময় যেভাবে দ্রুত সাড়া দেওয়া হত, ‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’-তে সেই সক্রিয়তা দেখা যায়নি।

তবে প্রকাশ্যে প্রকল্পের ব্যর্থতা মানতে নারাজ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। তৃণমূল বিধায়ক Sovandeb Chattopadhyay দাবি করেছেন, বহু মানুষ এই প্রকল্পের মাধ্যমে উপকৃত হয়েছেন। তাঁর মতে, এ বারের ভোটের ফল শুধুমাত্র এই প্রকল্পের ব্যর্থতার জন্য হয়নি, এর পিছনে ধর্মীয় মেরুকরণও বড় কারণ।

তা সত্ত্বেও রাজনৈতিক মহলের মতে, সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বোঝার ক্ষেত্রে ‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’ কার্যকর হলে পরিস্থিতি হয়তো কিছুটা আলাদা হতে পারত। এখন সেই আক্ষেপই ঘুরে বেড়াচ্ছে তৃণমূলের অন্দরে।

স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *