মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পথে একাধিক ত্যাগ তলপতির!
দক্ষিণী সিনেমার ‘তলপতি’ থেকে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী— বিজয়ের রাজনৈতিক যাত্রা যেন সিনেমার গল্পকেও হার মানায়। দীর্ঘ তিন দশকের অভিনয়জীবন, পারিবারিক টানাপড়েন, ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক— সব কিছুর মধ্য দিয়েই রাজনীতির ময়দানে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর।
রবিবার তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন বিজয়। তবে এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে বহু ব্যক্তিগত ত্যাগ, আবেগ এবং লড়াইয়ের গল্প।
১৯৭৪ সালে চেন্নাইয়ে জন্ম বিজয়ের। বাবা এস এ চন্দ্রশেখর ছিলেন জনপ্রিয় পরিচালক, মা শোভা চন্দ্রশেখর সঙ্গীতশিল্পী। মাত্র ১০ বছর বয়সে বাবার পরিচালিত ছবিতে শিশুশিল্পী হিসাবে অভিনয় শুরু করেন তিনি। কিন্তু খুব ছোট বয়সেই জীবনে বড় ধাক্কা আসে। ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় তাঁর দুই বছরের বোন। পরিবারের দাবি, সেই ঘটনার পর থেকেই বদলে যায় বিজয়ের স্বভাব। একসময় চঞ্চল স্বভাবের ছেলেটি হয়ে ওঠেন অনেক বেশি শান্ত ও অন্তর্মুখী।
স্কুলের পড়াশোনা শেষে কলেজে ভর্তি হলেও অভিনয়ের টানেই পড়াশোনা ছেড়ে দেন বিজয়। ১৯৯২ সালে নায়ক হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেন। তবে ১৯৯৬ সালের ‘পুভে উনাক্কাগা’ ছবিই তাঁকে জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে দেয়। পরে অ্যাকশন হিরো হিসাবেও দর্শকের মন জয় করেন তিনি। ‘মেরসাল’-এর পর থেকে তিনি কার্যত শুধুই ‘তলপতি’।
ব্যক্তিগত জীবনেও কম চর্চা হয়নি তাঁকে নিয়ে। ১৯৯৯ সালে সঙ্গীতা সোরনালিঙ্গমকে বিয়ে করেন বিজয়। দুই সন্তানকে নিয়ে দীর্ঘ দিনের সংসার ছিল তাঁদের। তবে পরবর্তী সময়ে দক্ষিণী অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণনের সঙ্গে বিজয়ের সম্পর্ক নিয়ে জোর গুঞ্জন শুরু হয়।
২০০৪ সালে ‘গিল্লি’ ছবিতে বিজয়-তৃষার জুটি বিপুল জনপ্রিয়তা পায়। পরপর কয়েকটি ছবিতে একসঙ্গে কাজও করেন তাঁরা। কিন্তু শোনা যায়, সেই রসায়নের প্রভাব পড়তে শুরু করেছিল বিজয়ের ব্যক্তিগত জীবনে। পরিবারের আপত্তির জেরে ২০০৮ সালের পর প্রায় ১৩ বছর তৃষার সঙ্গে আর কোনও ছবিতে কাজ করেননি বিজয়। যদিও দু’জনেই বরাবর দাবি করেছেন, তাঁরা শুধুই বন্ধু। পরে ২০২৩ সালে ‘লিয়ো’ ছবিতে আবার একসঙ্গে দেখা যায় তাঁদের।
রাজনীতির ময়দানে নামার ক্ষেত্রেও কম বিতর্ক হয়নি। একসময় বিজয়ের নাম ব্যবহার করে রাজনৈতিক দল গঠন করেছিলেন তাঁর বাবা। কিন্তু নিজের রাজনৈতিক পথ নিজেই তৈরি করতে চেয়েছিলেন অভিনেতা। সেই কারণেই বাবা-মা-সহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। পরে অবশ্য সম্পর্কের বরফ গলে।
২০২৪ সালে আনুষ্ঠানিক ভাবে নিজের রাজনৈতিক দল ‘তমিলগা বেট্ট্রি কজ়গম’ গঠন করেন বিজয়। এরপর অভিনয় থেকেও প্রায় পুরোপুরি সরে আসেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর দল ১০৮টি আসনে জয় পায়। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও কংগ্রেস, সিপিআই, সিপিএম, ভিডিকে এবং ইউনিয়ন মুসলিম লিগের সমর্থনে সরকার গঠন করেন তিনি।
অভিনয়ের মঞ্চ থেকে রাজনীতির ময়দান— বিজয়ের এই যাত্রা তাই শুধু সাফল্যের গল্প নয়, বরং ত্যাগ, বিতর্ক এবং ব্যক্তিগত লড়াইয়ের এক দীর্ঘ অধ্যায়ও।
স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা