নবগঠিত কোর কমিটি স্থগিত!
তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বৃহস্পতিবার এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিল। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে নতুন কোর কমিটি গঠন হলেও, রাতারাতি তা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই ঘটনাকে শাসক দলের অনেকেই প্রবীণ নেতাদের উদ্দেশ্যে একটি বার্তা হিসেবেই দেখছেন। পাশাপাশি, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগামী ১৫ মার্চের ভার্চুয়াল বৈঠকের ঘোষণা নিয়েও দলীয় মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
কোর কমিটি গঠন ও স্থগিতের রহস্য
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি নতুন কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাঁর নির্দেশ ছিল, এই কমিটির সদস্যরা পর্যায়ক্রমে তৃণমূল ভবনে বসবেন এবং সাংগঠনিক কাজ দেখভাল করবেন। আট দিন পর বৃহস্পতিবার ওই কমিটির প্রথম বৈঠক হয়, যেখানে দলীয় নেতারা সিদ্ধান্ত নেন যে প্রতিটি জেলার ভোটার তালিকা স্ক্রুটিনির জন্য একটি কোর কমিটি গঠিত হবে।
কিন্তু সন্ধ্যায় জানা যায়, এই কমিটি গঠনের বিষয়ে মমতা পুরোপুরি অবগত ছিলেন না। বিষয়টি তাঁর কানে পৌঁছাতেই রাতারাতি কোর কমিটি স্থগিত করে দেওয়া হয়। জানানো হয়, পরবর্তী সময়ে মমতার নির্দেশেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রবীণদের উদ্দেশে বার্তা?
যেহেতু রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী নিজেই কোর কমিটি গঠনের ঘোষণা করেছিলেন, তাই দলের অনেক প্রবীণ নেতা মনে করছিলেন, এই সিদ্ধান্তে মমতার সম্মতি ছিল। কারণ, বক্সী সাধারণত দলনেত্রীর অনুমতি ছাড়া বড় সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেন না। কিন্তু রাতারাতি কমিটি স্থগিত হওয়ার ঘটনায় প্রবীণদের অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন।
দলীয় সূত্রের খবর, একাংশ মনে করছে, মমতা হয়তো প্রবীণ নেতাদের বুঝিয়ে দিতে চেয়েছেন যে, তাঁর অনুমতি ছাড়া কোনও গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। আবার কেউ কেউ বলছেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ সাংগঠনিক, এবং এর সঙ্গে অভ্যন্তরীণ মতানৈক্যের কোনও সম্পর্ক নেই।
কোর কমিটি স্থগিতের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা
তৃণমূলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোর কমিটি স্থগিতের কারণ জানানো হয়নি। তবে সুব্রত বক্সী-ঘনিষ্ঠ এক নেতা জানিয়েছেন, মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে লোকসভা এবং বিধানসভার অধিবেশন রয়েছে। ফলে সাংসদ ও বিধায়কদের এই কোর কমিটিতে রাখা হলে, তাঁরা হয়তো সময় দিতে পারবেন না। তাই কমিটি পুনর্গঠনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। যদিও অনেকেই মনে করছেন, অধিবেশন সূচি জানা থাকতেই এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, ফলে এই যুক্তি পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য নয়।
অভিষেকের বৈঠকের ঘোষণা ও বিতর্ক
তৃণমূলের অন্দরে আরেকটি আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভার্চুয়াল বৈঠকের ঘোষণা। বৃহস্পতিবারের বৈঠকে তিনি উপস্থিত ছিলেন না, তবে বৈঠক শেষে জানা যায়, তিনি ১৫ মার্চ বিকেল ৪টায় জেলার নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করবেন।
তবে অনেক নেতা এই বৈঠকের কথা জানতে পারেননি। বৈঠক শেষ হওয়ার পর অনেকে মোবাইল ফোনে সংবাদমাধ্যমের খবরে এটি জানতে পারেন, আবার কেউ কেউ তৃণমূল ভবন থেকে বের হওয়ার পথে অন্যদের কাছ থেকে শোনেন। এতে দলে কিছুটা বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।
শেষ কথা
তৃণমূলের এই সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত দিচ্ছে, দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনো চূড়ান্ত কর্তৃত্ব ধরে রেখেছেন। প্রবীণ নেতাদের বার্তা দেওয়া, সাংগঠনিক কাজের তদারকি বাড়ানো এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা—সব মিলিয়ে দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ যে নতুন রূপ নিচ্ছে, তা স্পষ্ট। এখন দেখার, এই পরিবর্তন তৃণমূলের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে।
ভারতের উপর পাল্টা শুল্ক চাপাচ্ছেন ট্রাম্প! ঘোষণা করলেন নির্দিষ্ট তারিখও