৪ ঘণ্টা পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের পরও অনড় হুমায়ুন, ‘আমাকেই শুধু নিশানা করা হচ্ছে’, দাবি বিধায়কের

৪ ঘণ্টা পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের পরও অনড় হুমায়ুন! বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শেষ পর্যন্ত রেজিনগর থানায় হাজিরা দিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (এজেইউপি) চেয়ারম্যান ও নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। শনিবার প্রায়…

July 4, 2026
0 min read

৪ ঘণ্টা পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের পরও অনড় হুমায়ুন!

বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শেষ পর্যন্ত রেজিনগর থানায় হাজিরা দিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (এজেইউপি) চেয়ারম্যান ও নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। শনিবার প্রায় চার ঘণ্টা ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। থানা থেকে বেরিয়ে ফের নিজের অবস্থানে অনড় থাকলেন তিনি। পাশাপাশি দাবি করলেন, গত কয়েক দিন ধরে তাঁকে খুনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

শনিবার দুপুর সাড়ে ৩টা নাগাদ রেজিনগর থানা থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন হুমায়ুন। পুলিশ সূত্রের খবর, তদন্তের স্বার্থে আগামী ১৪ জুলাই সকাল ১১টায় তাঁকে ফের হাজির হতে বলা হয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদের পর বিধায়কের বক্তব্য, তিনি পুলিশের সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন এবং বিতর্কিত মন্তব্যের ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “যদি কেউ আমাকে বারবার হুমকি দেয়, তা হলে আমি কি তাকে রসগোল্লা খাওয়াব? আমার বক্তব্যের অর্থ সেটাই ছিল।”

হুমায়ুনের আরও অভিযোগ, বিভিন্ন অচেনা নম্বর থেকে ফোন ও বার্তার মাধ্যমে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি রাজ্যের পুলিশ মহাপরিচালক সিদ্ধনাথ গুপ্তের কাছেও লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন বলে দাবি করেন। তাঁর প্রশ্ন, “আইন কি শুধু হুমায়ুন কবীরের জন্য? আমাকে আঘাত করা হলে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, কিন্তু আমি প্রতিবাদ করলেই পুলিশের তৎপরতা বেড়ে যায়— এটা গণতান্ত্রিক হতে পারে না।”

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রায় ১০ পাতার একটি প্রশ্নমালা প্রস্তুত করা হয়েছিল। শুধু ২৬ জুনের বিতর্কিত ভাষণ নয়, অতীতের একাধিক অভিযোগ নিয়েও বিধায়ককে প্রশ্ন করা হয়। পুরো জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিও রেকর্ডিংও করা হয়েছে। যদিও পুলিশ সূত্রের দাবি, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর মেলেনি।

ঘটনার সূত্রপাত ২৬ জুন রেজিনগরে এজেইউপির একটি জনসভা থেকে। ওই সভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপির মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি মলয় মহাজন এবং জেলা প্রশাসনকে উদ্দেশ করে হুমায়ুনের একাধিক মন্তব্যকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। অভিযোগ ওঠে, তাঁর বক্তব্যে উস্কানিমূলক ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

এর পরেই রেজিনগর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা এবং পরিকল্পিত ভাবে অশান্তি ছড়ানোর মতো একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ।

উল্লেখযোগ্যভাবে, হুমায়ুনের ওই বক্তব্যের পর বিধানসভায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরে সভার তিন আয়োজককে গ্রেফতার করে পুলিশ। সেই একই মামলার তদন্তের অংশ হিসেবেই থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হল বিধায়ককে।

তবে তদন্ত চললেও নিজের অবস্থান থেকে একচুলও সরতে নারাজ হুমায়ুন। তিনি জানিয়েছেন, পুলিশের পরবর্তী তলবেও তিনি হাজির হবেন এবং আইনগত প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সহযোগিতা করবেন।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow
Explore More on These Topics

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *