বিদায়ী ম্যাচের পর মেসির মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক
বিদায়ী ম্যাচ শেষ। হাতে মাইক্রোফোন। গলা ভারী লিয়োনেল মেসির। আর্জেন্টিনার জার্সিতে আর মাঠে নামবেন না—এই সত্যিটা যেন মেনে নিতেই পারছিলেন না তিনি। একের পর এক স্মৃতি, সতীর্থদের প্রতি কৃতজ্ঞতা, বিশ্বকাপের কঠিন মুহূর্ত এবং সমর্থকদের ভালোবাসার কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন মেসি। তবে তাঁর একটি মন্তব্য নিয়েই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
মেসি বলেন, ‘‘এই জার্সিকে ধন্যবাদ জানানোর মতো কোনও ভাষা আমার জানা নেই। ২০ বছর ধরে কঠিনতম সময়েও লড়াই ছাড়িনি। নিজের সেরাটা দিয়ে গিয়েছি।’’ আর্জেন্টিনার হয়ে আর না খেলতে পারার যন্ত্রণার কথাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। তাঁর কথায়, নিজের হাতে সব কিছু থাকলে সারা জীবন জাতীয় দলের হয়ে খেলতেন তিনি।
তবে অবসরের সময় যে এসে গিয়েছে, সেটাও মেনে নিয়েছেন মেসি। আগের বিশ্বকাপের কথা বলতে গিয়ে তিনি মনে করিয়ে দেন, কী ভাবে গোটা দল নিজেদের শেষ শক্তিটুকু দিয়ে লড়েছিল। ফাইনালে জয়ের খুব কাছে গিয়েও শেষ পর্যন্ত স্বপ্ন পূরণ হয়নি।
বিশেষ করে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেই কঠিন ম্যাচের প্রসঙ্গও তোলেন মেসি। তাঁর দাবি, বিশ্বকাপের পর সেই ম্যাচ নিয়ে অনেক কথা হলেও বাস্তবে মানসিক এবং শারীরিক ভাবে দল নিজেদের শেষ সীমায় পৌঁছে গিয়েছিল। সতীর্থদের সঙ্গে নিয়ে সর্বস্ব দিয়ে লড়াই করেছিলেন তাঁরা।
২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয়ের প্রসঙ্গে মেসি বলেন, সেই সাফল্য শুধু তাঁর বা দলের ছিল না, গোটা দেশের স্বপ্নপূরণ হয়েছিল। বিশ্বকাপের পাশাপাশি কোপা আমেরিকা এবং ফাইনালিসিমা জয়ের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
মেসি বার বার কৃতিত্ব দিয়েছেন সতীর্থদের। তাঁর বক্তব্য, এত বড় সাফল্যের নেপথ্যে একটি ঐক্যবদ্ধ দলই ছিল। মাঠে এবং মাঠের বাইরে সতীর্থদের সঙ্গে কাটানো সময় তাঁর কাছে অত্যন্ত সম্মানের।
সমর্থকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। দেশের বিভিন্ন শহর থেকে শুরু করে বিশ্বের নানা প্রান্তে সমর্থকেরা যে ভাবে তাঁদের পাশে থেকেছেন, তা কখনও ভুলবেন না বলে জানান তিনি।
এর পরেই আসে তাঁর সবচেয়ে আলোচিত মন্তব্য। মেসি বলেন, ‘‘কঠিন সময় আসবে। তখন আরও বেশি সমর্থন করতে হবে। শক্তিশালী এবং ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কারণ অনেকেই চান জাতীয় দল ব্যর্থ হোক। তাঁদের সেই সন্তুষ্টি আমরা দেব না।’’
কারা সেই ‘অনেকেই’, তা অবশ্য স্পষ্ট করেননি মেসি। ফলে বিদায়ী ম্যাচের পর তাঁর এই মন্তব্য নিয়েই শুরু হয়েছে আলোচনা।
এই স্টেডিয়ামেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচ খেলার স্মৃতিও মনে করেন মেসি। সেই সময়টিকে জীবনের অন্যতম সেরা সুখের মুহূর্ত বলে উল্লেখ করেন তিনি। বিদায়ের মুহূর্তে আবেগ সামলাতে গিয়ে বার বার বোঝা যাচ্ছিল, আর্জেন্টিনার জার্সির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক শুধুই ফুটবলের নয়—তার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দুই দশকের অসংখ্য স্মৃতি ও আবেগ।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।