দেশে তৈরি ‘আয়রন ডোম’: মিশন সুদর্শন চক্রে ভারতীয় আকাশের নিরাপত্তা

মিশন সুদর্শন চক্রে ভারতীয় আকাশের নিরাপত্তা ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও)–র বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি সফলভাবে প্রাথমিক পরীক্ষা করেছেন ত্রিস্তরীয় সুসংহত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা,…

August 30, 2025
1 min read

মিশন সুদর্শন চক্রে ভারতীয় আকাশের নিরাপত্তা

ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও)–র বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি সফলভাবে প্রাথমিক পরীক্ষা করেছেন ত্রিস্তরীয় সুসংহত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যা পোশাকি নাম ‘ইন্টিগ্রেটেড এয়ার ডিফেন্স ওয়েপন সিস্টেম’ বা আইএডিডব্লিইউএস। এই পরীক্ষার লক্ষ্য ছিল দেশের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ও বেসামরিক স্থানগুলোকে আকাশপথে সম্ভাব্য শত্রু হামলা থেকে রক্ষা করা।

প্রাথমিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ২৩ অগস্ট, ওড়িশার চাঁদিপুর উপকূলের ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জে। স্বাধীনতা দিবসে, ১৫ অগস্ট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করেছিলেন ‘মিশন সুদর্শন চক্র’ কর্মসূচি, যার আওতায় দেশের আকাশ নিরাপত্তার জন্য দেশীয় নকশা ও প্রযুক্তিতে তৈরি এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করা হবে।

আইএডিডব্লিইউএস বহুস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় হিসেবে কাজ করবে। এর মধ্যে রয়েছে তিনটি মূল অংশ:
১. কুইক রিঅ্যাকশন সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল (কিউআরএসএএম) – এটি দ্রুত রাডারের মাধ্যমে শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্র বা যুদ্ধবিমান চিহ্নিত করে ধ্বংস করতে সক্ষম।
২. অ্যাডভান্সড ভেরি শর্ট এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম (ভিএসএইচওআরএডিএস) – নিচু উড়ন্ত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রকে শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করতে কার্যকর। সেনারা প্রয়োজনে কাঁধে করে এটিকে যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারেন।
৩. ডিরেক্টে এনার্জি ওয়েপন (ডিইডব্লিউ) – লেজার, মাইক্রোওয়েভ বা পার্টিকল বিমের মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট, যুদ্ধবিমান বা ড্রোনকে আকাশেই ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে, এক কণাও বিস্ফোরক ব্যবহার ছাড়াই।

ডিআরডিও-র ‘লেজার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি সেন্টার’ এই ডিইডব্লিউ–এর উন্নয়ন ও পরীক্ষা পরিচালনা করছে। ৩০০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন পার্টিকল বিম প্রায় ২০ কিলোমিটার পর্যন্ত আকাশকে সুরক্ষা দিতে সক্ষম।

ডিআরডিও ও ভারত ইলেকট্রনিক্স ‘প্রকল্প কুশ’-এ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে, যার ফলে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ’–এর সমতুল্য অস্ত্র ভারতীয় সেনার হাতে পৌঁছাবে। দেশের আকাশ নিরাপত্তায় ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময়ও এই ধরনের দেশীয় ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।

ত্রিস্তরীয় আইএডিডব্লিইউএস–এর মধ্যে রয়েছে ‘অ্যাকটিভ এয়ারি ব্যাটারি সার্ভিল্যান্স রাডার’ ও ‘অ্যাকটিভ এয়ারি ব্যাটারি মাল্টিফাংশনাল রাডার’, যা ৩৬০ ডিগ্রির মধ্যে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র, বিমান ও ড্রোন শনাক্ত করতে সক্ষম।

ডিআরডিও–র গবেষকরা ইজরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আয়রন ডোমের মতো ‘আকাশতির’ তৈরি করেছেন। ভিএসএইচওআরএডিএস তার উন্নততর সংস্করণ। দেশীয় কৌশলগত প্রযুক্তিতে নির্মিত কিউআরএসএএমের পাল্লা ৭০ কিলোমিটার, গতি ২.৫ ম্যাক—অর্থাৎ শব্দের চেয়ে আড়াই গুণ দ্রুত।

প্রাথমিক পরীক্ষায় এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফল হয়েছে, যা ভারতীয় আকাশকে আরও নিরাপদ করার পথে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ‘মিশন সুদর্শন চক্র’ শুধু কৌশলগত নিরাপত্তা নয়, দেশের আত্মনির্ভরতা ও প্রযুক্তিগত শক্তিকেও প্রতিফলিত করে। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি দেশের আকাশের রক্ষাকবচ হয়ে উঠবে।

ইউএস ওপেনের তৃতীয় রাউন্ডে সহজ জয় রাডুকানু ও আজ়ারেঙ্কার

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *