দুলাল-হত্যাকাণ্ডে ৫০ লক্ষ টাকার সুপারি
মালদহের ইংরেজবাজার শহরের ঝলঝলিয়ায় তৃণমূল নেতা দুলাল সরকারকে খুনের ঘটনায় মূল চক্রী হিসেবে উঠে এসেছে তৃণমূলের মালদহ শহরের সভাপতি নরেন্দ্রনাথ তিওয়ারি এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী স্বপন শর্মার নাম। জানুয়ারির ২ তারিখে নিজের কারখানার সামনে নৃশংসভাবে খুন হন দুলাল। বুধবার পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাঁকে খুন করার জন্য ৫০ লক্ষ টাকার সুপারি দেওয়া হয়েছিল।
পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে, দুলাল এবং নরেন্দ্রনাথের মধ্যে আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিবাদ ছিল, যা হত্যার অন্যতম কারণ হতে পারে। তবে এখনও পর্যন্ত এই আর্থিক লেনদেনের সুনির্দিষ্ট কারণ পরিষ্কার নয়। এডিজি (দক্ষিণবঙ্গ) সুপ্রতিম সরকার জানিয়েছেন, নরেন্দ্রনাথ এবং স্বপন শর্মাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হলে তাঁদের তিন দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়।

হত্যার পরিকল্পনা ও তদন্তের অগ্রগতি
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, প্রাণ বাঁচাতে দুলাল সরকার তাঁর কারখানায় ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন। তবে দুষ্কৃতীরা তাঁকে ঘেরাও করে হত্যা করে। তদন্তের সময় পাঁচ জন অভিযুক্তকে জেরা করার পর পুলিশ নরেন্দ্রনাথ ও স্বপনের বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহ করে। মঙ্গলবার রাতভর জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
সরকারি আইনজীবী দেবজ্যোতি পাল আদালতে জানান, ‘‘এই হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’’ পুলিশের দাবি, এই ঘটনায় মোট সাত জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুই মূল অভিযুক্ত নরেন্দ্রনাথ এবং স্বপনের জেরা থেকে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
বিভিন্ন পক্ষের দাবি
ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী জানান, নরেন্দ্রনাথ আগেই দুলালকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিলেন। এলাকার দখল নিয়ে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিবাদ ছিল। তিনি আরও দাবি করেন, ‘‘নরেন্দ্রনাথই দুলালের খুনের পিছনে প্রধান ষড়যন্ত্রী।’’
অন্যদিকে, আদালতে ঢোকার সময় নরেন্দ্রনাথ দাবি করেন, তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ‘‘দুলাল হত্যার পেছনে আরও বড় মাথারা আছে।’’
সুপারি ও খুনিদের ভূমিকা
পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, দুলালকে হত্যার জন্য ৫০ লক্ষ টাকার বরাত দেওয়া হয়। এই অর্থের বিনিময়ে চার জন দুষ্কৃতীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তাদের মধ্যে দুই জনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তবে বাকি দুই জন এখনও পলাতক।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার নেপথ্যে নরেন্দ্রনাথ ও স্বপনের পরিকল্পনা ছিল। এডিজি সুপ্রতিম সরকার বলেন, ‘‘স্বপন কুখ্যাত অপরাধী। তাঁর বিরুদ্ধে বোমাবাজি, খুন এবং অন্যান্য অপরাধের বহু অভিযোগ রয়েছে।’’
তদন্তের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
পুলিশ জানিয়েছে, এই মামলার দ্রুত চার্জশিট দাখিল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সুপ্রতিম সরকারের বক্তব্য, ‘‘৫০ লক্ষ টাকার চুক্তি হলেও পুরো টাকা দেওয়া হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং এর সঙ্গে যুক্ত সমস্ত প্রমাণ সংগ্রহ করা আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’’
রাজনৈতিক চক্রান্তের অভিযোগ
এই হত্যাকাণ্ডে তৃণমূল নেতাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ সংঘাতের বিষয়টি সামনে এসেছে। রাজনৈতিক প্রভাব, আর্থিক লেনদেন এবং এলাকার দখলদারি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিবাদের ফলে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উপসংহার
তৃণমূল নেতা দুলাল সরকারের হত্যাকাণ্ড রাজ্য রাজনীতিতে বড় ধরনের চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। হত্যার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং প্রকৃত উদ্দেশ্য উদঘাটনে পুলিশ পূর্ণ উদ্যমে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এই ঘটনায় রাজনৈতিক সংঘাতের গভীরতা এবং অভ্যন্তরীণ বিভাজনের দিকটি উঠে আসায় নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ভরপেট খাওয়ার পরেও খিদে পেলে কী করবেন? খাই খাই করার বাতিক না অসুখ?