পরিচালক অভিনয় দেওর খোলামেলা কথা!
২০১১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দিল্লি বেলি’ ছবি দিয়ে চমক দেখিয়েছিলেন পরিচালক অভিনয় দেও। বড় তারকা না থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র অভিনয় ও গল্পের জোরে দর্শকের মন জয় করে নিয়েছিল সেই সিনেমা। তবে অভিনয় নিজেই বলছেন, তার পরে ইচ্ছা করেই আর সেই ধরনের ছবি করেননি, কারণ টাইপকাস্ট হতে চাননি।
‘দিল্লি বেলি’-এর পর বলিউডে পরিচালকরা কিংবা প্রযোজকরা চাইতেন তিনি আরও সেই ধরনেরই ছবি বানান। কিন্তু তিনি সচেতন ভাবেই থ্রিলার থেকে সিরিজ পর্যন্ত ভিন্ন ভিন্ন ধরনের কাজ করেছেন। অনিল কপূরের সঙ্গে ‘টোয়েন্টিফোর’ সিরিজ তৈরি করেছেন, আবার ‘ব্ল্যাকমেল’-এর মতো ছবিও বানিয়েছেন।
কলকাতা শহরকেও খুব ভালবাসেন অভিনয়। গত বছর করিশ্মা কপূরকে নিয়ে কলকাতায় পাঁচ মাস ধরে কাজ করেছেন ‘গেমারলোগ’ সিরিজ়ের জন্য। এই সিরিজ়ের মাধ্যমে গেমিং ইন্ডাস্ট্রি এবং তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। তাঁর মতে, শুধু পড়াশোনাই নয়, গেম খেলাকেও পেশা হিসেবে দেখা উচিত। ভারতের গেমিং ইন্ডাস্ট্রি এখন প্রায় ২.২ বিলিয়ন ডলারের, সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির থেকেও বড়।
অভিনয়ের মতে, যেকোনও বিষয়ে আসক্তি খারাপ—চাই সেটি গেম হোক কিংবা কাজ। কিন্তু গেমিং বা নতুন পেশার সুযোগগুলিকে অগ্রাহ্য করা ঠিক নয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সিনেমার ভাষা যেমন বদলেছে, তেমনই বদলেছে মানুষের পেশা বাছার ধরনও। আগে পাঁচটি পেশা ছিল, এখন প্রচুর বিকল্প আছে।
তারকাদের সঙ্গে কাজ করাও এবং নবাগতদের সঙ্গে কাজ—দু’টির মধ্যেই আলাদা আলাদা চ্যালেঞ্জ থাকে বলেই মত তাঁর। অভিজ্ঞ তারকাদের ইগো ও চাহিদার দিকে খেয়াল রাখতে হয়, আবার নতুনদের সঙ্গে অভিনয়ের সূক্ষ্মতা বোঝাতে সময় দিতে হয়।
তিনি স্পষ্ট বলেন, সিনেমা নির্মাতারা খুব সহজেই টাইপকাস্ট হয়ে যান। দর্শক এক ধরনের ছবি পছন্দ করলে পরিচালককে সব সময় সেটাই বানাতে বলেন। সেই ফাঁদে পড়েননি বলেই আজও তিনি নিজের মতো করে কাজ করতে পারছেন বলে মনে করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে বলিউডের ওপর ধর্মীয় বা রাজনৈতিক চাপ নিয়েও নিজের মত জানান তিনি। তাঁর মতে, আজকের দিনে প্রত্যেকের হাতে সোশ্যাল মিডিয়া নামক মাইক রয়েছে। সবাই কথা বলবেনই। তবে তিনি মনে করেন, সিনেমা বিনোদনের জন্য—প্রোপাগান্ডা দেখার আগে সেটি আনন্দ দেয় কি না, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।
অভিনয়ের মতে, দর্শক যদি ছবিটি দেখে বিনোদিত হন, তা হলে সেটাই আসল। কে কী বলল, সেটা মাথায় রাখলে কাজ করা কঠিন হয়ে যাবে। তাঁর মতে, গত দশ বছরে ওটিটির আবির্ভাব হিন্দি সিনেমার ধারা অনেকটাই বদলে দিয়েছে। এখন সবাই নিরাপদ খেলার চেষ্টা করছেন, পরীক্ষামূলক কাজ কম হচ্ছে।
তবু অভিনয় দেও আশাবাদী। তাঁর কথায়, পরিবর্তনের সঙ্গে নতুন সম্ভাবনাও আসে। তাই তিনি নিজের প্রযোজনা সংস্থা দিয়ে দর্শকদের নতুন কিছু দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
ক্রিকেটার চাহালের সঙ্গে নাম জড়ানো আরজে মাহবিশের নতুন চমক, কিনে নিলেন নিজস্ব ক্রিকেট দল!