দিল্লি-বেজিং দু’দিকই সামলাতে চান ‘র্যাপার’!
নেপালের নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পাঁচ মাস পর অবশেষে দুই প্রতিবেশী ভারত ও চিনের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসলেন প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ। একই দিনে প্রথমে ভারতের রাষ্ট্রদূত নবীন শ্রীবাস্তব এবং পরে চিনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি।
সোমবার কাঠমান্ডুতে ভারতের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেন বলেন্দ্র। নেপালের প্রধানমন্ত্রীর দফতর সমাজমাধ্যমে সেই সাক্ষাতের ছবি প্রকাশ করে। ভারতের সঙ্গে বৈঠক শেষ হওয়ার পরেই চিনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গেও বৈঠক করেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী।
০৩ /২০
একই দিনে দুই শক্তিধর প্রতিবেশীর প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠককে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক মহলের একাংশ। তাঁদের মতে, ভারত ও চিন—দুই দেশের সঙ্গেই ভারসাম্য রেখে চলাই হতে পারে বলেন্দ্র সরকারের বিদেশনীতির অন্যতম লক্ষ্য।
০৪ /২০
নেপালের ভৌগোলিক অবস্থানই এই ভারসাম্যের নীতির অন্যতম কারণ। এক দিকে ভারত, অন্য দিকে চিন। স্থলবেষ্টিত নেপালের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও ভারতের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। ফলে নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করে ফেলতে চায় না কাঠমান্ডু।
০৫ /২০
তবে ভারত-নেপাল সম্পর্কে দীর্ঘ দিনের কিছু অমীমাংসিত বিষয় রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম লিপুলেখ গিরিপথ নিয়ে সীমান্ত বিরোধ। ভারত ও চিন সম্প্রতি ওই পথ দিয়ে ফের বাণিজ্য চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নেপালের অস্বস্তি আরও বেড়েছে।
০৬ /২০
লিপুলেখকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দীর্ঘ দিন ধরে দাবি করে আসছে নেপাল। ভারত অবশ্য সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে এই সীমান্ত বিরোধ নতুন সরকারের জন্য বড় কূটনৈতিক পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।
০৭ /২০
২০২৫ সালের অগস্টে নেপাল একটি নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছিল। সেখানে লিপুলেখ, লিম্পিয়াধুরা এবং কালাপানি এলাকাকে নিজেদের ‘অবিচ্ছেদ্য’ অংশ হিসাবে দেখানো হয়। নয়াদিল্লি সেই দাবি খারিজ করেছিল।
০৮ /২০
ভারত-নেপাল সম্পর্কে এর আগেও বড় ধরনের টানাপড়েন হয়েছে। ২০১৫ সালে নেপালের নতুন সংবিধান ঘিরে দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। সেই সময় বাণিজ্য ও সীমান্ত যোগাযোগ নিয়েও কাঠমান্ডুর সঙ্গে নয়াদিল্লির মতবিরোধ দেখা দেয়।
০৯ /২০
বলেন্দ্র অবশ্য প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেও ভারতকে নিয়ে নিজের কড়া অবস্থানের পরিচয় দিয়েছিলেন। কাঠমান্ডুর মেয়র থাকাকালীন ‘বৃহত্তর নেপাল’-এর মানচিত্র প্রদর্শন এবং ভারতীয় চলচ্চিত্র নিয়ে নিষেধাজ্ঞার মতো পদক্ষেপ করেছিলেন তিনি।
১০ /২০
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরেও নয়াদিল্লির সঙ্গে তাঁর কূটনৈতিক যোগাযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। মে মাসে ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রীর নেপাল সফরের পরিকল্পনা শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়ে যায়।
১১ /২০
কূটনৈতিক মহলের মতে, বলেন্দ্র সরাসরি সমমর্যাদার নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলতেই বেশি আগ্রহী। অর্থাৎ, বিদেশসচিবের পরিবর্তে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সরাসরি আলোচনার পক্ষপাতী ছিলেন তিনি।
১২ /২০
লিপুলেখ নিয়ে ভারতের উপর চাপ তৈরির কৌশল হিসাবেও ওই বৈঠক বাতিলকে দেখেছিলেন কেউ কেউ। যদিও নয়াদিল্লির তরফে বার বার বলা হয়েছে, নেপালের সঙ্গে যাবতীয় সমস্যা আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করতে চায় ভারত।
১৩ /২০
ভারতের বক্তব্য, সীমান্ত নিয়ে একতরফা দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। পাশাপাশি লিপুলেখ দিয়ে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা দীর্ঘ দিন ধরেই হয়ে আসছে বলেও জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
১৪ /২০
অন্য দিকে, নেপালের নতুন সরকার চিনের সঙ্গেও সম্পর্ক ছিন্ন করার পথে হাঁটছে না। বরং বেজিংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে অর্থনৈতিক ও পরিকাঠামোগত সহযোগিতার বিষয়গুলি নিয়ে সতর্ক ভাবে এগোতে চাইছে কাঠমান্ডু।
১৫ /২০
বিশেষ করে চিনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ বা বিআরআই নিয়ে নেপালের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। চিনা ঋণের বদলে অনুদান এবং সহজ শর্তে অর্থায়নের দিকে ঝুঁকতে পারে নতুন সরকার—এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।
১৬ /২০
নেপালের জন্য ভারত ও চিন—দুই দেশই গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের সঙ্গে রয়েছে দীর্ঘ সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক। অন্য দিকে চিন নেপালের উত্তর সীমান্তের শক্তিধর প্রতিবেশী এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোগত অংশীদার।
১৭ /২০
তাই কোনও একটি দেশের দিকে পুরোপুরি ঝুঁকে পড়ার পরিবর্তে দুই প্রতিবেশীর সঙ্গেই সম্পর্ক বজায় রাখার কৌশল নিতে পারেন বলেন্দ্র। তাঁর সরকারের বিদেশনীতি যে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবে, সেই বার্তাও ইতিমধ্যে দেওয়া হয়েছে।
১৮ /২০
নেপালের প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী বিমলা রায় পাউডিয়ালের মতে, আমেরিকা ও চিনের বিভিন্ন কৌশলগত উদ্যোগ নিয়ে তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। কারণ, নেপালের দীর্ঘ দিনের জোটনিরপেক্ষ বিদেশনীতির সঙ্গে এই ধরনের পদক্ষেপের সংঘাত তৈরি হতে পারে।
১৯ /২০
নেপালের নতুন সরকারের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রতিনিধিরাও জাতীয় স্বার্থ ও সংবিধানকে বিদেশনীতি নির্ধারণের মূল ভিত্তি করার কথা বলেছেন। কোনও নির্দিষ্ট নিরাপত্তা বা কৌশলগত জোটে যোগ না দেওয়ার নীতিই বজায় রাখার ইঙ্গিত মিলেছে।
২০ /২০
তবে ভারত-চিনের মতো দুই শক্তিধর প্রতিবেশীকে একই সঙ্গে সামলানো সহজ হবে না। সীমান্ত বিরোধ, বাণিজ্য, পরিকাঠামো এবং আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির চাপের মধ্যেই বলেন্দ্রকে নিজের কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। একই দিনে দিল্লি ও বেজিংয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে আপাতত সেই বার্তাই দিয়েছেন নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।