তৃণমূলের পরিবেশ নিয়ে বিস্ফোরক অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়!
Ananya Bandyopadhyay প্রকাশ্যে স্বীকার করলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে দীর্ঘদিন ধরেই সমস্যা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেই সমস্যার কথা বলার মতো কোনও পরিবেশ বা জায়গা ছিল না বলেই দাবি অভিনেত্রী-রাজনীতিকের। বিধানসভা নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পর এক সাক্ষাৎকারে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন তিনি।
অনন্যার কথায়, মানুষের রায়কে অস্বীকার করার কোনও জায়গা নেই। ইভিএম নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তা প্রমাণসাপেক্ষ বলেই মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, মানুষ পরিবর্তনের পক্ষেই রায় দিয়েছে। প্রচারে গিয়ে তিনি নিজেও সেই ইঙ্গিত পেয়েছিলেন।
২০১৫ সাল থেকে কলকাতা পুরসভার ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বে রয়েছেন অনন্যা। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন দলের জন্য কাজ করলেও তাঁর কোনও “মূল্যায়ন” হয়নি। তিনি বলেন, “আমারও তো পদোন্নতি হয়নি। আমি সেই পুরপ্রতিনিধিই থেকে গেছি। ক্ষোভের জায়গা অনেক ছিল। কিন্তু দুঃসময়ে দল নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাইনি।”
তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামো নিয়েও সরব হয়েছেন তিনি। অনন্যার দাবি, একসময় “মা-মাটি-মানুষ”-এর দল হিসেবে পরিচিত সংগঠনটি ধীরে ধীরে “কর্পোরেট” হয়ে গিয়েছে। তাঁর ভাষায়, “মাটির মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ হারিয়ে ফেলেছিল দল। এজেন্সি-নির্ভর হয়ে গিয়েছিল সব কিছু। এজেন্সিই নীতি নির্ধারণ করতে শুরু করেছিল।”
নির্বাচনী প্রচারে লুডোর বোর্ড বিলির ঘটনাকেও কটাক্ষ করেছেন তিনি। অনন্যার বক্তব্য, এই ধরনের প্রচার সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। তাঁর মন্তব্য, “মানুষকে যেন বলা হয়েছিল, ভবিষ্যতে কিছু হবে না, তোমরা লুডো খেলো। শেষ পর্যন্ত মানুষও সেই লুডো খেলেছে, আর সাপের মুখে ফেলে দিয়েছে।”
Aroop Biswas-এর পরাজয় নিয়েও মন্তব্য করেন অনন্যা। তাঁর মতে, অরূপ ভাল সংগঠক হলেও এ বার ভোট হয়েছে দল দেখে, প্রার্থী দেখে নয়। টালিগঞ্জে বিজেপি প্রার্থী Papiya Adhikari-র জয় তাঁকে প্রথমে অবাক করেছিল বলেও জানান তিনি।
বিজেপি থেকে অতীতে যোগদানের প্রস্তাব পেয়েছিলেন বলেও জানিয়েছেন অনন্যা। তবে এখনই কোনও সিদ্ধান্ত নিতে চান না তিনি। তাঁর কথায়, আগে দলের ভিতরে আত্মসমালোচনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে রাজনীতিতে ভবিষ্যৎ নিয়েও ধন্দে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।
স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা