সিসিলিয়ান পিৎজ়ায় কলকাতার নতুন ঠিকানা!
দমদম এক নম্বর— বিমানবন্দরের কাছেই যশোহর রোড থেকে বাঁক নিলেই মন্দির-মসজিদ গলি। সেখান থেকে আরও খানিক এগোলে এক নিরিবিলি উপগলি। ঠিক সেখানেই ছোট্ট এক ক্যাফে, নাম ‘পিৎজ়ারো’। সাজসজ্জা ঝলমলে নয়, আসবাবও বেশি নয়। কিন্তু দরজায় দাঁড়ানো ছিপছিপে ইউরোপীয় নারীটির উষ্ণ হাসিই বলে দেয়— এখানে খাবারের সঙ্গে গল্পও মিলবে। তিনি সান্দ্রা ইভানুশা, ক্রোয়েশিয়ার জ়াগরেভ শহর থেকে দমদমে এসে যাঁর স্বপ্নের রান্নাঘর খুলে বসা।
পিৎজ়ারোর মূল আকর্ষণ— পিৎজ়া। তবে কলকাতায় চেনা গোল, পাতলা আর মুচমুচে নয়। এখানে পিৎজ়া চৌকো, নরম-ফোলা, অনেকটা ভালো বেক করা পাউরুটির মতো। এই ঘরানার নাম সিসিলিয়ান পিৎজ়া। অরিগ্যানো-চিলিফ্লেকস থাকলেও স্বাদে সে একেবারেই আলাদা। সান্দ্রা বলেই দিলেন, “এই পিৎজ়াই আমাদের আলাদা করেছে অন্যদের থেকে।” মেনুর মোড়কে লেখা— “Square is bigger than circle”— ভাবনাটাও তেমনই সাহসী।
খাবারের সঙ্গে রয়েছে এক অভিনব পানীয়— আইসক্রিম কফি। দেখতে কোল্ড কফির মতো নয়। আলাদা বাটিতে আইসক্রিম, পাশে ফ্রেঞ্চপ্রেসে গরম কফি। সেই কফি ঢালা হয় আইসক্রিমের উপর। ঠান্ডা আর গরমের যুগলবন্দিতে তৈরি হয় আফোগাতোর এক ভারতীয় ছোঁয়া দেওয়া রূপ।
সন্ধ্যা নামলেই পিৎজ়ারো ভরে ওঠে। যুগল, পরিবার, আবার অনেকে শুধু ডেলিভারির অর্ডার দেন। ব্যস্ততার ফাঁকেই সান্দ্রা শোনালেন তাঁর গল্প। জ়াগরেভে হসপিট্যালিটি ম্যানেজমেন্ট পড়াশোনা, তার পরে আয়ারল্যান্ডে পাড়ি। ডাবলিনেই পরিচয় সৌম্যজিৎ বিশ্বাসের সঙ্গে। সেখানেই ভারতীয় ও এশিয়ান খাবারের রেস্তরাঁ চালাতেন সৌম্যজিৎ। পারিবারিক কারণে দেশে ফিরতে হয় তাঁকে, সঙ্গে সান্দ্রাও। দমদম নাগেরবাজারে শ্বশুরবাড়ি। কিন্তু রেস্তরাঁর স্বপ্ন তাঁরা ছাড়েননি। তারই ফল পিৎজ়ারো।
বড় রাস্তায় নয়, গলির ভিতরেই কেন? সান্দ্রার সোজাসাপটা উত্তর— ভাড়া কম, আর ভিড়-হট্টগোল তাঁর পছন্দ নয়। ডাবলিনেও তাঁদের রেস্তরাঁ ছিল এমনই নিরিবিলি গলিতে। কলকাতায় এসে সৌম্যজিতের বাজার-সমীক্ষায় বোঝা গিয়েছিল, পিৎজ়ার জন্য শহর প্রস্তুত। কিন্তু আলাদা কিছু দরকার।
মেনুতে আছে সিসিলিয়ান পিৎজ়ার নানা রূপ— স্মোকড চিকেন, মাশরুম, টিক্কা মসালা স্বাদের ‘পিৎজ়া ইন্ডিয়ানা’। সঙ্গে পাস্তা, গ্রিল্ড চিকেন, এমনকি ফিশফ্রাই আর কাটলেটের ইউরোপীয় নামকরণ। সান্দ্রা একে ফিউশন বলতে নারাজ— তাঁর কাছে এগুলো স্বাদ নিয়ে পরীক্ষা।
দমদমের সেই গলিতে রাত নামছে। সান্দ্রা একাই সামলাচ্ছেন অর্ডার, ডেলিভারি, অতিথি। ক্লান্তির চিহ্ন নেই। আধখানা পৃথিবী ঘোরা চোখ জানে— ডাবলিন আর দমদম আসলে খুব দূরের নয়। যেখানে সিসিলিয়ান পিৎজ়ার ঘ্রাণ ভাসে, সেখানেই বাড়ি।
বেজিঙে অস্বস্তির ঝড়: শি জিনপিংয়ের ঘনিষ্ঠের বিরুদ্ধেই পরমাণু গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগ