তৃণমূল বনাম তৃণমূলের সংঘর্ষে উত্তাল কাঁকরতলা, পাথর দিয়ে থেঁতলে খুন এক কর্মী

তৃণমূল বনাম তৃণমূলের সংঘর্ষে উত্তাল কাঁকরতলা! বীরভূমের রাজনৈতিক অস্থিরতা নতুন কিছু নয়। এবার সেই উত্তপ্ত মাটি আবারও রক্তাক্ত হলো তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে। অনুব্রত মণ্ডল ও কাজল শেখের জেলা হিসেবে পরিচিত বীরভূমের…

February 22, 2025
1 min read

তৃণমূল বনাম তৃণমূলের সংঘর্ষে উত্তাল কাঁকরতলা!

বীরভূমের রাজনৈতিক অস্থিরতা নতুন কিছু নয়। এবার সেই উত্তপ্ত মাটি আবারও রক্তাক্ত হলো তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে। অনুব্রত মণ্ডল ও কাজল শেখের জেলা হিসেবে পরিচিত বীরভূমের কাঁকরতলা থানার বড়রা গ্রামে শুক্রবার রাতে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে প্রাণ হারালেন এক কর্মী। স্থানীয়দের অভিযোগ, তাঁকে বাইক থেকে নামিয়ে পাথর দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

রক্তাক্ত রাত, পথ আটকে হামলা

নিহত তৃণমূল কর্মীর নাম শেখ নিয়ামুল। শুক্রবার রাতে বড়রা বাসস্ট্যান্ড থেকে বাইকে করে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। বড়রা গ্রামের গরিবপাড়া এলাকায় পৌঁছতেই কয়েকজন দুষ্কৃতী তাঁর পথ আটকে দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, নিয়ামুলকে প্রথমে বাইক থেকে নামিয়ে আনা হয়, এরপর পাথর, রড ও লাঠি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করা হয়। ঘটনাস্থলেই তিনি রক্তাক্ত হয়ে লুটিয়ে পড়েন।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কাঁকরতলা থানার পুলিশ। তাঁকে উদ্ধার করে সিউড়ি সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

বালির ‘বখরা’ নিয়ে সংঘর্ষ, শাসকদলের অস্বীকার

বীরভূমের কাঁকরতলা অঞ্চল বেশ কিছুদিন ধরেই উত্তপ্ত। বালির ‘বখরা’ নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছে শাসক দলের দুই গোষ্ঠী। কয়েকদিন আগেই জামালপুর গ্রামে বালির ভাগাভাগি নিয়ে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বোমাবাজির ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় দুইজন আহত হন এবং পরে কাঁকরতলা থানার ওসি-কে সরিয়ে দেওয়া হয়। দায়িত্ব পান দুবরাজপুরের সিআই শুভাশিস হালদার।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিয়ামুলের মৃত্যু সেই সংঘর্ষেরই পরবর্তী ধাপ হতে পারে। তবে শাসকদলের নেতারা এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন। তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বের বক্তব্য, এটি রাজনৈতিক সংঘর্ষ নয়, ব্যক্তিগত শত্রুতার ফল।

কাঁকরতলা: রাজনৈতিক সংঘর্ষের নতুন কেন্দ্র

বীরভূমের রাজনীতিতে কাঁকরতলা ক্রমশ একটি সংঘর্ষ-বিধ্বস্ত অঞ্চলে পরিণত হচ্ছে। এই বছরের শুরু থেকেই এখানে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর লড়াই বারবার রক্তাক্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। কিছুদিন আগেই কাঁকরতলা থানার অন্তর্গত এলাকায় তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে একজনের পা উড়ে গিয়েছিল বোমার আঘাতে।

এবার আরও এক তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও পুলিশের পদক্ষেপ

নিয়ামুলের মৃত্যুর পর থেকেই পুলিশি টহলদারি জোরদার করা হয়েছে কাঁকরতলা ও আশপাশের এলাকায়। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়নি।

বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি তৃণমূলের এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে সরব হয়েছে। বিজেপির দাবি, তৃণমূল এখন পুরোপুরি মাফিয়া রাজনীতিতে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে, সিপিএমের মতে, এই ধরণের হিংসা দেখিয়ে শাসকদল নিজেরাই নিজেদের শক্তি ক্ষয় করছে।

শেষ কথা

বীরভূমে রাজনৈতিক সংঘর্ষ নতুন নয়, তবে তৃণমূলের নিজস্ব গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব যে ক্রমশ ভয়াবহ হয়ে উঠছে, তা স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে একের পর এক ঘটনা থেকে। নিয়ামুলের মৃত্যু কি শুধুই ব্যক্তিগত শত্রুতার ফল, নাকি আরও বড় কোনও সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে?

এর উত্তর হয়তো মিলবে পুলিশের তদন্তের পর, কিন্তু ততদিন পর্যন্ত আতঙ্কের ঘন মেঘ ঘিরে থাকবে কাঁকরতলার আকাশ।

গবেষণার আড়ালে সামরিক পরিকল্পনা? সমুদ্রের গভীরে চিনের রহস্যময় কেন্দ্র ঘিরে উদ্বেগ

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *