ডিগ্রি পেলেও ‘সিজারের’ ভয়?
পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিক স্বপন সোরেন সম্প্রতি এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে (মেডিক্যাল এডুকেশন ডে) উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, অনেক জুনিয়র ডাক্তার নীরস পরিজ্ঞান অতিক্রমেও ‘সিজার’ বা প্রসূতি অপারেশন করতে পারছেন না ।
জুনিয়রদের সীমাবদ্ধতা
- ইন্টার্নশিপ শেষে সমস্যা: প্রথমে ইন্টার্নশিপে পাঠানো হার্ড ট্রেনিং শেষেঅপ সুচিপত্রে স্বাক্ষর দেওয়া হয়, কিন্তু পরে দেখা যাচ্ছে অনেকেই অস্ত্রোপচারে যুক্ত হতে ভয় পাচ্ছেন বা লেবার রুমে উপস্থিত হতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন ।
- স্বাস্থ্য অধিকর্তার কড়া ভাষ্য: স্বপন সোরেন মন্তব্য করেন, “যতক্ষণ না জুনিয়ররা হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা নিয়ে সিজার করতে সক্ষম হচ্ছেন না, ততক্ষণ তাদের সনদে স্বাক্ষর দেবার আগে সতর্ক হওয়া উচিত” ।
সমস্যা চিহ্নিত করলেন বিভাগীয় প্রধান
নীতিগত ভাবেই, কলেজ ও হাসপাতালের প্রধান চিকিৎসকরা শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শেখানোর ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ইন্দিরা দে (কলেজ অধ্যক্ষ) বলেন—“চিকিৎসা উন্নত হচ্ছে, তাই প্রতিযোগিতার দিক মাথায় রেখে শিক্ষাদান কাঠামো উন্নয়ন করা প্রয়োজন” ।
কেন সমস্যা গুরুতর?
- নারীর নিরাপত্তা: নারীর প্রসবকালীন নিরাপত্তায় সিজার একটি কঠিন কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা পদ্ধতি। অভ্যাসবিহীন সিজার ডাক্তারদের কারণে অসুস্থ মায়েদের অপারেশন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
- নির্ভরতার ঘাটতি: নির্ভরযোগ্য অভিজ্ঞ ডাক্তারের অভাব দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা এবং গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
করণীয় কি?
- ইন্টার্নশিপে পর্যালোচনা: রোগীর নিরাপত্তাজনিত কারণেই প্রশিক্ষণ শেষে দক্ষতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত সনদ না দেওয়াই বাঞ্ছনীয়।
- মান্দণ্ড নির্ধারণ: সিজার পরিচালনায় নির্দিষ্ট সংখ্যক সফল অভিজ্ঞতা অর্জনের নিয়ম অনুসরণ করা উচিত।
- অভিজ্ঞ কাজ: শিক্ষানবিশদের সমস্যায় অভিজ্ঞ ডাক্তারদের পথপ্রদর্শন জরুরি, যাতে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
উপসংহার
ডিগ্রি থাকলেই দক্ষতা নিশ্চিত নয়—স্বাস্থ্য বিভাগের তেমন ভাবনা প্রকাশে প্রশাসন বুঝতে পারছে, রোগীর জীবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে কেবল বইয়ের নয়, বাস্তব অভিজ্ঞতার গুরুত্ব অপরিসীম। অভিনব ও প্রगतিশীল সংস্কারের মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের জুনিউর ডাক্তারদের দক্ষতা দিন দিন বাড়তে থাকুক—এটাই এখন সময়ের দাবি।
গোপালগঞ্জে উত্তেজনা: ‘নাইন সিরকার’ ওসাম চারজনের মৃত্যু, কারফিউ জারি