ট্রাম্পের যুদ্ধনীতি ঘিরে নতুন বিতর্ক!
ইরানকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে আবারও মার্কিন রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন Donald Trump। যুদ্ধ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে তাঁর ক্ষমতা সীমিত করার একটি প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত খারিজ করে দিল মার্কিন আইনসভার নিম্নকক্ষ। ফলে আপাতত ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের অবস্থান আরও শক্ত হল।
হাউসের ভোটে অল্প ব্যবধানে প্রস্তাব খারিজ
বৃহস্পতিবার মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ United States House of Representatives-এ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তোলা হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নাকি কংগ্রেসকে না জানিয়েই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিচ্ছেন। তাই তাঁর যুদ্ধসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সীমিত করার দাবি তোলেন বিরোধী সদস্যরা।
এই প্রস্তাবটি পেশ করেন এক রিপাবলিকান এবং এক ডেমোক্র্যাট সদস্য। তবে ভোটাভুটির শেষে দেখা যায়, প্রস্তাবটি অল্প ব্যবধানে খারিজ হয়ে যায়।
- প্রস্তাবের পক্ষে ভোট: ২১২
- প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট: ২১৯
মাত্র সাত ভোটের ব্যবধানে প্রস্তাবটি খারিজ হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে এটি বড় স্বস্তির খবর।
সেনেটেও একই ফল
এর আগেই মার্কিন আইনসভার উচ্চকক্ষ United States Senate-এ একই ধরনের প্রস্তাব নিয়ে ভোটাভুটি হয়েছিল। সেখানেও প্রেসিডেন্টের যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার উদ্যোগ সফল হয়নি।
সেনেটে ভোটের ফলাফল ছিল—
- পক্ষে: ৪৭ ভোট
- বিপক্ষে: ৫৩ ভোট
ফলে উচ্চকক্ষেও প্রস্তাবটি বাতিল হয়ে যায়। দুই কক্ষেই সমর্থন না পাওয়ায় প্রেসিডেন্টের সামরিক সিদ্ধান্তে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর চেষ্টা আপাতত ব্যর্থ।
বিরোধীদের উদ্বেগ
ডেমোক্র্যাটদের অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট একতরফাভাবে বড় সামরিক অভিযান চালাতে পারেন কি না। তাঁদের মতে, এমন সিদ্ধান্তে আইনসভার ভূমিকা আরও স্পষ্ট হওয়া উচিত।
তবে রিপাবলিকানদের একটি বড় অংশ মনে করছে, আন্তর্জাতিক সংকটের সময় প্রেসিডেন্টের হাতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকা জরুরি। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের মতো অস্থির অঞ্চলে সামরিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে বিলম্ব হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
এই উত্তেজনার মধ্যেই বিভিন্ন দেশ নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে শুরু করেছে।
- স্পেনের প্রধানমন্ত্রী Pedro Sánchez লেবাননের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন এবং লেবাননের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।
- নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে তেহরানে নিজেদের দূতাবাস সাময়িকভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে Italy।
এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাত কত দিন চলবে, সেই সময়সীমা নির্ধারণ করবে যুক্তরাষ্ট্রই।
সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও মার্কিন রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে। কংগ্রেসের দুই কক্ষেই প্রস্তাব খারিজ হওয়ায় আপাতত যুদ্ধসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান আরও শক্তিশালী হল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?