‘প্রেমের চোখে কেউ দেখেনি, শুধু গাল টিপে আদর করত!’ পুজোর স্মৃতিতে আক্ষেপ অম্বরীশের

পুজোর স্মৃতিতে আক্ষেপ অম্বরীশের! ছোটবেলার দুর্গাপুজো মানেই উত্তর কলকাতার পাড়ার নাটক, মাসখানেক ধরে মহড়া, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা আর জমিয়ে খাওয়াদাওয়া। অভিনেতা অম্বরীশ ভট্টাচার্যের পুজোর স্মৃতিতে যেমন রয়েছে মঞ্চে প্রথম অভিনয়ের…

October 12, 2026
1 min read

পুজোর স্মৃতিতে আক্ষেপ অম্বরীশের!

ছোটবেলার দুর্গাপুজো মানেই উত্তর কলকাতার পাড়ার নাটক, মাসখানেক ধরে মহড়া, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা আর জমিয়ে খাওয়াদাওয়া। অভিনেতা অম্বরীশ ভট্টাচার্যের পুজোর স্মৃতিতে যেমন রয়েছে মঞ্চে প্রথম অভিনয়ের রোমাঞ্চ, তেমনই রয়েছে প্রেম না পাওয়ার মজার আক্ষেপ। তাঁর কথায়, বন্ধুরা প্রেম করলেও কেউ কোনও দিন তাঁকে প্রেমের চোখে দেখেননি। এখনও নাকি সেই পরিস্থিতির বদল হয়নি!

পাড়ার মঞ্চেই অভিনয়ে হাতেখড়ি

অম্বরীশের ছোটবেলার পুজো কাটত উত্তর কলকাতার বারোয়ারি পুজোয়। চার দিনের উৎসবে অন্তত তিন দিন নাটক হত। কখনও মহিলারা পুরুষ চরিত্রে অভিনয় করতেন, কখনও মঞ্চে উঠত ছোটরা, আবার কোনও দিন সবাই মিলে নাটকে অংশ নিতেন। তাঁর বাবা নাটক পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

পুজোর প্রায় এক মাস আগে থেকেই শুরু হয়ে যেত মহড়া। কখনও বিভিন্ন বাড়িতে বসত সেই আসর, কখনও চলত পোশাক ও মঞ্চসজ্জা তৈরির কাজ। এই প্রস্তুতির মধ্যেই তৈরি হয়েছিল অম্বরীশের অভিনয়ের প্রতি টান।

তবে প্রথম দিকে মঞ্চে ওঠার কথা ভাবতেই ভয় পেতেন তিনি। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় ‘গুলশান’ নামে একটি নাটকে অভিনয়ের সুযোগ পান। পাড়ার ধ্রুবকাকু তাঁকে সাহস জুগিয়েছিলেন। সপ্তমীর দিন মঞ্চে ওঠার আগে প্রচণ্ড ভয় করছিল তাঁর। কিন্তু প্রথম দৃশ্যেই দর্শকের হাততালি সব বদলে দেয়। অম্বরীশের উপলব্ধি হয়েছিল, অভিনয়ই তাঁর জায়গা।

প্রেমের বদলে জুটত গাল টিপে আদর!

পুজোর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে প্রেমের প্রসঙ্গও তুলেছেন অভিনেতা। ছোটবেলায় বন্ধুদের প্রেম করতে দেখতেন তিনি। কিন্তু নিজের জীবনে প্রেমের অভিজ্ঞতা হয়নি বলেই জানালেন অম্বরীশ। তাঁর আক্ষেপ, কেউ তাঁকে প্রেমের চোখে দেখেননি। বরং কেউ তাঁর দিকে এগিয়ে এলে গাল টিপে আদর করে দিতেন!

মজার ছলেই অম্বরীশের মন্তব্য, জীবনে অনেক বড় বড় অভিনেতার সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি, কিন্তু প্রেমের ভাগ্যটা বোধহয় তাঁর নেই। এখনও কেউ তাঁকে সে ভাবে দেখেন না বলেই রসিকতা করেছেন অভিনেতা। তাঁর কথায়, জীবনে নানা ধরনের ভাগ্য নিয়ে মানুষ আসে, আর প্রেমের ক্ষেত্রে তাঁর কপালটা তেমনই!

ষষ্ঠীর নিরামিষ থেকে নবমীর পাঁঠার মাংস

অভিনয়ের পাশাপাশি পুজোর খাওয়াদাওয়াও অম্বরীশের কাছে বিশেষ আকর্ষণের। আগে একসঙ্গে দু’প্লেট বিরিয়ানি খেয়ে ফেলতেন, এখন অবশ্য অর্ধেক প্লেট খেতেও কষ্ট হয় বলে জানিয়েছেন তিনি। তবু পুজোর চার দিনের খাবারের তালিকা নিয়ে তাঁর উৎসাহে খামতি নেই।

ষষ্ঠীতে নিরামিষের আয়োজন—নবরত্ন তরকারি, কড়াইশুঁটির ডাল, হালকা পোলাও, ছানা বা ধোঁকা। আর শেষ পাতে রাবড়ি চাই-ই চাই। সপ্তমীতে দই-কাতলা ও সর্ষে ইলিশের সঙ্গে ভাত বা পোলাও, তার পর রসমালাই ও নরমপাকের সন্দেশ।

অষ্টমীর ভোগে থাকবে খিচুড়ি, লাবড়া, কষা আলুর দম, বোঁদে, চাটনি, পাপড় ও মিষ্টি। নবমীর বিশেষ পদ সাদা ভাত, ডাল ও পাঁঠার মাংস। দশমীতে মন খারাপের দিনে নিরামিষ খেলেও মিষ্টান্ন চাই প্রচুর। এই খাবারের তালিকাই তাঁর কাছে পুজোর চেনা রুটিন।

আগে সন্ধ্যায় রাস্তার ধারের চাউমিন, এগ রোল, ফিশ ফিঙ্গার ও বিরিয়ানিও ছিল পুজোর অবিচ্ছেদ্য অংশ।

এ বার পুজোয় আড্ডা, পরিবার আর বিশ্রাম

পুজোয় সাজগোজ নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামান না অম্বরীশ। গরম ও ঘামের কথা ভেবে হালকা পাঞ্জাবি, ফতুয়া বা টি-শার্টেই স্বচ্ছন্দ তিনি। এ বারও পুজোর বেশির ভাগ সময় বিশ্রাম, পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে কাটানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। ষষ্ঠীতে পরিক্রমা, সপ্তমীতে একটি অনুষ্ঠান, তার পর বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা ও আত্মীয়দের বাড়িতে নিমন্ত্রণ। কখনও রাতে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে দূর থেকে পুজোর ভিড় দেখেন।

নাটকের মঞ্চ থেকে অভিনয়ের জগৎ—অম্বরীশের জীবনে অনেক বদল এলেও পাড়ার পুজোর স্মৃতি, খাবারের প্রতি ভালবাসা আর প্রেম না পাওয়ার মজার আক্ষেপ আজও অমলিন।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *