আজ শতকোটির সম্পদের মালকিন কৃতি সেনন!
বলিউডের অন্যতম সফল অভিনেত্রী কৃতি সেননের জন্মদিনে ফের সামনে এল তাঁর সংগ্রামের গল্প। আজ তিনি জাতীয় পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী, সফল উদ্যোক্তা এবং কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালকিন। কিন্তু এই সাফল্যের পথ মোটেও সহজ ছিল না। নিরাপদ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চাকরি ছেড়ে অভিনয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে মুম্বইয়ে পাড়ি দিয়েছিলেন তিনি। সেই সিদ্ধান্তই বদলে দেয় তাঁর জীবন।
দিল্লিতে বড় হওয়া কৃতি ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় মেধাবী ছিলেন। পরিবারের ইচ্ছা ছিল, তিনি একজন সফল ইঞ্জিনিয়ার হবেন। সেই লক্ষ্যেই ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করে একটি চাকরির সুযোগও পেয়েছিলেন। কিন্তু অভিনয়ের প্রতি প্রবল আগ্রহ তাঁকে অন্য পথ বেছে নিতে বাধ্য করে। চাকরির নিরাপদ ভবিষ্যৎ ছেড়ে তিনি চলে আসেন মুম্বইয়ে, যেখানে শুরু হয় এক কঠিন লড়াই।
চলচ্চিত্র জগতের কোনও পারিবারিক পরিচয় ছিল না তাঁর। শুরুতে বিজ্ঞাপনে কাজ করলেও বড় পর্দায় সুযোগ পাওয়া সহজ হয়নি। একাধিক অডিশনে ব্যর্থ হতে হয়েছে। এমনকি একবার তাঁকে বলা হয়েছিল, তিনি নাকি ‘খুব বেশি সুন্দর’, তাই কোনও নির্দিষ্ট চরিত্রের সঙ্গে তাঁকে মানানসই মনে হয়নি। এমন মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই তাঁকে হতাশ করেছিল। তবে সেই প্রত্যাখ্যানই তাঁকে আরও দৃঢ় করে তোলে।
২০১৪ সালে টাইগার শ্রফের বিপরীতে ‘হিরোপন্তি’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন কৃতি। প্রথম ছবিতেই নজর কেড়েছিলেন তিনি। এরপর ‘বরেলি কি বরফি’, ‘লুকা ছুপি’, ‘হাউসফুল ৪’, ‘দিলওয়ালে’-সহ একাধিক ছবিতে ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দেন।
তবে তাঁর কেরিয়ারের সবচেয়ে বড় মোড় আসে ‘মিমি’ ছবির মাধ্যমে। সারোগেট মায়ের চরিত্রে অসাধারণ অভিনয়ের জন্য কৃতি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। সমালোচক থেকে দর্শক— সকলের প্রশংসা কুড়িয়ে এই ছবিই তাঁকে বলিউডের প্রথম সারির অভিনেত্রীদের তালিকায় স্থায়ী জায়গা করে দেয়।
এক সাক্ষাৎকারে কৃতি জানিয়েছিলেন, সংগ্রামের সময় বহুবার ভেঙে পড়েছিলেন। কাজ না পেয়ে কেঁদেছেনও। তবে কিছু মানুষের অটুট বিশ্বাস এবং নিজের আত্মবিশ্বাসই তাঁকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। তিনি মনে করেন, প্রত্যাখ্যানকে ভয় না পেয়ে নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকাই সাফল্যের সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি।
অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যবসাতেও নিজের পরিচয় তৈরি করেছেন কৃতি। তিনি স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ড ‘Hyphen’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা। এছাড়া ‘The Tribe’ নামে একটি ফিটনেস ও ওয়েলনেস সংস্থার সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন। পাশাপাশি একাধিক নামী ব্র্যান্ডের মুখ হিসেবেও নিয়মিত কাজ করেন তিনি।
বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, কৃতির মোট সম্পদের পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ৮২ থেকে ১০০ কোটি টাকা। একটি ছবির জন্য তিনি প্রায় ৪ থেকে ৮ কোটি টাকা পারিশ্রমিক নেন। অভিনয়, ব্যবসা এবং ব্র্যান্ড এন্ডোর্সমেন্ট— তিন ক্ষেত্রেই সমান সাফল্য অর্জন করে কৃতি সেনন প্রমাণ করেছেন, স্বপ্নের পথে সাহস করে হাঁটলে সাফল্য একদিন ধরা দিতেই পারে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?