ছাদের ‘সেটিং’-এ গলছে নিরাপত্তা!
কলকাতার আকাশছোঁয়া বিল্ডিংগুলোর ছাদে বসে এখন শুধু চা-কফি নয়, জ্বলছে ঝুঁকি আর আতঙ্কের আগুনও! বড়বাজারের ভয়াবহ আগুনে যখন ১৪টি প্রাণ নিভে গেল, তখন ঘুম ভাঙল প্রশাসনের। আর তাতেই ফাঁস হল শহরের এক বিপজ্জনক বাস্তব—কম করে হলেও ৫০০-র বেশি ছাদে চলছে পানশালা ও রেস্তরাঁ। অথচ এই ‘ছাদের ব্যবসা’ যে কতটা অসুরক্ষিত, তা এতদিন যেন কেউ দেখতে পাননি!
কলকাতা পুলিশের দেওয়া চিঠিতে ৮৩টি ঠিকানার কথা বলা হলেও দমকল বলছে, এই সংখ্যা অনেক গুণ বেশি। সম্প্রতি চালানো সমীক্ষায় উঠে এসেছে ৫০০-রও বেশি ছাদ রেস্তরাঁর তথ্য। প্রশ্ন উঠছে—কোথায় ছিল এতদিনের তদারকি? আর এখন হঠাৎ সক্রিয়তা দেখিয়ে সব ঠিক হবে তো?
🌆 ছাদে জমজমাট ব্যবসা, কিন্তু নিয়মের ছিটেফোঁটা?
রেস্তরাঁ ও পানশালার মালিকদের অভিযোগ, তাদের ‘টার্গেট’ করা হচ্ছে। অনেকে বলছেন, পুরসভা ও দমকলের বৈধ অনুমতিপত্র তাদের রয়েছে। এক মালিক ক্ষোভ উগরে বলেন, “ঠগ বাছতে গাঁ উজাড় করে ফেলছে প্রশাসন! সব জায়গায় ব্যবসা বন্ধ হবে তো?”
দমকল ও পুরসভা কিন্তু বলছে, এবার আর রেয়াত নয়। শীর্ষ মহলের কড়া নির্দেশ অনুযায়ী, একযোগে শুরু হয়েছে অভিযান। উত্তর কলকাতায় চলছে ছ’টি এবং দক্ষিণ কলকাতায় সাতটি দমকল টিমের তল্লাশি। প্রতি টিমকে নির্দিষ্ট এলাকায় গিয়ে রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
🚫 অনুমতি তো ছিল, কিন্তু নিরাপত্তা?
পুরসভার দাবি, কোনও ভবনের ছাদ ‘কমন এরিয়া’ বা সবার জন্য উন্মুক্ত হিসেবে অনুমোদিত থাকে। সেখানে ব্যবসা করা বা তালা ঝুলিয়ে রাখা সম্পূর্ণ বেআইনি। তা সত্ত্বেও কোথাও চলছে রেস্তরাঁ, কোথাও আবার পুরো ছাদটাই বন্ধ!
দমকলের মতে, অনেক জায়গায় শুধু পুরসভার ছাড়পত্র নিয়েই চালানো হচ্ছে দাহ্য বস্তু মজুত করে ব্যবসা। অথচ আগুন লাগলে ছাদ থেকে বেরনোর পথ কোথায়, ধোঁয়া বেরোবে কোন দিক দিয়ে, দমকল নামবে কীভাবে—তার কোনও প্রস্তুতি নেই।
⚠️ হানা দিলেও ‘সাজিয়ে-গুছিয়ে’ ফেলা হয় সব!
ফায়ার সার্ভিস আইনে হানা দেওয়ার আগে নোটিস দিতে হয়। ফলে আগেই খবর পেয়ে রাতারাতি গুছিয়ে নেওয়া হয় অবৈধ ব্যবস্থা। এক দমকল কর্তা বলেন, “চোখের সামনে সব ঠিকঠাক দেখালেও ফিরে যাওয়ার পরে আবার সেই আগের মতন সব চলে।”
তিনি আরও জানান, “বড়বাজার কাণ্ডের পর গত দু’দিনে অন্তত ৮০টি জায়গা চিহ্নিত করেছি, যেখানে আমরা কিছুদিন আগেই ছাড়পত্র দিয়েছি, কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে বেআইনি নির্মাণ গজিয়ে উঠেছে।”
🔍 তাহলে এতদিন প্রশাসন কী করছিল?
এটাই বড় প্রশ্ন। স্থানীয় থানাগুলো মাঝে মধ্যে কিছু তৎপরতা দেখালেও পরে সব কিছুই ‘সেটিং’-এর জাদুতে হাওয়া হয়ে যায় বলে অভিযোগ। পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা বলছেন, “পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে অবৈধতা চিহ্নিত করতে পারে না। পুরসভা ও দমকলকে আগে এগোতে হবে। তবে এখন সমস্ত থানাকে বিশেষ নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
শেষ কথা:
১৪টি প্রাণ নিভে যাওয়ার পর যদি প্রশাসন জেগে ওঠে, তাহলে প্রশ্ন থেকে যায়—কতটা মানবিক এই জাগরণ? শহরের ছাদে আর যেন গড়ে না ওঠে মৃত্যুর মঞ্চ, এটাই এখন সকলের দাবি।
চোট উপেক্ষা করে সোনা! পুণেতে ঋতু ও প্রতিষ্ঠার জিমন্যাস্টিকে স্বর্ণোজ্জ্বল লড়াই