চা খাওয়ার এই ৪ ভুলেই হতে পারে শরীরের ক্ষতি!
সকাল শুরু হোক বা কাজের ফাঁকে একটু বিরতি—চায়ের কাপ অনেকের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। চায়ে থাকা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ও বিভিন্ন উপকারী যৌগের কারণে পরিমিত চা পান স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের অংশ হতে পারে। তবে শুধু কী চা খাচ্ছেন, তা নয়—কখন এবং কী ভাবে খাচ্ছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। কিছু সাধারণ ভুলের কারণে চায়ের উপকারের বদলে শরীরে সমস্যা তৈরি হতে পারে।
খাবার খেয়েই চা নয়
দুপুরের খাবার শেষ করেই এক কাপ চা—এই অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। কিন্তু খাবারের সঙ্গে বা খাওয়ার পরপর চা পান করলে বিশেষত উদ্ভিজ্জ খাবার থেকে শরীরে আয়রন শোষণে বাধা তৈরি হতে পারে। যাঁদের আয়রনের ঘাটতি বা রক্তাল্পতা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ।
আয়রনসমৃদ্ধ খাবার কিংবা আয়রনের ওষুধ খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চা বা কফি না খাওয়াই ভাল। অন্তত এক থেকে দুই ঘণ্টার ব্যবধান রাখা যেতে পারে।
চায়ে বেশি চিনি মেশাবেন না
চা নিজে খুব বেশি ক্যালোরিযুক্ত না হলেও তাতে বার বার এক-দুই চামচ করে চিনি মেশালে দিনের শেষে অতিরিক্ত চিনি শরীরে ঢুকে যেতে পারে। দিনে একাধিক বার চা খাওয়ার অভ্যাস থাকলে পরিমাণটি আরও বেড়ে যায়।
হঠাৎ চিনি পুরোপুরি বাদ দেওয়া কঠিন হলে ধীরে ধীরে পরিমাণ কমানো যেতে পারে। অভ্যাস হয়ে গেলে চিনি ছাড়াও চায়ের স্বাদ উপভোগ করা সম্ভব।
ধোঁয়া ওঠা গরম চা এড়িয়ে চলুন
গরম চায়ের কাপে চুমুক দিতে ভাল লাগলেও একেবারে ধোঁয়া ওঠা বা প্রায় ফুটন্ত অবস্থায় চা পান করা ঠিক নয়। অত্যন্ত গরম পানীয় নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস মুখ ও গলার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই চা তৈরি হওয়ার পর কয়েক মিনিট অপেক্ষা করে কিছুটা ঠান্ডা করে পান করাই ভাল।
চায়ের স্বাদ এবং আরামের জন্য তাপমাত্রার বিষয়টি উপেক্ষা করা উচিত নয়।
খাবারের বদলে শুধু চা নয়
ওজন কমানোর জন্য কেউ কেউ খাবারের পরিবর্তে বার বার চা পান করেন। এতে সাময়িক ভাবে পেট ভরা মনে হলেও প্রয়োজনীয় পুষ্টি শরীরে পৌঁছয় না। চায়ে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট থাকলেও তা কখনও সুষম খাবারের বিকল্প হতে পারে না।
অতিরিক্ত চা পান করলে আবার কিছু মানুষের হজমের অস্বস্তি বা অন্যান্য সমস্যা হতে পারে। তাই চা যতই পছন্দের পানীয় হোক, খাবারের জায়গা তার নয়।
চা পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং খাবারের পরপর চা না খাওয়া, অতিরিক্ত চিনি এড়ানো, খুব গরম চা না পান করা এবং খাবারের পরিবর্তে চাকে বেছে না নেওয়া—এই কয়েকটি অভ্যাস মনে রাখলেই চা পানের রুটিন আরও ভারসাম্যপূর্ণ রাখা সম্ভব।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।