বেকারত্ব মাত্র ০.৯ শতাংশ! দেশের শীর্ষে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কোন জেলার অবস্থা কেমন?

বেকারত্ব মাত্র ০.৯ শতাংশ! দেশের কর্মসংস্থানের ছবিকে এত দিন মূলত রাজ্য বা জাতীয় স্তরের পরিসংখ্যানেই দেখা হত। কিন্তু এ বার জেলার হিসাব সামনে আসায় সেই ছবিটাই আরও স্পষ্ট হয়েছে। কোথায়…

September 22, 2026
1 min read

বেকারত্ব মাত্র ০.৯ শতাংশ!

দেশের কর্মসংস্থানের ছবিকে এত দিন মূলত রাজ্য বা জাতীয় স্তরের পরিসংখ্যানেই দেখা হত। কিন্তু এ বার জেলার হিসাব সামনে আসায় সেই ছবিটাই আরও স্পষ্ট হয়েছে। কোথায় বেকারত্ব কম, কোথায় বেশি, কোন জেলায় শ্রমশক্তিতে মানুষের অংশগ্রহণ বেশি এবং যুবসমাজের কতটা অংশ কাজ, পড়াশোনা বা প্রশিক্ষণের বাইরে— নতুন পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে তার বিস্তারিত ছবি।

কেন্দ্রীয় সরকারের জাতীয় পরিসংখ্যান দফতর বা NSO-এর প্রকাশিত নির্বাচিত জেলা-ভিত্তিক শ্রমবাজারের তথ্য অনুযায়ী, দেশের সবচেয়ে জনবহুল ১০০টি জেলার মধ্যে সবচেয়ে কম বেকারত্বের হার দেখা গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং বিহারের অরারিয়ায়। দুই জেলাতেই বেকারত্বের হার ০.৯ শতাংশ। সরকারি পরিসংখ্যান মন্ত্রক ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ নির্বাচিত জেলার শ্রমবাজার নিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

এর পরেই রয়েছে গুজরাতের অহমদাবাদ। সেখানে বেকারত্বের হার ১.১ শতাংশ। গুজরাতের সুরত ও বনাসকাঁঠা এবং উত্তরপ্রদেশের বরেলী ও বুলন্দশহরে এই হার ১.২ শতাংশ। কর্নাটকের বেলগাভী এবং মহারাষ্ট্রের পালঘর ও নানদেডে বেকারত্বের হার ১.৫ শতাংশ বলে দেওয়া হয়েছে।

তবে জেলার শ্রমবাজারের ছবি শুধু বেকারত্বের হার দিয়ে বোঝা যায় না। শ্রমশক্তিতে কত জন অংশ নিচ্ছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। এই সূচকে দেশের ১০০টি সর্বাধিক জনবহুল জেলার মধ্যে গুজরাতের সুরত এগিয়ে। ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সিদের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার সেখানে ৬৮.৬ শতাংশ। কর্মী-জনসংখ্যা অনুপাত বা WPR-ও ৬৭.৮ শতাংশ।

সুরতের পরেই রয়েছে বিহারের অরারিয়া। সেখানে শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার ৬৮ শতাংশ। তামিলনাড়ুর সালেমে এই হার ৬৭.৮ শতাংশ। অন্য দিকে, এই তালিকায় কর্মসংস্থানের সূচকে সবচেয়ে নিচের দিকে রয়েছে বিহারের দ্বারভাঙা।

নারীদের শ্রমবাজারে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও জেলার মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৫৮ শতাংশ জেলায় নারীদের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার অন্তত ৪০ শতাংশ।

নারী শ্রমশক্তি অংশগ্রহণের হারে উল্লেখযোগ্য জায়গায় রয়েছে হিমাচল প্রদেশের হামীরপুর। সেখানে হার ৮০.৯ শতাংশ। ওড়িশার ময়ূরভঞ্জে তা ৭১.৮ শতাংশ, জম্মু ও কাশ্মীরের বডগামে ৭১.৪ শতাংশ এবং ছত্তীসগঢ়ের সুরগুজায় ৬৯ শতাংশ।

অন্য দিকে, পূর্ব দিল্লিতে নারী শ্রমশক্তি অংশগ্রহণের হার ১৮.৯ শতাংশ। বিহারের সিওয়ানে ২৪.৭ শতাংশ এবং পঞ্জাবের পটিয়ালায় ৩৯.৩ শতাংশ।

যুবসমাজের ক্ষেত্রেও জেলার ছবিতে পার্থক্য স্পষ্ট। ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সিদের মধ্যে কত জন কাজ, পড়াশোনা বা কোনও প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত নন, সেই তথ্যও রিপোর্টে রয়েছে। প্রায় ৭৬.২ শতাংশ জেলায় এই হার ৩০ শতাংশের নীচে। তবে প্রায় ২৩.৭ শতাংশ জেলায় তা ৩০ শতাংশের বেশি।

১০০টি সর্বাধিক জনবহুল জেলার মধ্যে এই সূচকে কেরলের এরনাকুলামে হার সবচেয়ে কম— ৯.৬ শতাংশ। তামিলনাড়ুর কোয়েম্বত্তুরে ১৪.৫ শতাংশ এবং কর্নাটকের বেঙ্গালুরুতে ১৫ শতাংশ।

অর্থাৎ, দেশের শ্রমবাজারের ছবিতে এক জেলার সঙ্গে অন্য জেলার যথেষ্ট ফারাক রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ০.৯ শতাংশ বেকারত্বের হার যেমন একটি উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান, তেমনই নারী ও যুবসমাজের শ্রমবাজারে অংশগ্রহণের তথ্যও দেখাচ্ছে যে কর্মসংস্থানের বাস্তব ছবি বুঝতে শুধু জাতীয় বা রাজ্যস্তরের পরিসংখ্যান যথেষ্ট নয়। জেলার স্তরের তথ্য সেই ছবিকে আরও খুঁটিনাটি ভাবে বুঝতে সাহায্য করছে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *