অভিশপ্ত রাস্তা’র ভয়ে বিয়ে ভাঙছে! মির্জ়াপুরের গ্রামে পাত্রপাত্রীর খোঁজ মিলছে না

মির্জ়াপুরের গ্রামে পাত্রপাত্রীর খোঁজ মিলছে না! ভাঙাচোরা রাস্তা যে কোনও এলাকার মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে কতটা কঠিন করে তুলতে পারে, তারই এক অদ্ভুত উদাহরণ উত্তরপ্রদেশের মির্জ়াপুরের দান্তি ও গৌরা ভিসেন এলাকার…

September 22, 2026
1 min read

মির্জ়াপুরের গ্রামে পাত্রপাত্রীর খোঁজ মিলছে না!

ভাঙাচোরা রাস্তা যে কোনও এলাকার মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে কতটা কঠিন করে তুলতে পারে, তারই এক অদ্ভুত উদাহরণ উত্তরপ্রদেশের মির্জ়াপুরের দান্তি ও গৌরা ভিসেন এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগের রাস্তার এমনই বেহাল দশা যে এখন তার প্রভাব পড়ছে সামাজিক জীবনেও। এমনকি বিয়ের প্রস্তাব নিয়েও সমস্যায় পড়ছেন গ্রামের যুবক-যুবতীরা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বছরের পর বছর ধরে দান্তি এবং গৌরা ভিসেনের মধ্যে সংযোগকারী রাস্তাটি কার্যত চলাচলের অনুপযোগী। পাথুরে, দুর্গম এই পথে গাড়ি নিয়ে যাতায়াত করা কঠিন। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়। ফলে স্কুলে যাওয়া পড়ুয়া থেকে শুরু করে অসুস্থ মানুষ— প্রত্যেককেই সমস্যায় পড়তে হয়।

গ্রামবাসীদের কথায়, খারাঞ্জা জলপ্রপাত থেকে দান্তির দূরত্ব মাত্র দু’কিলোমিটার। কিন্তু রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে ওই সামান্য পথ পাড়ি দিতেও দীর্ঘ সময় লাগে। স্থানীয়দের দাবি, এই পথ দিয়ে যাতায়াত যেন কয়েক কিলোমিটারের বদলে কয়েকশো কিলোমিটারের সমান কষ্টকর।

রাস্তা তৈরির দাবি অবশ্য নতুন নয়। বাসিন্দাদের বক্তব্য, স্বাধীনতার পর থেকেই এই রাস্তা নিয়ে দাবি জানানো হচ্ছে। বার বার মেরামতের আশ্বাস মিললেও বাস্তবে স্থায়ী সমাধান হয়নি। তাঁদের দাবি, বন বিভাগের জমি-সংক্রান্ত জটিলতার কারণেও রাস্তা নির্মাণের কাজ আটকে রয়েছে।

এই পরিস্থিতির প্রভাব এখন বিয়ের ক্ষেত্রেও পড়ছে বলে দাবি গ্রামবাসীদের। তাঁদের অভিযোগ, বাইরে থেকে কোনও পরিবার ছেলে বা মেয়ের বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে কথা বলার সময় গ্রামের নাম জানার পর অনেকেই পিছিয়ে যাচ্ছেন। কারণ, বিয়ের পর ওই গ্রামে যাতায়াত করাটাই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে বলে তাঁদের আশঙ্কা।

স্থানীয় বাসিন্দা ধীরজ মৌর্যের দাবি, রাস্তার সমস্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের কাছে আবেদন জানানো হলেও কোনও স্থায়ী ব্যবস্থা হয়নি। তাঁর কথায়, “এই রাস্তার কথা শুনলেই অনেকে বিয়ের প্রস্তাব থেকে পিছিয়ে যাচ্ছেন।” তাঁর মতে, সমস্যা এখন শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থায় সীমাবদ্ধ নেই, গ্রামের সামাজিক জীবনেও তার প্রভাব পড়ছে।

আর এক বাসিন্দা রোহিত শুক্লের দাবি, গ্রামের মানুষের মধ্যে রাস্তা নির্মাণের দাবিতে যথেষ্ট ক্ষোভ রয়েছে। খারাপ রাস্তার কারণে অনেক সময় অতিরিক্ত পথ ঘুরে যেতে হয়। জরুরি পরিস্থিতিতে এই সমস্যা আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে বলে তাঁর বক্তব্য।

রাস্তার দাবিতে গ্রামবাসীরা ইতিমধ্যেই অবস্থান-বিক্ষোভে বসেছেন। তাঁদের দাবি, দ্রুত একটি পাকা ও নিরাপদ রাস্তা তৈরি করতে হবে। তাঁদের মতে, রাস্তা ঠিক হলে শুধু যাতায়াতের সমস্যাই মিটবে না— পড়ুয়াদের স্কুলে যাওয়া, রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া এবং আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগও সহজ হবে।

রাস্তার দাবিতে ভোট বয়কটের কথাও জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, গত বছরও তাঁরা ভোট বর্জনের পথে গিয়েছিলেন এবং রাস্তা মেরামতের আশ্বাস পেয়েছিলেন। কিন্তু এখনও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি।

এখন গ্রামবাসীদের দাবি একটাই— এমন একটি রাস্তা চাই, যেটি দিয়ে সারা বছর নিরাপদে যাতায়াত করা যাবে। তাঁদের বক্তব্য, রাস্তার সমস্যার সমাধান না হলে তার প্রভাব দৈনন্দিন জীবন থেকে শুরু করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং সামাজিক সম্পর্ক— সব ক্ষেত্রেই পড়তে থাকবে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *