চাঁদের জন্মের রহস্য আজও অমীমাংসিত! পৃথিবীতে ধাক্কা মারা ‘থেইয়া’ কোথা থেকে এসেছিল?

চাঁদের জন্মের রহস্য আজও অমীমাংসিত!! মানুষ বহু আগেই চাঁদের মাটিতে পা রেখেছে। আবারও সেখানে মহাকাশচারী পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে NASA। কিন্তু এত প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পরেও চাঁদের জন্ম নিয়ে রহস্য এখনও পুরোপুরি…

May 9, 2026
1 min read

চাঁদের জন্মের রহস্য আজও অমীমাংসিত!!

মানুষ বহু আগেই চাঁদের মাটিতে পা রেখেছে। আবারও সেখানে মহাকাশচারী পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে NASA। কিন্তু এত প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পরেও চাঁদের জন্ম নিয়ে রহস্য এখনও পুরোপুরি কাটেনি। পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের এই মহাজাগতিক সঙ্গী কী ভাবে তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের গবেষণা এখনও চলছে।

১৯৬৯ থেকে ১৯৭২ সালের মধ্যে অ্যাপোলো অভিযানে চাঁদে গিয়েছিলেন ১২ জন মার্কিন নভশ্চর। তাঁরা চাঁদের মাটি ও পাথরের নমুনা পৃথিবীতে নিয়ে আসেন। সেই চন্দ্রশিলার বিশ্লেষণ থেকেই চাঁদের উৎপত্তি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা তৈরি হয়েছে। প্রথম দিকে অনেক বিজ্ঞানী মনে করতেন, পৃথিবীরই কোনও অংশ ছিটকে বেরিয়ে গিয়ে চাঁদের সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু পরে সেই তত্ত্ব দুর্বল হয়ে পড়ে।

বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় তত্ত্ব হল “জায়ান্ট ইমপ্যাক্ট থিওরি” বা মহাসংঘর্ষ তত্ত্ব। বিজ্ঞানীদের মতে, প্রায় ৪৫১ কোটি বছর আগে পৃথিবীর সঙ্গে বিশাল এক মহাজাগতিক বস্তুর সংঘর্ষ হয়েছিল। সেই বস্তুটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘থেইয়া’। সংঘর্ষ এতটাই ভয়াবহ ছিল যে পৃথিবীর বাইরের অংশের অনেকটা মহাশূন্যে ছিটকে যায়। পরে সেই ধ্বংসাবশেষ একত্রিত হয়ে তৈরি হয় চাঁদ।

এই তত্ত্ব অনুযায়ী, থেইয়ার আকার নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কেউ মনে করেন, সেটি ছিল বুধ গ্রহের মতো ছোট আকারের। আবার অন্যদের মতে, থেইয়া বর্তমান পৃথিবীর প্রায় অর্ধেকের সমান ছিল। দ্বিতীয় মতটির পক্ষে বড় যুক্তি হল— চাঁদের শিলার সঙ্গে পৃথিবীর আগ্নেয় শিলার বিস্ময়কর রাসায়নিক মিল।

নেদারল্যান্ডসের Vrije Universiteit Amsterdam-এর চন্দ্র ও গ্রহবিজ্ঞানী Wim van Westrenen এবং তাঁর দল দীর্ঘদিন ধরে এই বিষয় নিয়ে গবেষণা করছেন। তাঁদের মতে, সংঘর্ষের পরে চাঁদ ছিল এক বিশাল গলিত ম্যাগমার গোলক। গোটা চাঁদই তখন উত্তপ্ত লাভার সমুদ্রের মতো ছিল। পরে ধীরে ধীরে ঠান্ডা হয়ে শক্ত শিলায় পরিণত হয় এবং তাতে খনিজ পদার্থ তৈরি হতে শুরু করে।

বিজ্ঞানীরা মনে করেন, চাঁদের ভিতরে প্রায় ১৭০০ কিলোমিটার গভীর পর্যন্ত গলিত ম্যাগমা ছিল। চাঁদের পাথরের নমুনা বিশ্লেষণ করে সেই প্রমাণও মিলেছে। তবে সবচেয়ে বড় রহস্য এখনও রয়ে গিয়েছে— থেইয়া আসলে কোথা থেকে এসেছিল?

একাংশের মতে, সৌরজগতের অন্য কোনও অঞ্চলে থেইয়ার জন্ম হয়েছিল। আবার কেউ মনে করেন, পৃথিবীর খুব কাছাকাছি জায়গাতেই তার উৎপত্তি হয়েছিল বলেই দুই বস্তুর রাসায়নিক গঠনে এত মিল দেখা যায়। আরও একটি জটিল প্রশ্ন হল, যদি থেইয়ার ধ্বংসাবশেষ থেকেই চাঁদের সৃষ্টি হয়ে থাকে, তবে চাঁদের শিলায় পৃথিবীর উপাদানের ছাপ এত বেশি কেন?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে গবেষকেরা মনে করছেন, সংঘর্ষটি সরাসরি নয়, বরং তির্যক কোণে হয়েছিল। অর্থাৎ, থেইয়া পৃথিবীকে আংশিক ভাবে ছুঁয়ে দ্রুত সরে যায়। সেই সময় দুই মহাজাগতিক বস্তুর উপাদান মিশে গিয়ে পরে চাঁদের জন্ম দেয়।

চাঁদ নিয়ে মানুষের আগ্রহ কোনও দিনই কমেনি। নতুন মহাকাশ অভিযান, উন্নত প্রযুক্তি এবং আরও নিখুঁত গবেষণা হয়তো ভবিষ্যতে এই রহস্যের জট খুলবে। কিন্তু আপাতত পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহের জন্মকাহিনি এখনও বিজ্ঞানীদের কাছে এক রোমাঞ্চকর ধাঁধা হয়েই রয়ে গেছে।

স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *