তবুও দৃঢ় তনিমা সেন! পুজোয় নতুন পোশাক নয়, বরং অন্য দায়িত্বে মন অভিনেত্রীর
দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ অভিনেত্রী তনিমা সেনকে ছোটপর্দায় প্রায় সবাই চেনেন। কখনও খলনায়িকার রূপে, কখনও আবার পরিবারের এক প্রভাবশালী চরিত্রে—তাঁকে না দেখলে যেন ধারাবাহিকের গল্পই অসম্পূর্ণ লাগে। তবে এবারের দুর্গাপুজোর আগে হঠাৎই শোরগোল ছড়াল ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে। শোনা গেল, আর্থিক সঙ্কটে নাকি ভুগছেন তিনি, এমনকি একটাও নতুন জামাকাপড় কেনেননি। সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হতেই শুরু হলো জল্পনা—সত্যিই কি টানাটানিতে দিন কাটছে অভিনেত্রীর?
“সবটাই ভুল বোঝাবুঝি”
এই প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন তনিমা নিজেই। তাঁর সোজা কথা, “সবটাই কথার কথা। যেমন অনেকেই হালকা মেজাজে বলে থাকে, ‘ধুর, টাকা নেই, কী-ই বা কিনব’। আমিও সেভাবেই বলেছিলাম। অথচ সেটাই অন্যভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।” অভিনেত্রীর কণ্ঠে খানিকটা বিরক্তির সুরও ছিল।
তাঁর দাবি, আর্থিক টানাটানির গুজব আসলে অমূলক। বরং ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত থেকে তিনি অনেক দিন ধরেই নতুন পোশাক কেনার অভ্যাস কমিয়ে দিয়েছেন। বিশেষ করে রাজ্যের বহুল আলোচিত আরজি কর কাণ্ডের পর থেকে তিনি নতুন জামাকাপড় কেনা প্রায় বন্ধ করেছেন। তবে তাই বলে পুজোর আনন্দে ভাটা পড়ে না তাঁর জীবনে।
পুজোর নিয়ম, অন্যভাবে পালন
তনিমা জানান, দুর্গাপুজো মানেই তাঁর কাছে এক বিশেষ সময়। নতুন পোশাক না কিনলেও, অন্যান্য নিয়ম তিনি ভাঙেন না। প্রতি বছর ইন্ডাস্ট্রির টেকনিশিয়ান ভাই-বোনেদের কিছু না কিছু উপহার দেন তিনি। সেই প্রথা এ বছরও বজায় রেখেছেন। “এই বছর আমি ৬৫টা বিছানার চাদর দিয়েছি,” জানালেন অভিনেত্রী। তাঁর কাছে এই দানই পুজোর অন্যতম আনন্দ।
অভিনয়ে ব্যস্ত, বই লেখাতেও মনোযোগ
বর্তমানে ‘রাজরাজেশ্বরী রাণী ভবানী’ ধারাবাহিকে তাঁকে দেখা যাচ্ছে এক ‘কুচুটে’ পিসিমার চরিত্রে। দর্শকরা খলনায়িকার রূপে তাঁকে যথেষ্ট উপভোগ করছেন। তবে শুধু অভিনয়েই সীমাবদ্ধ নন তিনি। নিজের লেখালিখির কাজও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন সমানতালে। তনিমা জানালেন, “একটি বই লিখছি। আশা করছি, আগামী বইমেলায় তা প্রকাশিত হবে।”
দৃঢ় মনোভাব
গুজব যাই থাকুক, প্রবীণ এই অভিনেত্রীর কণ্ঠে স্পষ্ট আত্মবিশ্বাস। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর জীবনে অর্থকষ্টের জায়গা নেই, বরং নিজের মতো করে তিনি পুজো কাটাতে ভালোবাসেন। আর্থিক টানাটানির জল্পনা নিয়ে তিনি যেমন বিরক্ত, তেমনই দৃঢ়ও বটে—কারণ তাঁর মতে, জীবনকে ইতিবাচকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই আসল।