গ্যাসের দুশ্চিন্তায় রাজনীতি: ভোটের আগে হেঁশেলে পৌঁছে গেল ‘দিদি’র বার্তা

গ্যাসের দুশ্চিন্তায় রাজনীতি! ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে মুহূর্তে বদলে যাচ্ছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। এক সময় যেখানে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন নিয়ে বিতর্ক ছিল প্রধান ইস্যু, সেখানে হঠাৎ করেই সামনে চলে এসেছে…

March 12, 2026
1 min read

গ্যাসের দুশ্চিন্তায় রাজনীতি!

ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে মুহূর্তে বদলে যাচ্ছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। এক সময় যেখানে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন নিয়ে বিতর্ক ছিল প্রধান ইস্যু, সেখানে হঠাৎ করেই সামনে চলে এসেছে রান্নার গ্যাসের জোগান নিয়ে উদ্বেগ। আর সেই ইস্যুকেই হাতিয়ার করে সরাসরি সাধারণ মানুষের হেঁশেলের কথা তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর নিশানায় কেন্দ্রীয় সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় গ্যাস ডিলারের গুদামের সামনে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ফোনে বুকিং করার পরিষেবাও ঠিক মতো কাজ করছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে শহর থেকে গ্রাম—সব জায়গাতেই তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত সক্রিয় হয়ে উঠেছে রাজ্য প্রশাসন এবং শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস।

বুধবার একাধিক পদক্ষেপ করেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রথমত, তিনি সংবাদমাধ্যম এবং সমাজমাধ্যমে বারবার কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তকে দায়ী করে বক্তব্য রাখতে শুরু করেন। দ্বিতীয়ত, প্রশাসনিক স্তরে গ্যাস সরবরাহের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বৈঠকের ডাক দেন। তৃতীয়ত, রাজনৈতিক ভাবে বিষয়টিকে সামনে রেখে প্রতিবাদ কর্মসূচির প্রস্তুতি শুরু করে তৃণমূল।

মমতার অভিযোগ, কেন্দ্রের কিছু ঘোষণাই সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়িয়ে দিয়েছে। সম্প্রতি রান্নার গ্যাস বুক করার ক্ষেত্রে ন্যূনতম সময়সীমা ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই মানুষের মধ্যে গ্যাসের জোগান নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, “আমি চাইলে ভর্তুকি দিতে পারি। কিন্তু তাতে লাভ কী, যদি গ্যাসের জোগানই ঠিক মতো না থাকে? শহর থেকে গ্রাম—সব জায়গাতেই মানুষ সমস্যায় পড়ছে।” পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি গ্যাস ডিলারদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের ডাক দিয়েছেন এবং বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে ভাবার কথাও জানিয়েছেন।

নবান্নে প্রশাসনিক বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মানুষের মধ্যে একটি ‘প্যানিক’ তৈরি হয়েছে, যা উদ্বেগজনক। তাই গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয় রেখে কত গ্যাস মজুত আছে এবং কোথায় কত সরবরাহ হচ্ছে—তার হিসাব রাখতে চায় রাজ্য সরকার। একই সঙ্গে রাজ্যের জন্য বরাদ্দ গ্যাস যাতে বাইরে চলে না যায়, সেটিও নজরে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনিক পদক্ষেপের পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মসূচিও সামনে আসছে। শাসকদলের তরফে জানানো হয়েছে, গ্যাস ইস্যুতে প্রতিবাদ মিছিলও হতে পারে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন নেতা—যেমন বিধানসভার স্পিকার এবং কলকাতার মেয়র—এই বিষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ফলে স্পষ্ট, মমতার মন্তব্যের পর পুরো দলই বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

এই গ্যাস-উদ্বেগের প্রভাব পড়ছে নানা ক্ষেত্রে। কিছু রেস্তরাঁয় রান্নার মেনু কমানো হয়েছে, আবার স্কুলের মিড-ডে মিল রান্না নিয়েও প্রশাসনে চিন্তা দেখা দিয়েছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন—মিড-ডে মিল কোনও ভাবেই বন্ধ করা যাবে না। হাসপাতাল, হস্টেল ও সাধারণ পরিবারের জন্য গ্যাস সরবরাহ যাতে বজায় থাকে, সে দিকেও নজর দিতে বলা হয়েছে জেলাশাসকদের।

কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্য জানিয়েছে, দেশে গ্যাসের কোনও ঘাটতি হবে না। তবু মানুষের উদ্বেগ যে পুরোপুরি কাটেনি, তা স্পষ্ট। আর ঠিক সেই সময়েই ভোটের আগে রান্নাঘরের এই দুশ্চিন্তাকেই রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে এনে ফেললেন মমতা। একদিকে ‘দিদি’ হিসাবে মানুষের পাশে থাকার বার্তা, অন্যদিকে প্রশাসনিক উদ্যোগ—দুই পথেই এগোতে চাইছে রাজ্য সরকার।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *