আতঙ্ক কমতেই গ্যাস বুকিংয়ে বড় পতন!
সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছিল দেশের রান্নার গ্যাসের বাজারেও। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির আশঙ্কা তৈরি হতেই অনেকেই ভবিষ্যতের কথা ভেবে দ্রুত এলপিজি সিলিন্ডার বুক করতে শুরু করেছিলেন। ফলে হঠাৎ করেই সারা দেশে গ্যাস বুকিংয়ের সংখ্যা অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে যায়।
তবে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, মাত্র এক দিনের ব্যবধানে দেশে গ্যাস সিলিন্ডার বুকিং প্রায় ১০ লক্ষ কমে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আতঙ্ক না ছড়ানোর জন্য কেন্দ্রের বারবার দেওয়া আশ্বাসই এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ হতে পারে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার গোটা দেশে মোট প্রায় ৮৮ লক্ষ ৮০ হাজার এলপিজি সিলিন্ডার বুকিং হয়েছিল। কিন্তু শনিবার সেই সংখ্যা নেমে আসে প্রায় ৭৭ লক্ষে। অর্থাৎ এক দিনেই বুকিং কমেছে প্রায় ১০ লক্ষের কাছাকাছি।
কেন্দ্রীয় সরকার আগেই জানিয়েছিল, দেশে গৃহস্থালির রান্নার গ্যাসের কোনও ঘাটতি নেই এবং এলপিজির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। সেই কারণেই অযথা আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত সিলিন্ডার বুক না করার জন্য নাগরিকদের বারবার অনুরোধ করা হচ্ছিল।
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের মতে, দেশে এলপিজি সরবরাহের উপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোথাও গ্যাস ফুরিয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। বরং সরবরাহের ব্যবস্থা আগের মতোই স্বাভাবিক রয়েছে।
যুদ্ধ পরিস্থিতির আগে দেশে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫৫ লক্ষ সিলিন্ডার বুকিং হত। সেই সময় প্রতিদিন প্রায় ৫০ লক্ষ সিলিন্ডার সরবরাহ করা হত। কিন্তু আন্তর্জাতিক উত্তেজনা বাড়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই অনেকেই বাড়তি সিলিন্ডার মজুত করার চেষ্টা শুরু করেন। ফলে বুকিংয়ের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যায়, যদিও সরবরাহের হার একই রয়ে গিয়েছিল।
তবে সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, সেই আতঙ্কের প্রভাব এখন কিছুটা কমেছে। বুকিংয়ের সংখ্যা কমে আসা থেকে বোঝা যাচ্ছে, সাধারণ মানুষ পরিস্থিতি সম্পর্কে অনেকটাই আশ্বস্ত হয়েছেন।
এদিকে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গ্যাস বুকিংয়ের প্রবণতাও আগের তুলনায় বেড়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রক। ডিজিটাল বুকিং ব্যবস্থার কারণে অনেক গ্রাহক এখন সহজেই ঘরে বসে সিলিন্ডার বুক করতে পারছেন।
শুধু গৃহস্থালির গ্যাসই নয়, বাণিজ্যিক সিলিন্ডার নিয়েও কিছু জায়গায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে সেই পরিস্থিতিও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র। বিহার, দিল্লি, হরিয়ানা ও রাজস্থান-সহ একাধিক রাজ্যে ইতিমধ্যেই সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী বাণিজ্যিক সিলিন্ডার সরবরাহ আবার শুরু হয়েছে। বর্তমানে দেশের প্রায় ৩০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বাণিজ্যিক গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে।
কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, শুধু এলপিজি নয়— পেট্রল ও ডিজেল নিয়েও অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। দেশের কোথাও পেট্রল পাম্পে জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার খবর নেই বলেই দাবি করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। সরকারের দাবি, গ্যাস বা জ্বালানি নিয়ে আতঙ্কের কোনও কারণ নেই— আর সাম্প্রতিক বুকিংয়ের পরিসংখ্যানও যেন সেই কথাই প্রমাণ করছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?