গ্যাস সংকটেও নির্ভীক এক গ্রাম!
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহ মানেই জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা। তেলের দাম বাড়ে, তার প্রভাব পড়ে রান্নার গ্যাস বা এলপিজির উপরেও। শহর থেকে মফস্বল— সর্বত্রই বাড়ছে উদ্বেগ। কিন্তু এই দুশ্চিন্তার মাঝেও এক ব্যতিক্রমী গল্প উঠে আসছে Hoshiarpur district-এর একটি ছোট্ট গ্রাম থেকে— Lambra Kangri।
গত প্রায় দশ বছর ধরে এই গ্রামের অধিকাংশ মানুষ এলপিজি ব্যবহারই করেন না। শুনতে অবাক লাগলেও, এটি কোনও প্রতিবাদ নয়— বরং সচেতন এক সিদ্ধান্ত। কারণ, তাঁরা খুঁজে পেয়েছেন আরও টেকসই, সস্তা এবং পরিবেশবান্ধব বিকল্প— বায়োগ্যাস।
২০১৬ সালে গ্রামের সমবায় উদ্যোগে তৈরি হয় একটি জৈব গ্যাস প্ল্যান্ট। প্রতিদিন প্রায় ২৫০০ কেজি গরুর গোবর সেই প্ল্যান্টে জমা পড়ে। সেখান থেকেই উৎপন্ন হয় মিথেন গ্যাস, যা পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি পৌঁছে যায় গ্রামের ৪৪টি বাড়িতে। এই গ্যাসেই প্রতিদিন রান্না হয়, ঠিক যেমন এলপিজিতে হয়— তবে খরচ অনেক কম।
যেখানে একটি এলপিজি সিলিন্ডারের জন্য প্রায় হাজার টাকা খরচ হতে পারে, সেখানে এই বায়োগ্যাস ব্যবস্থায় মাসে মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যেই কাজ চলে যায়। ফলে শুধু জ্বালানি নয়, সংসারের খরচও অনেকটাই কমেছে।
এই উদ্যোগের পিছনে রয়েছেন গ্রামেরই বাসিন্দা Jaswinder Singh Saini। দক্ষিণ কোরিয়ায় একটি শিক্ষামূলক সফরে গিয়ে বর্জ্য থেকে শক্তি উৎপাদনের ধারণা তাঁর মাথায় আসে। গ্রামে ফিরে তিনি দেখেন, গরুর গোবর জমে নিকাশির সমস্যা তৈরি করছে। তখনই তিনি ভাবেন— এই সমস্যাকেই সমাধানে বদলে ফেলা যায়।
পরে Punjab Agricultural University এবং Punjab Pollution Control Board-এর সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের নবীকরণযোগ্য শক্তি মন্ত্রক থেকেও আর্থিক সহায়তা মেলে।
এই ব্যবস্থার আরেকটি বড় সুবিধা হল— এটি চালাতে আলাদা দক্ষ কর্মীর দরকার হয় না। গ্রামের মানুষ নিজেরাই প্রতিদিন গোবর সংগ্রহ করে প্ল্যান্টে দেন। বাকি কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হয়। প্রতিটি বাড়িতে ডিজিটাল মিটার বসানো আছে, যার মাধ্যমে গ্যাস ব্যবহারের পরিমাণ হিসাব করা হয়।
আজ, যখন জ্বালানির দাম বাড়ছে এবং পরিবেশ দূষণ বাড়ছে, তখন লম্ব্রা কাঙ্গরী যেন এক নতুন পথ দেখাচ্ছে। শুধু পঞ্জাবই নয়, Gujarat এবং Tripura-এর কিছু গ্রামেও এই মডেল অনুসরণ করা হচ্ছে।
এই গল্প শুধু প্রযুক্তির নয়, মানসিকতারও। যেখানে অধিকাংশ মানুষ বিকল্পের খোঁজে দ্বিধায় থাকেন, সেখানে একটি গ্রাম প্রমাণ করে দিয়েছে— চাইলে স্বনির্ভর হওয়া সম্ভব। যুদ্ধ, সংকট বা মূল্যবৃদ্ধি— কোনও কিছুই তাদের দৈনন্দিন জীবনে বড় প্রভাব ফেলতে পারছে না।
এক কথায়, ভবিষ্যতের জ্বালানি সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে এই গ্রাম যেন বলে— সমাধান আমাদের হাতেই, শুধু দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে।
শেষ লড়াইয়ের গল্প: জল থেকে তোলার পরও বেঁচে ছিলেন রাহুল, তবু বাঁচানো গেল না