গেরুয়া ঝড়ে ধাক্কা, তবু ‘অনামী’ ৩১ মুখে তৃণমূলের লড়াই টিকে রইল

৩১ মুখে তৃণমূলের লড়াই টিকে রইল! ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যজুড়ে গেরুয়া ঝড়ে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। একের পর এক ‘হেভিওয়েট’ নেতা পরাজিত হয়েছেন, এমনকি দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বেও ধাক্কা লেগেছে—পরাজিত…

May 6, 2026
1 min read

৩১ মুখে তৃণমূলের লড়াই টিকে রইল!

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যজুড়ে গেরুয়া ঝড়ে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। একের পর এক ‘হেভিওয়েট’ নেতা পরাজিত হয়েছেন, এমনকি দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বেও ধাক্কা লেগেছে—পরাজিত হয়েছেন Mamata Banerjee নিজেও। ফলে শহরাঞ্চলে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি কার্যত ভেঙে পড়েছে। কিন্তু এই চিত্রের মাঝেও অন্য এক গল্প সামনে এসেছে—জেলার মাটিতে লড়ে গেছেন কিছু কম পরিচিত, ‘অনামী’ নেতা।

এই প্রার্থীদের অনেকেই প্রচারের আলোয় ছিলেন না। বড় মঞ্চ, বড় মুখ—কিছুই ছিল না তাঁদের পাশে। কিন্তু ছিল শক্ত সংগঠন, স্থানীয় যোগাযোগ এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরিশ্রম। সেই ভরসাতেই তাঁরা বিজেপির প্রবল চ্যালেঞ্জের মুখেও নিজেদের আসন ধরে রাখতে পেরেছেন।

উত্তরবঙ্গে, যেখানে তৃণমূলের ভোট অনেকটাই কমেছে, সেখানেও কিছু ব্যতিক্রমী ফল দেখা গিয়েছে। কোচবিহারের সিতাইয়ে অল্প ব্যবধানে জয় এসেছে। উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ায় হামিদুল রহমান বিপুল ভোটে জিতে নিজের শক্ত ঘাঁটি অটুট রেখেছেন। ইসলামপুরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের মাঝেও কানাইয়ালাল অগরওয়ালের জয় প্রমাণ করে, স্থানীয় সমীকরণ কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

মালদহ ও মুর্শিদাবাদেও একই ধারা। চাঁচল, রতুয়া, ভরতপুর বা জলঙ্গির মতো কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থীরা সংগঠনের জোরে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন। বিশেষ করে নতুন মুখ বাবর আলি বিশ্বাসের জয় দেখিয়েছে, তরুণ নেতৃত্বকেও মানুষ গ্রহণ করতে প্রস্তুত।

দক্ষিণবঙ্গেও একাধিক কেন্দ্রে তৃণমূলের এই ‘গ্রাসরুট’ শক্তি চোখে পড়ার মতো। বসিরহাট, হাড়োয়া, মিনাখাঁ বা ক্যানিং অঞ্চলে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নেটওয়ার্কই ছিল জয়ের মূল চাবিকাঠি। কোথাও আইএসএফ, কোথাও বিজেপি—দুই দিক থেকেই চাপ সামলে জয় এসেছে।

হাওড়া জেলার পাঁচলা, সাঁকরাইল ও ডোমজুড়ের মতো এলাকাতেও তৃণমূল নিজেদের জমি ধরে রাখতে পেরেছে। এখানে পঞ্চায়েত স্তরের দখল এবং স্থানীয় নেতৃত্বের প্রভাব ভোটের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা নিয়েছে।

এই ফলাফল একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়—রাজনীতিতে শুধু বড় মুখই সব কিছু নয়। অনেক সময় ‘অচেনা’ নেতারাই সংগঠনের ভিত শক্ত রাখেন। তাঁদের নিরব কাজই দলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখে কঠিন সময়ে।

সব মিলিয়ে, এই নির্বাচনে তৃণমূল বড় ধাক্কা খেলেও পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়নি। বরং এই ৩১ জন ‘অনামী’ নেতাই দেখিয়েছেন, মাটির সঙ্গে সংযোগ থাকলে রাজনৈতিক লড়াই কখনও পুরো শেষ হয়ে যায় না। ভবিষ্যতে ঘুরে দাঁড়াতে চাইলে, এই স্তরের নেতৃত্বকেই হয়তো আরও গুরুত্ব দিতে হবে দলকে।

স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow
Explore More on These Topics

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *