কলকাতা পুরভোটে বড় লড়াইয়ের প্রস্তুতি বিজেপির!
কলকাতা পুরভোটকে সামনে রেখে সংগঠন গোছানোর কাজে নেমে পড়ল বিজেপি। দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারকে কলকাতা পুরভোট পরিচালনা কমিটির ইনচার্জ করা হয়েছে। তাঁর সঙ্গে কো-ইনচার্জ হিসেবে রয়েছেন রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতি অনিন্দ্য (রাজু) বন্দ্যোপাধ্যায়। মানিকতলার বিধায়ক তথা রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়কে করা হয়েছে কমিটির আহ্বায়ক এবং কাশীপুর-বেলগেলাছিয়ার বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারি সহ-আহ্বায়ক।
মঙ্গলবার বিধাননগরে বিজেপির রাজ্য দফতরে পুরভোটের প্রস্তুতি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা পশ্চিমবঙ্গের সাংগঠনিক পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল। রাজ্য নেতৃত্বের পাশাপাশি কলকাতা পুর এলাকার বিজেপি বিধায়করাও বৈঠকে ছিলেন। সেই বৈঠকেই সুকান্তকে পুরভোট পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
বিজেপি সূত্রের দাবি, কলকাতার মতো গুরুত্বপূর্ণ পুরসভা দখলের লড়াইয়ে সুকান্তের মতো শীর্ষনেতাকে দায়িত্ব দেওয়ার মধ্যেই দলের কৌশলের ইঙ্গিত রয়েছে। অর্থাৎ, পুরভোটকে কোনও ভাবেই হালকা ভাবে দেখছে না গেরুয়া শিবির।
একই দিনে হাওড়া পুরভোটের জন্যও কমিটি ঘোষণা করেছে বিজেপি। সেখানে ইনচার্জ করা হয়েছে দলের আর এক প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিংহকে। বালির বিধায়ক সঞ্জয় সিংহ হয়েছেন আহ্বায়ক।
বিজেপির অন্দরে এই সিদ্ধান্তকে শুধুমাত্র পুরভোটের প্রস্তুতি হিসাবে দেখা হচ্ছে না। সুকান্তকে ফের রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টিও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন দলের একাংশ। রাজ্য সভাপতি পদে শমীক ভট্টাচার্য আসার পরেও সুকান্তকে দলের গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারক মহলে রাখা হয়েছিল। এ বার কলকাতা পুরভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তাঁর হাতে দেওয়ায় সেই গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হল।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর কঠিন সময়ে রাজ্য বিজেপির সভাপতি হয়েছিলেন সুকান্ত। তাঁর নেতৃত্বে ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপির ভোটের হার উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়ে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও রাজ্যে বিজেপির ভোটপ্রাপ্তির হার প্রায় ৩৯ শতাংশ ছিল। পরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় জায়গা পাওয়ার কারণে ‘এক ব্যক্তি, এক পদ’ নীতিতে তাঁকে রাজ্য সভাপতি পদ ছাড়তে হয়।
এখন কলকাতা ও হাওড়ার পুরভোটের পর ২০২৭ সালে রাজ্যের বাকি পুরসভাগুলিতে এবং ২০২৮ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচন হওয়ার কথা। ফলে তার আগেই সংগঠনকে শক্তিশালী করার কৌশল নিচ্ছে বিজেপি। কলকাতা পুরভোটে সুকান্তের প্রত্যাবর্তন সেই বৃহত্তর সাংগঠনিক পরিকল্পনারই অংশ কি না, তা নিয়েই এখন জল্পনা শুরু হয়েছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।