ফের বন্দুকবাজদের তাণ্ডব, আতঙ্কে এলাকা
কলকাতার আনন্দপুর থানা এলাকার গুলশন কলোনি ফের কেঁপে উঠল দুষ্কৃতীদের গুলির শব্দে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হঠাৎ করেই গোলাগুলির ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। চারিদিক থেকে ভেসে আসা টানা গুলির শব্দে মুহূর্তেই বন্ধ হয়ে যায় দোকানপাট। মানুষ দৌড়ে ঢুকে পড়েন নিজেদের ঘরে, জানালা-দরজা আটকে দেয় সবাই। তবে সৌভাগ্যবশত, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গুলশন কলোনিতে হঠাৎই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষ মুহূর্তেই গোলাগুলিতে রূপ নেয়। স্থানীয়দের দাবি, এলাকার দখলদারি নিয়ে বহু দিন ধরেই টানাপোড়েন চলছিল। সেই বিরোধই শেষ পর্যন্ত রাস্তায় নেমে অস্ত্রের খেলা দেখাল। কেউ কেউ আবার দাবি করেছেন, শাসক দলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদই এর মূল কারণ।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত পৌঁছে যায় আনন্দপুর থানার পুলিশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় টহল বাড়ানো হয়। পরের দিন সকাল থেকে নতুন করে কোনও অশান্তি না হলেও এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এদিকে, ঘটনার তদন্তে নামে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। বিশ্বস্ত সূত্রে খবর পেয়ে শুক্রবার এন্টালি ও নারকেলডাঙা থানা এলাকা থেকে তিন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি দেশি আগ্নেয়াস্ত্র, একটি ৭ এমএম পিস্তল এবং চার রাউন্ড কার্তুজ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এঁরাই গুলশন কলোনির গোলাগুলির ঘটনায় সরাসরি জড়িত। অস্ত্র আইনের অধীনে ইতিমধ্যেই তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। তবে তদন্তকারীরা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন, এই সংঘর্ষের নেপথ্যে আর কারা জড়িত।
গুলশন কলোনি নামটি অপরাধের খবরে নতুন নয়। ঘিঞ্জি জনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্য নিয়ে লালবাজারের চিন্তা বহু দিনের। পুলিশকর্তাদের বৈঠকেও বারবার এই অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর আগে কখনও রাস্তায় কুপিয়ে খুন, কখনও বোমা বা গুলির সংঘর্ষ—প্রায়শই খবরের শিরোনামে এসেছে এই এলাকা। এমনকি ভিনরাজ্যের পুলিশও একাধিকবার হানা দিয়ে বাংলাদেশি দুষ্কৃতীদের গ্রেফতার করেছে, যারা মাসের পর মাস এখানে ঘাঁটি গেড়ে ছিল।
তবুও পরিস্থিতির তেমন কোনও পরিবর্তন হয়নি। বৃহস্পতিবারের ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, গুলশন কলোনি এখনও দুষ্কৃতীদের দাপটের আঁতুড়ঘর হয়ে আছে। সাধারণ মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন, আর প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন বাড়ছে—কবে নিরাপদ হবে এই জনবসতি এলাকা?
ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ