বাংলাদেশ প্রসঙ্গে কেন্দ্রের সক্রিয় ভূমিকায় জোর আরএসএসের!
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অস্থির পরিস্থিতি নিয়ে ভারত সরকারের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ। কলকাতায় এক কর্মসূচিতে দাঁড়িয়ে এই ইঙ্গিতই দিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ-এর প্রধান মোহন ভাগবত। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, প্রতিবেশী দেশের পরিস্থিতি ভারতের উপর প্রভাব ফেলছে এবং বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সুরক্ষা নিয়ে দিল্লির কিছু করা প্রয়োজন— এমনটাই চায় সঙ্ঘ।
আরএসএস প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ উপলক্ষে দেশের চারটি বড় শহরে ‘বক্তৃতামালা’ শীর্ষক কর্মসূচির আয়োজন করেছে সংগঠনটি। রবিবার কলকাতা-য় অনুষ্ঠিত সেই অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন ভাগবত। প্রশ্নোত্তর পর্বে তাঁকে বাংলাদেশ নিয়ে একাধিক প্রশ্ন করা হয়— সংখ্যালঘু নির্যাতন, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং এই পরিস্থিতিতে ভারতের করণীয় কী হওয়া উচিত, তা নিয়েই ছিল মূল কৌতূহল।
এই প্রশ্নের উত্তরে ভাগবত বলেন, প্রতিবেশী দেশের অশান্তির প্রভাব ভারতে পড়বে, এটাই স্বাভাবিক। তাঁর কথায়, “বাংলাদেশ নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে যে উদ্বেগ রয়েছে, আমাদের মনেও সেই একই উদ্বেগ কাজ করছে। আমরা চাই, ভারত সরকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখুক এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করুক।” যদিও তিনি এটাও স্পষ্ট করেন যে, কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সম্পূর্ণ ভাবে কেন্দ্রীয় সরকারেরই।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে আরএসএস সামাজিক স্তরে সক্রিয় রয়েছে বলেও জানান ভাগবত। তাঁর মতে, সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। শুধু ভারত নয়, বিশ্বের সর্বত্র হিন্দু সমাজকে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, ভারত সরকার ইতিমধ্যেই কিছু উদ্যোগ নিচ্ছে, যদিও সব কিছু প্রকাশ্যে বলা সম্ভব নয়।
১৯৭১ সালের মতো আবার কি সীমান্ত খুলে দেওয়া উচিত— এমন প্রশ্নের উত্তরে ভাগবত বিষয়টি প্রশাসনের উপর ছেড়ে দেন। তবে সীমান্ত খোলা হলে কঠোর নজরদারি ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মত দেন। কারা প্রবেশ করছে, কী উদ্দেশ্যে আসছে— সে বিষয়ে পরিষ্কার নীতি থাকা জরুরি, এমনটাই তাঁর বক্তব্য।
কলকাতার এই কর্মসূচি তিনটি পর্যায়ে বিভক্ত ছিল। প্রথম পর্বে ভাগবত আরএসএসের শতবর্ষের ইতিহাস ও উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেন। দ্বিতীয় পর্বে তিনি সংগঠনের কর্মপদ্ধতি ও স্বয়ংসেবকদের ভূমিকা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। তৃতীয় ও শেষ পর্বে ছিল প্রশ্নোত্তর, যেখানে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক নানা বিষয় উঠে আসে। তবে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন ছিল বাংলাদেশ সংক্রান্ত।
উল্লেখযোগ্য ভাবে, প্রশ্নোত্তর পর্বের জন্য আগেই লিখিত প্রশ্ন জমা দিতে হয়েছিল। সেই প্রশ্নকারীদের মধ্যে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও। এতে বোঝা যায়, বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও আগ্রহ ও উদ্বেগ কতটা গভীর।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি বাংলাদেশের রাজনৈতিক অশান্তি নতুন মাত্রা পেয়েছে। একাধিক সরকারি ভবন ও সংবাদমাধ্যমের দফতরে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনাও সামনে এসেছে। ময়মনসিংহে এক যুবকের নৃশংস হত্যাকাণ্ড নিয়ে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত সরকার এবং দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটেই কলকাতা থেকে ভাগবতের মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। আরএসএসের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রকাশ্যে কেন্দ্রের সক্রিয় ভূমিকার প্রত্যাশা জানানোয় বাংলাদেশ ইস্যুতে দিল্লির উপর চাপ আরও বাড়তে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।