এলপিজি ঘরোয়া চাহিদা সামলাতে!
পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা ও সংঘাতের প্রভাব রান্নার গ্যাসের (এলপিজি) বাজারে সরাসরি পড়েছে। কেন্দ্রীয় তেল সংস্থাগুলি ১৪.২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৬০ টাকা বৃদ্ধি করেছে। কলকাতায় এখন একটি সিলিন্ডারের দাম ৮৭৯ টাকা থেকে ৯৩৯ টাকা হয়েছে। তবে সরকারি সূত্র জানাচ্ছে, আপাতত ঘরোয়া এলপিজি বা তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের (এনএলজি) মূল্য আরও বাড়ার সম্ভাবনা নেই।
সরকার ঘরোয়া বাজারে সরবরাহ অব্যাহত রাখতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত এলএনজি ঘরোয়া ব্যবহারে ছাড়পত্র দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি এলপিজি গ্যাসের অতিরিক্ত মজুত ও কালোবাজারি রোধের জন্য বুকিং সময়সীমা ২১ দিন থেকে ২৫ দিন বাড়ানো হয়েছে। আগে যাঁরা প্রায় ৫৫ দিনে এলপিজি বুক করতেন, এখন তারা মাত্র ১৫ দিনে বুকিং শুরু করতে পারছেন। সেই কারণেই কেন্দ্র সময়সীমা বৃদ্ধি করেছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নির্দেশ দিয়েছেন দেশের তেল শোধনাগারগুলোকে এলপিজি উৎপাদন বাড়াতে। ঘরোয়া এলপিজিকে বাণিজ্যিক সংযোগের তুলনায় অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই আলজেরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও নরওয়ের সঙ্গে এলপিজি আমদানির আলোচনা শুরু হয়েছে। এর ফলে বাজারে সরবরাহ অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে।
কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, পেট্রল, ডিজেল বা অ্যাভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলের (এটিএফ) দাম বৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা নেই। দেশে পর্যাপ্ত মজুত থাকায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক অশোধিত তেলের দাম যদি প্রতি ব্যারেল ১৩০ ডলার অতিক্রম করে, তখন মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া, হরমুজ প্রণালীতে সংঘাত থাকলেও অন্য পথ ব্যবহার করে অশোধিত তেল আমদানির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হয়েছে।
দেশের তেলের জোগান ধরে রাখতে আমেরিকা, রাশিয়া ও পশ্চিম আফ্রিকার সঙ্গে আলোচনাও শুরু করেছে ভারতীয় শোধনাগারগুলো। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের সরবরাহে প্রভাব পড়তে পারে, সেই আশঙ্কায় আগেভাগেই সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সরকারের এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য ঘরোয়া চাহিদা মেটানো ও বাজারে অস্থিরতা রোধ করা। বুকিং সময়সীমা বৃদ্ধি, অতিরিক্ত মজুত এবং আন্তর্জাতিক আমদানির পদক্ষেপগুলো মিলিয়ে এক নজরে দেখা যাচ্ছে, কেন্দ্র পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রস্তুত।
অর্থাৎ সাধারণ নাগরিকরা হয়তো দাম বৃদ্ধি অনুভব করবেন, তবে সরবরাহ সংকট ও কালোবাজারি থেকে মুক্ত থাকবেন। এক কথায়, এলপিজি বাজারকে সুসংহত রাখা এবং ঘরোয়া চাহিদা অটুট রাখার জন্য কেন্দ্র আগেভাগেই সতর্ক ও পরিকল্পিত কৌশল হাতে নিয়েছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?