কালীপুজোর পর বাংলায় ৬ বিধানসভায় তৃণমূলের অগ্নিপরীক্ষা

কালীপুজোর পর বাংলায় পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মঞ্চে আবারও বেজে উঠল নির্বাচনের ঘণ্টা। নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করেছে, আগামী ১৩ নভেম্বর রাজ্যের ৬টি বিধানসভায় উপনির্বাচন হবে। কালীপুজোর উৎসবের শেষে শুরু হবে তৃণমূল কংগ্রেসের…

October 15, 2024
0 min read

কালীপুজোর পর বাংলায়

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মঞ্চে আবারও বেজে উঠল নির্বাচনের ঘণ্টা। নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করেছে, আগামী ১৩ নভেম্বর রাজ্যের ৬টি বিধানসভায় উপনির্বাচন হবে। কালীপুজোর উৎসবের শেষে শুরু হবে তৃণমূল কংগ্রেসের এই গুরুত্বপূর্ণ অগ্নিপরীক্ষা। দেশজুড়ে মোট ৪৮টি বিধানসভা এবং ২টি লোকসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের ঘোষণা করা হয়েছে, যার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের এই ৬টি বিধানসভার উপনির্বাচন বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ফলাফল ঘোষণা হবে ২৩ নভেম্বর।

কোন কোন বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট বাংলায় ?

এই ৬টি বিধানসভা কেন্দ্র হল সিতাই, মাদারিহাট, মেদিনীপুর, নৈহাটি, তালডাঙরা এবং হাড়োয়া। বিধায়করা সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় এবং কয়েকটি কেন্দ্রে ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগের ফলে এই আসনগুলো শূন্য হয়েছে।

  • সিতাই: তৃণমূল বিধায়ক জগদীশ চন্দ্র বসুনিয়া সাংসদ নির্বাচিত হওয়ায় এই আসন শূন্য হয়েছে।
  • মাদারিহাট: বিজেপির মনোজ টিগ্গা সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন, ফলে মাদারিহাট আসনটি ফাঁকা হয়েছে।
  • মেদিনীপুর: তৃণমূলের জনপ্রিয় বিধায়ক জুন মালিয়া সাংসদ নির্বাচিত হওয়ায় এই আসনে উপনির্বাচন হবে।
  • নৈহাটি: পার্থ ভৌমিক সাংসদ নির্বাচিত হওয়ায় নৈহাটি বিধানসভায়ও ভোট হবে।
  • তালডাঙরা: তৃণমূল বিধায়ক অরূপ চক্রবর্তী সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় এখানে ভোট হবে।
  • হাড়োয়া: হাজি নুরুল ইসলাম সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর মৃত্যু হয়, ফলে এই আসনেও ভোট হবে।
বাংলায়

তৃণমূলের অগ্নিপরীক্ষা

তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য এই উপনির্বাচন বেশ গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। যেসব আসনগুলো শূন্য হয়েছে, সেগুলোর বেশিরভাগেই তৃণমূলের দখলে ছিল। ফলে ক্ষমতা ধরে রাখা এবং বিরোধীদের আক্রমণ সামলানো তৃণমূলের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে।

রাজ্যের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প এবং নতুন বিধানসভার জন্য ভোটারদের আকৃষ্ট করা তৃণমূলের মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি, বিজেপি এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে চায়। এই নির্বাচন তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের শক্তি প্রমাণেরও এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হতে পারে।

বিজেপির প্রস্তুতি

রাজ্যের ৬টি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য বিজেপিও এখন তৈরি হচ্ছে। ইতিমধ্যে দলের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনশল এবং রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের নিয়ে বৈঠক শুরু হয়েছে। এই বৈঠকে প্রার্থী নির্বাচন এবং প্রচারের রণনীতি নিয়ে আলোচনা হবে। বিজেপির লক্ষ্য, তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিগুলোকে দুর্বল করা এবং নিজেদের প্রভাব বাড়ানো।

জাতীয় স্তরের নির্বাচন পরিস্থিতি

বাংলার এই উপনির্বাচনের পাশাপাশি জাতীয় স্তরেও ভোট হচ্ছে। রাহুল গান্ধীর ছেড়ে যাওয়া ওয়েনাড় লোকসভা কেন্দ্র এবং মহারাষ্ট্রের একটি লোকসভা কেন্দ্রেও উপনির্বাচনের ঘোষণা হয়েছে। এছাড়া মহারাষ্ট্র এবং ঝাড়খণ্ডের বিধানসভা নির্বাচনও নভেম্বরের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে।

মহারাষ্ট্রে ২০ নভেম্বর এবং ঝাড়খণ্ডে ১৮ ও ২০ নভেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ফলাফল প্রকাশিত হবে ২৩ নভেম্বর। মহারাষ্ট্রের বিধানসভার মেয়াদ শেষ হবে ২৬ নভেম্বর, এবং ঝাড়খণ্ডের বিধানসভার মেয়াদ শেষ হবে আগামী বছরের ৫ জানুয়ারি।

উপসংহার

বাংলায় এই উপনির্বাচন শুধুমাত্র কয়েকটি আসনের লড়াই নয়, বরং তৃণমূলের শক্তি পরীক্ষা এবং বিজেপির জন্য নিজেদের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ। রাজ্যের রাজনীতি আবার উত্তপ্ত হবে কালীপুজোর পরে, এবং ১৩ নভেম্বর বাংলার ভোটাররা ঠিক করবেন কোন দিকের পাল ভারী হবে।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *