কলকাতার ফ্ল্যাট-জমি ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির হাওয়া, ‘সার্কল রেট’-এ ছাড় দিল রাজ্য সরকার

কলকাতার ফ্ল্যাট-জমি ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির হাওয়া! কলকাতায় ফ্ল্যাট, জমি বা বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছেন? তাহলে আপনার জন্য এসেছে বড় সুখবর। দীর্ঘদিনের দাবি মেনে রাজ্য সরকার অবশেষে সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়ের ন্যূনতম সরকারি…

September 28, 2025
1 min read

কলকাতার ফ্ল্যাট-জমি ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির হাওয়া!

কলকাতায় ফ্ল্যাট, জমি বা বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছেন? তাহলে আপনার জন্য এসেছে বড় সুখবর। দীর্ঘদিনের দাবি মেনে রাজ্য সরকার অবশেষে সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়ের ন্যূনতম সরকারি মূল্য বা ‘সার্কল রেট’ আংশিকভাবে কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে স্ট্যাম্প ডিউটি ও রেজিস্ট্রেশন ফি-র বাড়তি চাপ অনেকটাই কমবে, বিশেষত মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের জন্য যা বিশাল স্বস্তির খবর।


🏠 সার্কল রেট কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ

‘সার্কল রেট’ আসলে কোনও সম্পত্তির সরকার নির্ধারিত ন্যূনতম দাম, যার উপর ভিত্তি করে স্ট্যাম্প ডিউটি ও রেজিস্ট্রেশন ফি ধার্য করা হয়। বাজারদর যদি এর চেয়ে কমও হয়, তবু ক্রেতা-বিক্রেতাকে সেই সার্কল রেট অনুযায়ী কর দিতে হয়। সম্প্রতি এই রেট অনেক এলাকায় হঠাৎ ৮০-৯০% পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল, যার ফলে ক্রেতাদের পকেটে পড়ছিল বাড়তি চাপ।

রিয়েল এস্টেট সংগঠনগুলি জানিয়েছিল, অনেক ক্ষেত্রেই সরকারি রেট বাজারদরের চেয়ে অনেক বেশি নির্ধারণ করা হয়েছিল। ফলে বাস্তব দামের তুলনায় বেশি রেজিস্ট্রেশন খরচ গুনতে হচ্ছিল। সেই দাবি খতিয়ে দেখে রাজ্য সরকার অবশেষে সংশোধনের পথে হাঁটল।


📉 কোথায় কতটা কমল সার্কল রেট

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কলকাতার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সার্কল রেট উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ –

  • বনহুগলি (বিটি রোড): আগে বৃদ্ধির পর রেট ছিল ৮৮%, এখন তা কমিয়ে করা হয়েছে ৫৩%।
  • মহিষবাথান (সল্টলেক লাগোয়া): ৮৭% থেকে কমিয়ে ৫৪%।
  • দক্ষিণ বাইপাস: ৮৩% থেকে কমিয়ে ৫২%।

এছাড়া, বেহালা সরশুনা এবং নিউ টাউনের মতো এলাকায় নতুন সার্কল রেট নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলছে। তবে টালিগঞ্জের সিরিটি, মহাবীরতলা ও বিএল সাহা রোডের মতো কিছু জায়গায় এখনও কোনও পরিবর্তন আসেনি।


💸 প্রতি বর্গফুটে কতটা সাশ্রয়

এই হ্রাসের ফলে সরাসরি কমবে সম্পত্তির রেজিস্ট্রেশন খরচ। যেমন –

  • মহিষবাথানে প্রতি বর্গফুটে ৩,৪৬৩ টাকা কমেছে।
  • তপসিয়ায় ২,৮১৪ টাকা,
  • বনহুগলি বিটি রোডে ২,৪৭৫ টাকা,
  • বেহালা সরশুনায় ২,০০১ টাকা হ্রাস পেয়েছে।

এর ফলে ফ্ল্যাট বা জমি কেনার সময় ক্রেতাদের হাতে থেকে যাচ্ছে কয়েক লক্ষ টাকা পর্যন্ত সাশ্রয়।


🏡 ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের প্রতিক্রিয়া

একটি প্রোমোটিং সংস্থার কর্ণধার জানিয়েছেন, “সার্কল রেট যদি বাজারদরের কাছাকাছি থাকে, তা হলে সেটা ক্রেতা ও প্রোমোটার— দুই পক্ষের জন্যই লাভজনক। নির্মাণ খরচে সাধারণত খুব বেশি পার্থক্য হয় না, কিন্তু জমির দাম নিয়ে অনেক জায়গায় সরকারি রেট বাস্তব বাজারমূল্যের তুলনায় অনেকটাই বেশি ছিল।”

রিয়েল এস্টেট সংগঠনগুলির মতে, এই ছাড় বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের জন্য বড় স্বস্তির খবর। যাঁরা গৃহঋণ শোধ করার পাশাপাশি স্ট্যাম্প ডিউটি ও রেজিস্ট্রেশনের অতিরিক্ত খরচে হিমশিম খাচ্ছিলেন, তাঁদের অনেকটাই চাপ কমবে।


📊 সরকারের আয়ও বাড়বে

রাজ্যের অর্থ দফতর মনে করছে, এই ছাড় ঘোষণার পরেও সরকারের রাজস্ব আয় কমবে না, বরং আরও বাড়তে পারে। কারণ, হালনাগাদ সার্কল রেট বাজারদরের কাছাকাছি হওয়ায় ক্রয়-বিক্রয় বাড়বে, এবং বেশি সংখ্যায় সম্পত্তি নিবন্ধন হলে রাজস্বও বাড়বে।

এক আধিকারিক বলেন, “অতিরিক্ত ফি-র কারণে বহু মানুষ রেজিস্ট্রেশন পিছিয়ে দিচ্ছিলেন। এখন পরিস্থিতি বদলাবে। কয়েকটি জায়গা বাদে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ছাড় ঘোষণা করা হয়েছে।”

ষষ্ঠীতেই নামছে ঝড়বৃষ্টি! পুজোর ক’দিন কেমন থাকবে কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *