করাচির সেই রাত: বিস্ফোরণের আতঙ্ক পেরিয়ে মানবতার হাত ধরেছিলেন সোনু

বিস্ফোরণের আতঙ্ক পেরিয়ে মানবতার হাত ধরেছিলেন সোনু! সন্ত্রাসের ভয়াল স্মৃতি, আর তার মাঝেই মানুষের অদম্য সহমর্মিতা— এমন এক অভিজ্ঞতার কথাই সামনে আনলেন গায়ক Sonu Nigam। ২০০৪ সালের ১০ এপ্রিল, Karachi-তে…

March 31, 2026
1 min read

বিস্ফোরণের আতঙ্ক পেরিয়ে মানবতার হাত ধরেছিলেন সোনু!

সন্ত্রাসের ভয়াল স্মৃতি, আর তার মাঝেই মানুষের অদম্য সহমর্মিতা— এমন এক অভিজ্ঞতার কথাই সামনে আনলেন গায়ক Sonu Nigam। ২০০৪ সালের ১০ এপ্রিল, Karachi-তে একটি লাইভ কনসার্ট করতে গিয়ে তিনি মুখোমুখি হয়েছিলেন ভয়াবহ পরিস্থিতির। অনুষ্ঠানস্থলের কাছেই ঘটে যায় বোমা বিস্ফোরণ, প্রাণ হারান বেশ কয়েকজন। তবু থেমে থাকেনি সঙ্গীত, থামেনি মানুষের সংযোগ।

সেই ঘটনার স্মৃতি নতুন করে সামনে এসেছে একটি ভিডিওর মাধ্যমে, যা ভাগ করে নিয়েছেন সোনুর এক পাকিস্তানি অনুরাগী। পরে সেটিই নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন গায়ক। ভিডিওতে উঠে এসেছে সেই রাতের টানটান উত্তেজনা, ভয় আর তার মাঝেও অবিচল এক শিল্পীর দায়বদ্ধতা।

বিস্ফোরণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্বাভাবিক ভাবেই আতঙ্ক ছড়ায় চারদিকে। মঞ্চে ওঠার আগে কিছুটা দুশ্চিন্তায় ছিলেন সোনু নিজেও। কিন্তু দর্শকদের অপেক্ষা আর ভালোবাসা তাঁকে পিছিয়ে যেতে দেয়নি। শেষ পর্যন্ত মঞ্চে ওঠেন তিনি— এবং শুরু হয় এক আবেগঘন সন্ধ্যা।

সে দিন তিনি গেয়েছিলেন জনপ্রিয় সব হিন্দি ছবির গান— “সুরজ হুয়া মদ্ধম”, “কল হো না হো”, “ম্যায় হুঁ না”, “কভি খুশি কভি গম”, “বীর জ়ারা”— একের পর এক। বিশেষ করে “সুরজ হুয়া মদ্ধম” গাওয়ার সময় গোটা দর্শকাসন একসঙ্গে গলা মিলিয়েছিল তাঁর সঙ্গে। ভয় আর অনিশ্চয়তার মধ্যেও সেই মুহূর্ত যেন এক অনন্য মানবিক বন্ধনের প্রতীক হয়ে ওঠে।

মঞ্চে উঠে সোনু দর্শকদের উদ্দেশে বলেছিলেন, “আমি আজকের সন্ধ্যায় আপনাদের মনোরঞ্জন করার চেষ্টা করব। আপনাদের কোনও তাড়া নেই তো?”— এই সহজ কথার মধ্যেই লুকিয়ে ছিল তাঁর সাহস আর দায়িত্ববোধ।

ভিডিওতে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজক Furkan Siddiqui-র কথাও শোনা যায়। তিনি জানান, ওই ঘটনার পর প্রতি বছর ১০ এপ্রিল সোনুর কাছ থেকে একটি বার্তা পেতেন। সেই বার্তায় সোনু লিখতেন—
“সেদিন আমরা একসঙ্গে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছিলাম। হামলা হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু আমাকে বাঁচিয়েছিলেন পাকিস্তানের মানুষই।”

এই একটি বাক্য যেন পুরো ঘটনার সারাংশ— আতঙ্কের মাঝেও মানবতার জয়।

আজও সেই অভিজ্ঞতা সোনুর মনে অমলিন। সন্ত্রাসের মুখোমুখি হয়েও তিনি যেভাবে গানকে থামতে দেননি, তা যেমন এক শিল্পীর সাহসের গল্প, তেমনই দুই দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্কের এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

শেষ পর্যন্ত, সেই রাত প্রমাণ করেছিল— সীমানা যতই টানা থাকুক, মানুষের মানবিকতা আর ভালোবাসার কোনও সীমানা নেই।

শেষ লড়াইয়ের গল্প: জল থেকে তোলার পরও বেঁচে ছিলেন রাহুল, তবু বাঁচানো গেল না

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *