এক দফায় ভোটের পক্ষে রাজ্য নির্বাচন দফতর!
আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন কত দফায় হবে— এই প্রশ্ন ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। এর মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতর। তাদের স্পষ্ট অবস্থান— এক দফাতেই ভোট করতে আগ্রহী তারা। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দিল্লির নির্বাচন সদন, তবু রাজ্যের তরফে এক দফায় ভোটের প্রস্তাবই পাঠানো হবে বলে সিইও দফতর সূত্রে খবর।
সিইও মনোজকুমার আগরওয়ালের দফতরের এক আধিকারিকের বক্তব্যে আত্মবিশ্বাস স্পষ্ট। তাঁর কথায়, “এক দফায় ভোট হলে অসুবিধার কী আছে? এই রাজ্যে আগেও এক দফায় নির্বাচন হয়েছে। প্রশাসনিক দিক থেকে আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।” অর্থাৎ নিরাপত্তা, কর্মী মোতায়েন, ভোট পরিচালনা— সব ক্ষেত্রেই এক দফায় ভোট করানোর মতো প্রস্তুতি রয়েছে বলেই দাবি।
এই প্রসঙ্গ উঠল এমন এক সময়ে, যখন ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের স্মৃতি এখনও টাটকা। অতিমারির আবহে সেই বছর পশ্চিমবঙ্গে আট দফায় ভোট হয়েছিল। দীর্ঘায়িত নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে তখন তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে নির্বাচন কমিশন। শুধু বিরোধী দল নয়, শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসও প্রশ্ন তোলে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যেই বলেন, ৩৯টি লোকসভা আসন থাকা তামিলনাড়ুতে যদি এক দফায় ভোট সম্ভব হয়, তবে পশ্চিমবঙ্গে আট দফার প্রয়োজন কেন? সেই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও নিশানা করেছিলেন তিনি।
এ বার পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা। আগামী এপ্রিল-মে মাসে তামিলনাড়ু, কেরল, অসম ও পুদুচেরির সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গেও বিধানসভা ভোট হওয়ার কথা। অতীতের দিকে তাকালে দেখা যায়, ভোটের দফা সংখ্যা ক্রমেই কমেছে-বেড়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতার নিরিখে। ২০১১ সালে ইউপিএ জমানায় পশ্চিমবঙ্গে ভোট হয়েছিল ছ’দফায়। ২০১৬ সালে মোদী সরকারের আমলে তা বেড়ে হয় সাত দফা। আর ২০২১ সালে, অতিমারির যুক্তিতে, সেই সংখ্যা পৌঁছয় আটে।
এ বার এক দফার সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক শিবিরেও নড়াচড়া শুরু হয়েছে। বিজেপির একটি সূত্র আগেই জানিয়েছিল, দলটির তরফে কম দফায় ভোট করানোর আবেদন জানানো হয়েছে নির্বাচন কমিশনে। পাশাপাশি নজির হিসেবে উঠে আসছে বিহারের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচন, যেখানে কমিশন এক দফাতেই ভোট করিয়েছে।
সব মিলিয়ে, রাজ্যের প্রশাসনিক দফতর এক দফায় ভোটের জন্য প্রস্তুত বলেই বার্তা দিচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিস্থিতি, কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রাপ্যতা ও সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিচার করেই সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন। এখন দেখার, পশ্চিমবঙ্গে ভোটের লড়াই একদিনেই মিটবে, না কি আবার দীর্ঘ পর্বে গড়াবে নির্বাচনের ময়দান।
প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই