ইরান যুদ্ধ!
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আগুন জ্বলতেই ধীরে ধীরে দুই মেরুতে ভাগ হয়ে যাচ্ছে বিশ্বরাজনীতি। ইরান বনাম আমেরিকা-ইজ়রায়েল সংঘাতে কে কার পাশে— তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর কূটনৈতিক টানাপড়েন। সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ভারত ও পাকিস্তানের অবস্থান।
🔥 যুদ্ধের সূচনা ও প্রথম জোট
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ সামরিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজ়রায়েল। অভিযানের নাম দেয় ‘অপারেশন লায়ন্স রোর’ ও ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। এই আক্রমণের পর থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায়— ওয়াশিংটন ও তেল আভিভ একসঙ্গে কৌশল সাজাচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনে রয়েছে মার্কিন ঘাঁটি। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সেই অঞ্চলগুলিকেও অশান্ত করেছে। ফলে এই উপসাগরীয় দেশগুলি প্রকাশ্যে না হলেও পরোক্ষভাবে আমেরিকা-ইজ়রায়েলের দিকেই ঝুঁকছে।
🌐 ইউরোপ ও পশ্চিমি সমর্থন
ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে। সাইপ্রাসে ব্রিটিশ ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার পর লন্ডন প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রয়োজনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা কমাতে ইউরোপীয় শক্তিগুলি সরাসরি বা পরোক্ষভাবে অংশ নিতে পারে।
এ ছাড়া কানাডা-ও আমেরিকা-ইজ়রায়েলের অবস্থানকে নীতিগত সমর্থন জানিয়েছে, বিশেষত ইরানের সম্ভাব্য পরমাণু ক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে।
🛡️ ইরানের পাশে কারা?
ইরান একেবারে একা নয়। পশ্চিমি গণমাধ্যমের দাবি, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইতিমধ্যেই তেহরানকে ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানোর বিষয়ে সক্রিয়। রাশিয়ার তৈরি এস-৩০০ ব্যবস্থা ইরানের হাতে রয়েছে, ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী এস-৪০০ পাঠানোর জল্পনাও আছে।
অন্য দিকে, চিন ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি-সঙ্গী। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বেজিং তেহরান থেকে তেল কিনে এসেছে। ফলে প্রকাশ্যে না হলেও, কূটনৈতিকভাবে ইরানকে সমর্থন জানাতে পারে তারা। উত্তর কোরিয়াও কড়া ভাষায় আমেরিকার পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে।
তবে প্রশ্ন উঠছে— ইউক্রেন যুদ্ধে জর্জরিত রাশিয়া কতটা সরাসরি ঝাঁপাবে? নতুন ফ্রন্ট খোলা কি পুতিনের পক্ষে ঝুঁকিপূর্ণ হবে না?
🇮🇳 ভারতের নীরব কৌশল
খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর এখনও পর্যন্ত কোনও কড়া বিবৃতি দেয়নি ভারত। নয়াদিল্লি আপাতত সাবধানী। পশ্চিম এশিয়ায় আটকে পড়া ভারতীয়দের সরিয়ে আনা এবং তেলের বাজারের অস্থিরতার দিকে নজর রাখাই সরকারের অগ্রাধিকার।
উল্লেখযোগ্য বিষয়, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী মোদীর ইজ়রায়েল সফরের পরই এই সংঘাত তীব্র হয়। তবু ভারত সরাসরি কোনও শিবিরে দাঁড়ায়নি— কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখাই তাদের লক্ষ্য।
🇵🇰 পাকিস্তানের তীব্র প্রতিক্রিয়া
অন্য দিকে পাকিস্তান প্রকাশ্যে আমেরিকার সমালোচনা করেছে। করাচিতে মার্কিন দূতাবাস ঘিরে বিক্ষোভ হয়েছে। তবে অর্থনৈতিক সঙ্কটে জর্জরিত ইসলামাবাদের পক্ষে সরাসরি ইরানের পাশে দাঁড়ানো বাস্তবসম্মত নয়। ঋণ ও আর্থিক সহায়তার জন্য এখনও তাদের ভরসা সেই আমেরিকাই।
সব মিলিয়ে, ইরান যুদ্ধ কেবল আঞ্চলিক সংঘর্ষ নয়— এটি এখন বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যের পরীক্ষা। কে শেষ পর্যন্ত কোন পাশে দাঁড়াবে, তা নির্ধারণ করবে আগামী দিনের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?