ইরান যুদ্ধের ছায়া এবার ইলেকট্রনিক্স বাজারে!
পশ্চিম এশিয়ায় ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব যে শুধু জ্বালানি বা রান্নার গ্যাসে আটকে থাকবে না, সেই আশঙ্কাই এখন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এ বার চাপ পড়তে পারে ভারতের বৈদ্যুতিন পণ্যের বাজারেও। স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, মাইক্রোওয়েভ, ইন্ডাকশন কুকার থেকে শুরু করে ইলেকট্রিক গাড়ি— অনেক কিছুরই দাম বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এই আশঙ্কার নেপথ্যে রয়েছে মূলত দু’টি বড় কারণ। প্রথমত, সালফিউরিক অ্যাসিডের সম্ভাব্য সঙ্কট। চিপ বা সেমিকন্ডাক্টর তৈরির ক্ষেত্রে এই রাসায়নিকটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তামা, নিকেল, কোবাল্টের মতো ধাতু পরিশোধন করতে বিপুল পরিমাণ সালফিউরিক অ্যাসিড লাগে। আর সেই অ্যাসিড তৈরির অন্যতম উৎস সালফার, যা আবার খনিজ তেল পরিশোধনের উপজাত। যুদ্ধের জেরে যদি তেল সরবরাহে ধাক্কা লাগে, তা হলে সালফার কমবে, তার টান পড়বে সালফিউরিক অ্যাসিডে, আর শেষ পর্যন্ত সমস্যা তৈরি হবে চিপ উৎপাদনে।
দ্বিতীয় কারণটি আরও গুরুত্বপূর্ণ— তাইওয়ান। বিশ্বের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে তাইওয়ানের ভূমিকা এতটাই বড় যে তাকে অনেকেই ‘চিপ কারখানা’ বলে থাকেন। কিন্তু সেই দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় অংশ নির্ভর করে এলএনজির উপর। যদি জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়, তা হলে সেমিকন্ডাক্টর কারখানাগুলিও চাপের মুখে পড়বে। ফলত উৎপাদন কমে যেতে পারে, আর চাহিদা-জোগানের ফারাকে দাম বাড়বে চিপের। তার প্রভাব এসে পড়বে প্রায় সব ধরনের ইলেকট্রনিক্স পণ্যে।
ইতিমধ্যেই বাজারে কিছু ইঙ্গিত মিলছে বলেই দাবি বিশ্লেষকদের। মার্চ মাসে কিছু কম্পিউটার পণ্যের দামে ১০-১২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে বলে আলোচনা চলছে। নতুন অর্থবর্ষে সেই ঊর্ধ্বগতি আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা। ডিলারদের একাংশ নাকি আগেভাগেই সেমিকন্ডাক্টর মজুত করতে শুরু করেছেন। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে নির্মাতাদের বেশি দামে চিপ কিনতে হবে, আর তার চাপ গিয়ে পড়বে সাধারণ ক্রেতার উপরেই।
শুধু বৈদ্যুতিন পণ্য নয়, পোশাক শিল্পও চাপে পড়তে পারে। কারণ পলিয়েস্টার, প্লাস্টিক প্যাকেজিং, জ়িপার, বোতাম, লেবেলের মতো বহু উপকরণই পেট্রোরাসায়নিক নির্ভর। কাঁচামালের দাম বাড়লে জামাকাপড়ের খরচও বাড়বে। ফলে বাজারে পোশাকের দামও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।
তবে সব পক্ষ একমত নয়। অনেকে বলছেন, অপরিশোধিত তেলের ক্ষেত্রে ভারত এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি বৈচিত্র্যময় উৎসের উপর নির্ভর করছে। তাই সরাসরি তেল-সঙ্কটে দেশ হয়তো খুব বড় ধাক্কা খাবে না। কিন্তু এলএনজি এবং তার সঙ্গে জড়িত খাতগুলিতে চাপ বাড়ার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। রান্নার গ্যাস ও সিএনজির দামের উপরেও তার প্রভাব পড়তে পারে।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, সাধারণ মানুষের বাজারের ঝাঁকুনিও তত বাড়বে— এই বার্তাই এখন সবচেয়ে জোরালো। হেঁশেল থেকে শুরু করে মোবাইলের দোকান, সব জায়গাতেই তার অভিঘাত পৌঁছতে পারে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?