ইরান যুদ্ধের ছায়া আকাশপথে!
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির প্রভাব এবার পড়তে শুরু করেছে বিমানযাত্রায়ও। আমেরিকা ও ইরানের সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম ও সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতেই ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল Air India এবং Air India Express।
দুটি সংস্থাই ঘোষণা করেছে, জ্বালানির বাড়তি খরচ সামাল দিতে এবার টিকিটের উপর আলাদা করে ‘ফুয়েল সারচার্জ’ নেওয়া হবে। প্রথম ধাপে এই নতুন সারচার্জ কার্যকর হবে আগামী ১২ মার্চ থেকে।
দেশীয় বিমানে নতুন সারচার্জ
বর্তমানে দেশের ভিতরে বিমানে যাতায়াতের ক্ষেত্রে জ্বালানির জন্য আলাদা সারচার্জ নেওয়া হয় না। কিন্তু নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১২ মার্চ থেকে অন্তর্দেশীয় বিমানের প্রতিটি টিকিটের উপর ৩৯৯ টাকা করে অতিরিক্ত সারচার্জ ধার্য করা হবে।
শুধু দেশের মধ্যেই নয়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলিতে যাওয়া বিমানের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ সার্কভুক্ত দেশগুলিতে যাত্রার টিকিটেও ৩৯৯ টাকা করে অতিরিক্ত চার্জ দিতে হবে।
আন্তর্জাতিক রুটেও বাড়ছে খরচ
পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলিতে যাওয়া বিমানের টিকিটেও বাড়ছে খরচ। এতদিন সেখানে কোনও সারচার্জ ছিল না। কিন্তু নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সেই রুটে প্রতি টিকিটে ১০ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৯০০ টাকা) অতিরিক্ত দিতে হবে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গন্তব্যে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও সারচার্জ বাড়ানো হয়েছে। এতদিন যেখানে ৪০ ডলার দিতে হত, এখন তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৬০ ডলার।
আফ্রিকার দেশগুলিতে যাত্রার ক্ষেত্রেও খরচ বেড়েছে। আগে যেখানে ৬০ ডলার সারচার্জ ছিল, এখন তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৯০ ডলার।
দ্বিতীয় ধাপে আরও বৃদ্ধি
এখানেই শেষ নয়। বিমান সংস্থাগুলি জানিয়েছে, ১৮ মার্চ থেকে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং অস্ট্রেলিয়াগামী বিমানের সারচার্জও বাড়ানো হবে।
ইউরোপে যাওয়ার বিমানের ক্ষেত্রে সারচার্জ ১০০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১২৫ ডলার করা হবে। আর উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার রুটে এটি ১৫০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২০০ ডলার করা হবে।
পরবর্তী সময়ে হংকং, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়াগামী বিমানের ক্ষেত্রেও সারচার্জ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সেই পরিবর্তন কবে থেকে কার্যকর হবে, তা এখনও স্পষ্ট করে জানানো হয়নি।
কেন বাড়ছে বিমানভাড়া?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বাড়তে থাকা অনিশ্চয়তা। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হল Strait of Hormuz। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মাঝখানে অবস্থিত এই সংকীর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের তেল পরিবহন হয়।
ভারতেও যে জ্বালানি তেল আমদানি হয়, তার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এই পথ দিয়েই আসে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
গত কয়েক দিনে কিছু পণ্যবাহী জাহাজে হামলার অভিযোগও সামনে এসেছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে পরিবহণ খরচে।
সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার ঢেউ এবার আকাশপথেও পৌঁছে গেছে। আর তার ফলেই আগামী দিনগুলোতে বিমানযাত্রা আরও কিছুটা ব্যয়বহুল হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?