ইরান বনাম ইজ়রায়েল: ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্রের দ্বন্দ্বে কার পাল্লা ভারী?

ইরান বনাম ইজ়রায়েল! পশ্চিম এশিয়ার আকাশে এখন বারুদের গন্ধ। হামলা-পাল্টা হামলায় মুখোমুখি দুই ‘চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী’— Iran ও Israel। সাম্প্রতিক সংঘাতে উত্তেজনা চরমে উঠেছে। প্রশ্ন একটাই— সামরিক শক্তির নিরিখে এগিয়ে কে? শেষ…

March 3, 2026
1 min read

ইরান বনাম ইজ়রায়েল!

পশ্চিম এশিয়ার আকাশে এখন বারুদের গন্ধ। হামলা-পাল্টা হামলায় মুখোমুখি দুই ‘চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী’— Iran ও Israel। সাম্প্রতিক সংঘাতে উত্তেজনা চরমে উঠেছে। প্রশ্ন একটাই— সামরিক শক্তির নিরিখে এগিয়ে কে? শেষ হাসি হাসবে কোন দেশ?

আন্তর্জাতিক সমীক্ষা সংস্থা Global Firepower-এর ২০২৬ সালের সূচক অনুযায়ী, বিশ্বের ১৪৫টি দেশের মধ্যে ইজ়রায়েলের স্থান ১৫তম, আর ইরান ১৬তম। স্কোর যত কম, অবস্থান তত উঁচু— সেই হিসাবে ইজ়রায়েলের স্কোর ০.২৭০৭, ইরানের ০.৩১৯৯। অর্থাৎ, কাগজে-কলমে তেল আভিভ সামান্য এগিয়ে, তবে ব্যবধান খুব বেশি নয়।

জনসংখ্যা ও সেনাবাহিনী

জনসংখ্যার নিরিখে ইরান অনেক বড়— প্রায় ৮ কোটির বেশি মানুষ। তুলনায় ইজ়রায়েলের জনসংখ্যা ১ কোটিরও কম। সক্রিয় সেনা সংখ্যায় ইরানের প্রায় ১১ লক্ষের বেশি সদস্য রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে আধাসামরিক বাহিনী Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি), যাদের হাতে রয়েছে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের বড় ভান্ডার।

ইজ়রায়েলের সক্রিয় সেনা তুলনায় কম— প্রায় ১.৭ লক্ষ। তবে রিজ়ার্ভ বাহিনীতে তারা বেশ শক্তিশালী, প্রায় ৪.৫ লক্ষের বেশি সদস্য প্রস্তুত থাকে প্রয়োজনে। বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণের কারণে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দ্রুত বাহিনী বাড়ানোর ক্ষমতা রয়েছে তাদের।

ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন শক্তি

ক্ষেপণাস্ত্র শক্তিতে ইরান দীর্ঘদিন ধরেই বিনিয়োগ করেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, তাদের হাতে ৩,০০০-এর বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ‘শাহাব’ ও ‘ফতেহ’ সিরিজ় থেকে শুরু করে দীর্ঘপাল্লার সেজ্জিল— নানা ধরনের অস্ত্র তাদের ভান্ডারে। পাশাপাশি আত্মঘাতী ড্রোন প্রযুক্তিতেও ইরান উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে।

ইজ়রায়েল অবশ্য প্রতিরক্ষায় অত্যন্ত দক্ষ। তাদের বহুল আলোচিত Iron Dome আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্বল্পপাল্লার রকেট ও ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম। এছাড়া ‘ডেভিড’স স্লিং’ ও ‘অ্যারো’ সিস্টেমও রয়েছে বহুস্তরীয় সুরক্ষার জন্য।

বায়ুসেনা ও প্রযুক্তি

বায়ুশক্তির নিরিখে ইজ়রায়েল স্পষ্ট ভাবে এগিয়ে। তাদের হাতে রয়েছে প্রায় ৬০০ সামরিক বিমান, যার মধ্যে ২০০-র বেশি লড়াকু জেট। আমেরিকার তৈরি F-35 Lightning II, F-16 Fighting Falcon ও F-15 Eagle-এর মতো আধুনিক যুদ্ধবিমান রয়েছে তাদের বহরে। স্টেল্‌থ প্রযুক্তি ও নির্ভুল বোমাবর্ষণে তারা বিশেষ পারদর্শী।

ইরানের বিমানবাহিনীতে প্রায় ৫৫০টি সামরিক বিমান থাকলেও, সেগুলির অনেকই পুরনো মডেলের। প্রযুক্তিগত আধুনিকতায় ইজ়রায়েলের তুলনায় তারা পিছিয়ে বলে মত প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের।

শেষ হাসি কার?

সংখ্যার দিক থেকে ইরান শক্তিশালী— বিশাল জনসংখ্যা, বিপুল ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার ও আঞ্চলিক মিত্রদের সমর্থন রয়েছে তাদের পাশে। অন্য দিকে, ইজ়রায়েলের শক্তি তার উন্নত প্রযুক্তি, গোয়েন্দা দক্ষতা ও দ্রুত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

যুদ্ধ শুধু অস্ত্রের হিসাব নয়— কৌশল, জোট, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক সমর্থনও বড় ভূমিকা নেয়। তাই ‘শেষ হাসি’ কার হবে, তা নির্ভর করবে শুধু ড্রোন বা জেটের উপর নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত স্থিতির উপর।

এই মুহূর্তে নিশ্চিত একটাই— পশ্চিম এশিয়ার এই সংঘাত বিশ্বরাজনীতির ভারসাম্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। আর সেই কারণেই ইরান-ইজ়রায়েল দ্বন্দ্বে নজর গোটা বিশ্বের।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *