ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের বোমা হুঁশিয়ারি! পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত করছে তেহরান

ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের বোমা হুঁশিয়ারি! মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষর না করলে ইরানের উপর বোমা ফেলবে আমেরিকা। তাঁর এই বক্তব্যের পরই যুদ্ধ পরিস্থিতির উত্তাপ…

March 31, 2025
0 min read

ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের বোমা হুঁশিয়ারি!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষর না করলে ইরানের উপর বোমা ফেলবে আমেরিকা। তাঁর এই বক্তব্যের পরই যুদ্ধ পরিস্থিতির উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে মধ্যপ্রাচ্যে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তেহরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে।

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: চুক্তি না হলে সামরিক হামলা

একটি টেলিফোন সাক্ষাৎকারে আমেরিকার সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তির বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে তেহরান যদি চুক্তিতে রাজি না হয়, তাহলে আমেরিকা সামরিক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে। তিনি আরও বলেন, “ওরা যদি চুক্তি না করে, তাহলে আমরা বোমা ফেলব। তবে শুল্ক আরোপের মতো অন্য উপায়ও আছে, যেমনটা আগেও করেছি।”

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তেহরান প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুতি শুরু করেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যেই মাটির নিচে ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রাখতে শুরু করেছে।

ইরানের প্রতিক্রিয়া: সরাসরি আলোচনায় আগ্রহ নেই

ট্রাম্পের দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফিরে আসার পর থেকেই তিনি ইরানের সঙ্গে নতুন করে পরমাণু চুক্তি করতে চাইছেন। এ জন্য তিনি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইকে চিঠিও পাঠান। চিঠিতে বলা হয়, দুই মাসের মধ্যে চুক্তি করতে হবে, নয়তো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কিন্তু ইরান সেই হুমকিকে পাত্তা দেয়নি। বরং, তারা জানিয়ে দিয়েছে, চাপ ও সামরিক হুমকির মুখে কোনও আলোচনায় বসবে না। তবে পরোক্ষ আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য দরজা খোলা রেখেছে তারা।

কেন এত উত্তপ্ত পরিস্থিতি?

পরমাণু চুক্তি নিয়ে ইরান ও আমেরিকার টানাপোড়েন নতুন কিছু নয়। ২০১৫ সালে বারাক ওবামার সময় ব্রিটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া, জার্মানি ও চীনের সঙ্গে মিলে ইরানের সঙ্গে একটি পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল আমেরিকা। এই চুক্তি অনুযায়ী, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি বন্ধ রাখবে, আর বিনিময়ে তাদের উপর বসানো অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে।

কিন্তু ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ চুক্তি থেকে আমেরিকাকে সরিয়ে নেন। তিনি অভিযোগ করেন, এই চুক্তির ফলে আমেরিকার কোনো লাভ হয়নি, বরং ইরানই বেশি সুবিধা পেয়েছে। এরপরই ইরানের ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ওয়াশিংটন।

নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা

জো বাইডেন ক্ষমতায় আসার পর আবারও পরমাণু চুক্তির আলোচনা শুরু হয়েছিল। কিন্তু ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে ফিরে আসার পর, তিনি আবারও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি শেষ পর্যন্ত চুক্তিতে রাজি না হয়, তাহলে আমেরিকা সত্যিই সামরিক হামলা চালাতে পারে। তবে তেহরানও বসে নেই। তারা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা আরও হুমকির মুখে পড়ছে।

শেষ কথা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বোমা ফেলার হুঁশিয়ারি এবং ইরানের পাল্টা সামরিক প্রস্তুতি মধ্যপ্রাচ্যের শান্তির জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরান কি শেষ পর্যন্ত চুক্তিতে রাজি হবে, নাকি যুদ্ধ অনিবার্য— সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপপুঞ্জে ভূমিকম্পের তাণ্ডব! সুনামির আশঙ্কা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *