ইরানের আকাশে রহস্যময় ত্রিভুজ!
আকাশে আচমকা দেখা দিল রহস্যময় এক উড়ন্ত বস্তু। ত্রিভুজের মতো আকৃতি, রাতের অন্ধকারে বিচিত্র আলো—আর তার পরেই শুরু হয়ে গেল জল্পনা। ইরানের তেহরানের আকাশে এমনই একটি বস্তু দেখা যাওয়ার পর সমাজমাধ্যমে অনেকে দাবি করেছেন, এটি নাকি বহু বছর ধরে রহস্যে মোড়া মার্কিন ‘ব্ল্যাক মান্টা’!
২০ সেপ্টেম্বর তেহরানের আজাদেগান এক্সপ্রেসওয়ের কাছে ওই অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তুর ছবি তোলা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বস্তুটির পরিচয় অবশ্য এখনও নিশ্চিত নয়। কেউ সেটিকে ড্রোন, কেউ সাধারণ বিমান, আবার কেউ অন্য কোনও আলোকিত উড়ন্ত বস্তু বলে মনে করছেন। এর সঙ্গে কথিত ‘ব্ল্যাক মান্টা’র কোনও সম্পর্ক রয়েছে—এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণও সামনে আসেনি।
‘ব্ল্যাক মান্টা’ নামে যে রহস্যময় বিমানের কথা ইন্টারনেটে দীর্ঘ দিন ধরে ঘুরে বেড়ায়, তাকে সাধারণত TR-3B নামে চিহ্নিত করা হয়। কথিত এই বিমানের সঙ্গে কালো ত্রিভুজাকার আকৃতি, অস্বাভাবিক গতি এবং নিঃশব্দে উড়ে যাওয়ার মতো নানা দাবি জুড়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মার্কিন সরকার কখনও TR-3B ‘ব্ল্যাক মান্টা’ নামে কোনও বিমানের অস্তিত্ব বা মালিকানা আনুষ্ঠানিক ভাবে স্বীকার করেনি।
রহস্য আরও ঘনীভূত হয় ১৯৭৬ সালের একটি ঘটনার কারণে। সে বছর তেহরানের আকাশে একটি অজ্ঞাত উজ্জ্বল বস্তুকে দেখা গিয়েছিল বলে মার্কিন সরকারি নথিতে উল্লেখ রয়েছে। দু’টি ইরানি F-4 যুদ্ধবিমান সেটিকে অনুসরণ করেছিল বলেও নথিতে বর্ণনা রয়েছে। তবে সেই বস্তুর প্রকৃত পরিচয় কী ছিল, তা নিশ্চিত ভাবে জানা যায়নি।
‘ব্ল্যাক মান্টা’কে ঘিরে সবচেয়ে চমকপ্রদ দাবি অবশ্য এর কথিত প্রযুক্তি নিয়ে। ষড়যন্ত্রতত্ত্বে বলা হয়, বিমানটি নাকি ‘অ্যান্টি-গ্র্যাভিটি’ প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে। কেউ কেউ আরও দাবি করেন, পারমাণবিক শক্তি ও প্লাজ়মা প্রযুক্তির সাহায্যে মাধ্যাকর্ষণের প্রভাব কমিয়ে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে চলতে পারে সেটি। কিন্তু এই তত্ত্বগুলির পক্ষে কোনও নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ প্রকাশ্যে নেই।
রাডারে ধরা না পড়া, মুহূর্তের মধ্যে গতি বাড়ানো বা আচমকা দিক বদলে ফেলার মতো ক্ষমতার কথাও প্রচলিত। সম্ভাব্য কাজ হিসেবে গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহের কথা বলা হয়। তবে এগুলিও মূলত অনুমান এবং ইন্টারনেটে ছড়িয়ে থাকা তত্ত্বের অংশ।
২০২১ সালে ইরানি সংবাদমাধ্যমে একটি ত্রিভুজাকার উড়ন্ত বস্তুর ছবি প্রকাশিত হওয়ার পরও সেটিকে ‘ব্ল্যাক মান্টা’র সঙ্গে তুলনা করা হয়েছিল। কিন্তু সেই ছবিও এই কথিত বিমানের অস্তিত্বের প্রমাণ হয়ে ওঠেনি।
তবে গোপন মার্কিন সামরিক বিমানের অস্তিত্ব যে একেবারে কল্পনা নয়, তার নজির রয়েছে। F-117 Nighthawk-এর মতো বিমান বহু বছর গোপন রাখার পর প্রকাশ্যে এসেছিল। সেই ইতিহাসই হয়তো ‘ব্ল্যাক মান্টা’কে ঘিরে রহস্যকে আরও উসকে দেয়।
তেহরানের আকাশে দেখা সাম্প্রতিক বস্তুটি আসলে কী, তার উত্তর এখনও মেলেনি। সেটি ‘ব্ল্যাক মান্টা’—এমন দাবিরও কোনও অকাট্য প্রমাণ নেই। ফলে আপাতত রহস্যের কেন্দ্রে রয়েছে একটি অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু এবং তাকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া নানা তত্ত্ব।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।