ফোনেই এল চমক, হতবাক নারায়ণ মণ্ডল!
রাজনীতিতে চমকের শেষ নেই—তবে এমন ঘটনা সত্যিই বিরল। প্রার্থী হওয়ার আবেদন জমা দিতেই গিয়েছিলেন, আর ঠিক সেই সময়েই ফোনে জানতে পারলেন—তিনি ইতিমধ্যেই প্রার্থী! এমনই অদ্ভুত কিন্তু আনন্দময় অভিজ্ঞতার সাক্ষী হলেন প্রবীণ আইনজীবী Narayan Chandra Mondal।
ঘটনাটি ঘটেছে বিধাননগরের সেক্টর ফাইভে অবস্থিত বিজেপির রাজ্য দফতরে। সেদিন বিকেলে নারায়ণ মণ্ডল সেখানে গিয়েছিলেন এক সহকর্মীকে প্রার্থী করার আবেদন জমা দিতে সাহায্য করতে। একই সঙ্গে নিজের প্রার্থীপদের আবেদনটিও জমা দেওয়ার ইচ্ছা ছিল তাঁর। বয়স সত্তর পেরিয়েছে, তবু রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার আগ্রহে কোনও ভাটা পড়েনি।
কিন্তু দফতরে পৌঁছে জানা গেল, আবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা ইতিমধ্যেই পেরিয়ে গিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা হতাশ হয়েছিলেন তিনি। তবুও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন—কোনওভাবে আবেদন জমা দেওয়া যায় কি না, সেই আশায়।
এই সময়েই শুরু হয় একের পর এক ফোনকল। পরিচিতদের ফোন আসছিল লাগাতার। ব্যস্ততার কারণে বেশির ভাগই ধরছিলেন না। কখনও বা বাইরে গিয়ে সংক্ষিপ্ত কথা বলে ফিরে আসছিলেন। কিন্তু ফোনের সেই বন্যা থামছিল না।
শেষমেশ ছেলের ফোন এলে আর এড়াতে পারেননি। ফোন ধরতেই প্রথমে খানিক বিরক্তি—“এত বার ফোন করছ কেন?” কিন্তু উত্তরে যা শুনলেন, তাতে মুহূর্তেই বদলে গেল সবকিছু।
ওই ফোনেই তিনি জানতে পারেন, বিজেপির প্রথম দফার প্রার্থিতালিকা প্রকাশিত হয়েছে। আর তাতে বসিরহাট উত্তর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে তাঁরই নাম!
শুনে প্রথমে যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না নারায়ণ। কিছুক্ষণ আগেও যিনি আবেদন জমা দিতে না পারার জন্য আফসোস করছিলেন, তিনিই কিনা ইতিমধ্যেই দলের প্রার্থী! ঘটনাস্থলে উপস্থিত সকলে হতবাক। তাঁর সঙ্গে যাওয়া সহকর্মী তো আরও বিস্মিত—যাঁর জন্য আবেদন জমা দিতে এসেছিলেন, তাঁরই নাম ঘোষণা হয়ে গেল আগে!
রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনা নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। কেউ বলছেন, ২০২১ সালে একই কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হওয়ার অভিজ্ঞতা থাকায় তাঁর নাম আগেই তালিকায় ছিল। আবার কেউ মনে করছেন, বিকল্প মুখের অভাবে দলের তরফে পুরনো ভরসার উপরেই আস্থা রাখা হয়েছে।
আরও একটি সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে—সম্ভবত স্থানীয় স্তরে আগে থেকেই নিজের ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন নারায়ণ। কিন্তু আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা না দিলে টিকিট পাবেন কি না, তা নিয়ে তিনি নিজেই নিশ্চিত ছিলেন না। তাই আবার আবেদন জমা দিতে এসেছিলেন।
যাই হোক, শেষ পর্যন্ত আর আবেদন জমা দেওয়ার প্রয়োজন পড়েনি। বরং উল্টে আবেদন করার আগেই পেয়ে গেলেন অভিনন্দন।
এখন প্রশ্ন একটাই—যে ভাবে প্রার্থী হওয়ার খবর তাঁকে অবাক করেছে, ভোটের ফল ঘোষণার দিনও কি তেমনই কোনও সুখবর অপেক্ষা করছে তাঁর জন্য? সময়ই তার উত্তর দেবে।