আফগান যুদ্ধ নিয়ে মন্তব্যে কূটনৈতিক টানাপড়েন!
আফগানিস্তানে নেটো সেনাদের ভূমিকা নিয়ে করা এক মন্তব্য ঘিরে ফের কূটনৈতিক বিতর্কে জড়ালেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্যকে ‘অপমানজনক’ এবং ‘ভয়াবহ’ আখ্যা দিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বললেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়র স্টার্মার। শুধু তাই নয়, ওই মন্তব্যে যুদ্ধাহত ও শহিদ সৈন্যদের পরিবারগুলির অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে বলেও কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, আফগানিস্তান যুদ্ধে মূলত সামনের সারিতে লড়েছে আমেরিকার সেনাবাহিনী, আর নেটোর অন্যান্য সদস্য দেশের সৈন্যরা ছিল অনেকটাই পিছনে। এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, আফগানিস্তানে প্রাণ হারানো ব্রিটিশ সৈন্যদের সাহস এবং আত্মত্যাগ কোনও ভাবেই খাটো করে দেখা যায় না।
কিয়র স্টার্মার স্মরণ করিয়ে দেন, আফগান যুদ্ধে যুক্তরাজ্যের ৪৫৭ জন সেনা শহিদ হয়েছেন এবং বহু সেনা গুরুতর আহত হয়ে ফিরে এসেছেন। তাঁদের উদ্দেশে শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, “দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করা মানুষগুলির কথা আমি কোনও দিন ভুলব না। তাঁদের অবদানকে অস্বীকার করা শুধু অসম্মানজনকই নয়, ভয়াবহও বটে।” তাঁর মতে, এই ধরনের মন্তব্য শুধু সেনাদের নয়, তাঁদের পরিবার এবং গোটা দেশকেই আঘাত করে।
এটাই প্রথম নয়। এর আগেও ট্রাম্পের বিভিন্ন মন্তব্য নিয়ে প্রকাশ্যে আপত্তি জানিয়েছে ব্রিটেন। স্টার্মারের দফতর থেকে আগেও একাধিক বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছিল, মিত্র দেশগুলির সেনাদের ভূমিকা নিয়ে এমন সাধারণীকরণ গ্রহণযোগ্য নয়।
প্রসঙ্গত, ৯/১১ হামলার পর ২০০১ সালে নেটো বাহিনী আফগানিস্তানে অভিযান শুরু করে। ২০২১ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ দুই দশক ধরে সেই দেশে অবস্থান করে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট। এই সময়কালে প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজারেরও বেশি নেটো সেনা আফগানিস্তানে মোতায়েন ছিলেন। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ওই যুদ্ধে অন্তত ৩,৪৮৬ জন নেটো সেনা প্রাণ হারান। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে আমেরিকার—২,৪৬১ জন মার্কিন সেনা শহিদ হন। যুক্তরাজ্যের শহিদ সৈন্যের সংখ্যা ৪৫৭।
এই প্রেক্ষাপটেই ট্রাম্পের মন্তব্যকে ইতিহাস-বিস্মৃত এবং অসংবেদনশীল বলে মনে করছেন কূটনৈতিক মহলের একাংশ। আফগান যুদ্ধ নিয়ে মতভেদ নতুন নয়, তবে মিত্র দেশের সেনাদের আত্মত্যাগ নিয়ে প্রশ্ন তোলায় বিতর্ক যে আরও তীব্র হবে, তা বলাই বাহুল্য।
‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা