কলকাতার পরিবহন ব্যবস্থায় বড় বদলের পথে রেল!
কলকাতার মেট্রো পরিষেবা এক নতুন যুগে প্রবেশ করতে চলেছে। ব্যস্ত সময়ে যেখানে এখন প্রতি পাঁচ মিনিট বা কোনও কোনও সময় সাত মিনিট অন্তর মেট্রো পাওয়া যায়, সেখানে ভবিষ্যতে সেই ব্যবধান কমে দাঁড়াতে পারে মাত্র আড়াই মিনিটে। রেল মন্ত্রকের এই পরিকল্পনা কার্যকর হলে কলকাতার যাতায়াত ব্যবস্থা আরও দ্রুত, আরও ঘন এবং আরও কার্যকর হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এই পরিবর্তন শুধু সময়সূচি বদল নয়, এর জন্য প্রয়োজন মেট্রোর পুরো অবকাঠামোকে আধুনিক মানে ঢেলে সাজানো।
রেল মন্ত্রক জানিয়েছে, এই লক্ষ্য পূরণ করতে গেলে কলকাতা মেট্রোর লাইনের ধারণ ক্ষমতা বাড়াতে হবে, পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার বড় ধরনের আধুনিকীকরণ প্রয়োজন। পুরনো ব্যবস্থার জায়গায় আরও উন্নত প্রযুক্তির ট্র্যাকশন ও অক্সিলিয়ারি সাবস্টেশন তৈরি করতে হবে। সব মিলিয়ে এই প্রকল্পে মোট ৮৯৫ কোটি ৩০ লক্ষ টাকার বরাদ্দ করা হয়েছে। বিশেষ করে উত্তর–দক্ষিণ করিডর বা ব্লু লাইনে (দক্ষিণেশ্বর থেকে শহিদ ক্ষুদিরাম) সবচেয়ে বেশি কাজ হবে। এই অংশের উন্নয়নের জন্য আলাদা করে ৬৭১ কোটি ৭২ লক্ষ টাকা ধার্য করা হয়েছে।
আশির দশকে যখন কলকাতায় প্রথম মেট্রো চালু হয়, তখন যাত্রীসংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শহরের জনসংখ্যা, কর্মব্যস্ততা এবং যাতায়াতের চাপ অনেক বেড়ে গেছে। সেই চাহিদা সামলাতেই এখন মেট্রো পরিষেবাকে আরও দ্রুত ও ঘন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষের মতে, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ সম্পন্ন হলেই আড়াই মিনিট অন্তর ট্রেন চালানো সম্ভব হবে, যা ভারতের অন্যতম ব্যস্ত মেট্রো পরিষেবাকে এক নতুন স্তরে নিয়ে যাবে।
শুধু মেট্রো নয়, রাজ্যের রেল পরিকাঠামো উন্নয়নেও বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব রেলের আদ্রা বিভাগে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু পুনর্নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। মধুকুণ্ড–দামোদর সেকশনের ৫২০ নম্বর পুরনো রেল সেতু, যা সাধারণভাবে দামোদর সেতু নামে পরিচিত, সেটি নতুন করে তৈরি করা হবে। এই প্রকল্পে বরাদ্দ করা হয়েছে ২২৩ কোটি ৫৮ লক্ষ টাকা। এর সঙ্গে ইয়ার্ড পুনর্গঠন এবং সংযুক্ত সড়ক উন্নয়নও করা হবে।
এই সব প্রকল্প মিলিয়ে রেল মন্ত্রকের লক্ষ্য একটাই—যাত্রীদের জন্য আরও দ্রুত, নিরাপদ এবং আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা। কলকাতা মেট্রোর ক্ষেত্রে আড়াই মিনিট অন্তর পরিষেবা চালু হলে শহরের দৈনন্দিন যাতায়াতে বড় পরিবর্তন আসবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?