ড্যান বোঙ্গিনোর পদত্যাগে কি অস্বস্তির ইঙ্গিত ট্রাম্প প্রশাসনের !
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই-এর অন্দরে আচমকা আলোড়ন। সংস্থার ডেপুটি ডিরেক্টর ড্যান বোঙ্গিনো ঘোষণা করলেন, আগামী জানুয়ারি মাসে তিনি পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন। মাত্র ১০ মাসেরও কম সময় দায়িত্বে থাকার পর তাঁর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জল্পনা। এক সময়ের দক্ষিণপন্থী প্রভাবশালী পডকাস্টার ড্যান কেন হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত নিলেন, তা স্পষ্ট করে না বললেও তাঁর বিদায়ী বার্তার প্রতিটি শব্দ নতুন প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
বুধবার সমাজমাধ্যমে নিজের পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেন ৫১ বছর বয়সি ড্যান। পোস্টে তিনি লেখেন, জানুয়ারিতে এফবিআই থেকে সরে দাঁড়াবেন এবং এই সুযোগ দেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি ও এফবিআই ডিরেক্টর কাশ পটেলকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি দেশবাসীর উদ্দেশে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে লেখেন, “আপনারা আমাকে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন। ঈশ্বর আমেরিকা ও আমেরিকানদের মঙ্গল করুন।”
এই সংক্ষিপ্ত অথচ সৌজন্যমূলক বার্তার মধ্যেই অনেকের চোখে ধরা পড়েছে ইঙ্গিত। কারণ, পদত্যাগের প্রকৃত কারণ নিয়ে তিনি একটিও শব্দ খরচ করেননি। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে—এটি কি নিছক ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, না কি প্রশাসনের অন্দরেই কোনও মতানৈক্য বা অস্বস্তির ফল?
ড্যানের ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও। তাঁর বক্তব্যে বিষয়টিকে কিছুটা হালকা করে দেখানোর চেষ্টা রয়েছে। ট্রাম্প বলেন, ড্যান এফবিআই-তে ভালো কাজ করেছেন, তবে সম্ভবত তিনি নিজের জনপ্রিয় পডকাস্টে ফিরে যেতে চান বলেই পদত্যাগ করছেন। যদিও সমালোচকদের মতে, এই ব্যাখ্যা পুরো বিষয়টি ঢেকে রাখতে পারছে না।
এফবিআই-তে যোগ দেওয়ার আগে ড্যান বোঙ্গিনোর কর্মজীবন ছিল বেশ বৈচিত্র্যময়। তিনি নিউ ইয়র্ক পুলিশের অফিসার ছিলেন, কাজ করেছেন সিক্রেট সার্ভিসেও। তার পরেই রাজনীতির ময়দানে পরিচিত নাম হয়ে ওঠেন নিজের পডকাস্টের মাধ্যমে। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত ড্যান নিয়মিতভাবেই মূলধারার বাইরে থাকা নানা দাবি ও ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ তুলে ধরতেন। এমনকি ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগও তিনি প্রকাশ্যে তুলেছিলেন।
চলতি বছরের মার্চ মাসে এফবিআই-এর ডেপুটি ডিরেক্টর পদে তাঁর নিয়োগ ঘিরেই বিতর্ক শুরু হয়েছিল। কারণ, সাধারণত দীর্ঘদিন সংস্থার ভিতরে কাজ না করলে এই পদে আসা যায় না। প্রায় ১৪ হাজার বর্তমান ও প্রাক্তন এজেন্টের সংগঠন এফবিআই এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন প্রকাশ্যেই তাঁর নিয়োগের বিরোধিতা করেছিল। এর পাশাপাশি অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডির সঙ্গে ড্যানের সম্পর্ক নিয়েও বারবার গুঞ্জন শোনা গিয়েছে—সব কিছু ঠিকঠাক চলছিল না বলেই ইঙ্গিত মিলেছে বিভিন্ন সূত্রে।
এই প্রেক্ষাপটে ড্যান বোঙ্গিনোর ইস্তফা শুধু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং ট্রাম্প প্রশাসনের গোয়েন্দা ও আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অন্দরের টানাপোড়েনের প্রতিফলন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। জানুয়ারিতে তিনি সত্যিই পডকাস্টে ফিরবেন, নাকি এর নেপথ্যে আরও গভীর কোনও রাজনৈতিক বার্তা লুকিয়ে আছে—তা জানতে আপাতত অপেক্ষাই ভরসা।